সন্ধ্যা ৭:২৩;  শনিবার ;  ২৩ আগস্ট, ২০১৪ ইং;  ৮ ভাদ্র, ১৪২১ বঙ্গাব্দ

র‌্যাব নিয়ে নতুন ভাবনা দরকার

প্রকাশিত:

আপডেট: ৬:২৬ অপরাহ্ন, মে ১৫, ২০১৪

0

আনিস আলমগীর ।।

গত বছরের ৩১ জুলাই ফেইসবুকে র‌্যাব নিয়ে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম। র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-এর দ্বারা হত্যা-গুম এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে টাকার দাবি না মিটলে ক্রসফায়ারে দেওয়ার কথা বলেছিলাম সেখানে। কিন্তু র‌্যাবের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের পরও সেদিন স্ট্যাটাসে আশা করেছি- র‌্যাব যাতে একটি ‘ক্রস ফায়ার’-এর ঘটনা ঘটায়। কারণ ছিল সুস্পষ্ট। গুলশানে যুবলীগ নেতা মিল্কির হত্যাকারী কে—সেটা শপিং মলের সিসি ক্যামরায় দেখার পর গবেষণার দরকার ছিল না।

স্ট্যাটাসের শেষাংশে বলেছি, “আজ র‌্যাব যদি তাদের পুরাণো কাহিনীটি শোনাতো, মানে মিল্কির গ্রেফতারকৃত হত্যাকারীকে নিয়ে বাকী পলাতক আসামী ধরতে তারা একটি স্পটে গিয়েছে। সেখানে গেলে হত্যাকারীর সহযোগিরা র‌্যাবকে আক্রমন করে আসামী ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে… তারপর…ডট ডট। মনে হয় জাতি সেই গল্প বিশ্বাস করতে আজ প্রস্তুত। আমি অন্তত প্রথমবারের মতো র‌্যাবের এমন একটি গল্প বিশ্বাস করতে চাই। র‌্যাব একবার জাতির কাছে প্রমাণ করুক আইন শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য তারা কথিত সন্ত্রাসীদের ক্রসফায়ারে দেয়। প্রমাণিত সন্ত্রাসীদের, খুনিদের ক্রসফায়ারে দিতে তারা চিন্তা করে না। নিরীহ মানুষ মারে না, পঙ্গু করে না, সন্ত্রাসী বানায় না নিরীহ মানুষকে। র‌্যাব আসলে আমাদের কল্যাণেই বেআইনি কাজ করে।

আশ্চর্য এক ঘটনা ঘটেছিল সেদিন। এই স্ট্যাটাস দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে র‌্যাব মিল্কির হত্যাকারী তারেককে এই গল্প বলেই ক্রস ফায়ারে দেয়। কার কেমন লেগেছে জানি না- আমার খুব খারাপ লাগেনি। যাক, অন্তত হত্যাকারী হিসেবে প্রমাণিত একজনকে র‌্যাব হত্যা করেছে- এই ভেবে। কিন্তু তারেক গুলি চালাতে চালাতে ফোনে যার সঙ্গে কথা বলছিলো – সেই ব্যক্তি কে ছিল? র‌্যাব তা জানায়নি। আজ পর্যন্ত জাতি জানতে পারেনি। মিল্কির হত্যার পেছনের গড ফাদার কে- কেন তাকে হত্যা করা হয়েছে- বছর ঘুরে গেলেও সেসব প্রশ্নের জবাব মিলেনি। মিল্কির পরিবার মেনে নিতে পারেনি সম্প্রতি দায়ের করা পুলিশের চার্জশিটও।

মিল্কির প্রকৃত হত্যাকারীকে আড়াল করতে র‌্যাব নিজেই কি ভাড়াটিয়া হত্যাকারি তারেককে তড়িগড়ি করে হত্যা করেছে? এ প্রশ্ন এখন জনমনে উদ্বেগ হচ্ছে কারণ নারায়নগঞ্জে অতিসম্প্রতি একজন ভারপ্রাপ্ত মেয়র, একজন আইনজীবীসহ ৭ ব্যক্তিকে সুপরিকল্পিতভাবে গুম-হত্যার ঘটনায় সরাসরি র‌্যাবের কর্মকর্তারা জড়িত আছে অভিযোগ উঠেছে। আবার নিহত মেয়র নজরুলের শ্বশুর ইতিমধ্যে মিডিয়ার মাধ্যমে আহ্বান করেছেন, হত্যাকাণ্ডের আসামী নুর হোসেন চেয়ারম্যানকে যেন ক্রস ফায়ারে দেওয়া না হয়। তিনি তারও আগে ভয়াবহ অভিযোগ করে বলেছেন, ৬ কোটি টাকার বিনিময়ে স্থানীয় র‌্যাব কর্মকর্তারা তার জামাতাকে হত্যা করেছে।

র‌্যাবের বিরুদ্ধে যখন হত্যা এবং ভাড়ায় খাটার অভিযোগ নিয়ে তোলপাড় সারা দেশ তখন পুরনো এক গল্প শেয়ার করি পাঠকদের সঙ্গে। তখন বিএনপি তার শেষ দিনগুলো গুণছে। ২০০৬ সাল। ঢাকার এক তরুণকে রাজপথ থেকে তুলে নিয়ে যায় সাদা পোষাকের লোক। তাকে পরিচিত এক ব্যক্তি দিয়ে ফোনে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার সূত্রে আবিস্কৃত হয়েছিল এটা র‌্যাবের কাজ। কিন্তু র‌্যাবের অস্বীকার। কিংবা বলা যায় র‌্যাব কাউকে ধরে নিয়ে যেভাবে কোথায় রেখেছে হদিস পাওয়া যায় না- সে রকম পরিস্থিতি চলাকালে একরাতে তাকে নিয়ে তার বাসায় আসে কয়েকজন র‌্যাব সদস্য। খবর পেয়ে আমি ছুটে গেলাম। কারণ তরুণটি আমার পরিচিত। গিয়ে দেখি তরুণটি র‌্যাব সদস্যদের জেরায় বলছে, অস্ত্রটা এই ড্রয়ারে ছিল। আর র‌্যাব বার বার এটা সেটা বলে হুংকার দিচ্ছে। বাসায় স্বজনদের কান্নাকাটি, র‌্যাবের হুংকার- সবকিছুতে মনে হচ্ছিল কেয়ামত নেমে এসেছে। ছেলেটির মা আড়ালে ডেকে নিয়ে আমাকে বললেন, ৫ লাখ টাকা চাচ্ছে, নতুবা আজ রাতেই মেরে ফেলবে বলছে ওরা। আমি স্তম্ভিত। র‌্যাবের সম্পর্কে কি জানি আর কি শুনছি! আমি তরুণকে আড়ালে নেওয়ার সুযোগ পেলাম মুহূর্তের জন্য। ঘটনা কি- সে তো অস্ত্রধারী না- আবল তাবল কেন বকছে, জানতে চাইলাম। সে জানালো, তাকে বাসায় আনাই হয়েছে একটি অস্ত্র দিয়ে এবং এটাও বলতে বলছে অস্ত্রটা বাসার কোনও ড্রয়ারে ছিল। না বললে ক্রস ফায়ারে দিবে। তাই তাদের শেখানো কথাই বলছে সে। বিএনপির এক মন্ত্রীকে ফোন করে ধরিয়ে দিলাম এক র‌্যাব সদস্যকে। উনি জোরালোভাবে তাকে ছেড়ে দিতে বলেন। র‌্যাব সদস্যরা আমাকে বললো, তাকে নিয়ে যেতেই হবে অফিসিয়াল ফর্মালিটি পূরণ করতে। আমাদের কাউকে যেতেও দিলো না। পরদিন তাকে থানায় ফেলে গেলো। থানা থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। শরীরের একটি ইঞ্চি জায়গা নেই যেখানে আঘাতের চিহ্ন নেই।
হদিস করতে গিয়ে থানা থেকে জানা গিয়েছিল, এই তরুণকে সাজা দিতে ব্যবহৃত হয়েছিল হাওয়া ভবন। স্বয়ং স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবরকে সুপারিশ করে এ কাজ করা হয়েছিল। সুপারিশকারির সঙ্গেও আমার পরে কথা হয়েছে। তিনি আমার পরিচিত এটা জানতেন না বলে দূঃখ প্রকাশ করেন। র‌্যাব সদস্যরা তাদের ইচ্ছা পূরণ না হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে মোটর সাইকেল চুরি, অস্ত্রবহন জাতীয় ৬টি পুরানো মামলায়ও তাকে জড়িয়ে দিলো থানা পুলিশকে দিয়ে। পুলিশ একদিকে তাকে মামলা দিচ্ছে, অন্যদিকে বলছে তারা অসহায়। ওই ঘটনায় র‌্যাব সম্পর্কে অভিজ্ঞতা হয়েছে যে, সেখানে সেনা বাহিনীর সদস্য এবং পুলিশের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্ধ আছে। ভালো পুলিশ র‌্যাবে পোস্টিং নিতে চায় না। আরও টের পেলাম র‌্যাবের প্রধান ব্যক্তি পুলিশ কর্মকর্তা হলেও, সেনাবাহিনী থেকে পোস্টিং পাওয়া দ্বিতীয় কর্মকর্তাই আসলে র‌্যাবের অলিখিত প্রধান। যাইহোক, ওইসব মামলায় আজও হাজিরা দিয়ে যাচ্ছে সে তরুণ।

২০০৪ সালের ২৬ মার্চ জাতীয় স্বাধীনতা দিবস প্যারেডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে র‌্যাবের জনসাধারনের সামনে আত্মপ্রকাশ। প্রথম অপারেশনাল দায়িত্ব পায় ১৪ এপ্রিল ২০০৪ তারিখে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান-রমনা বটমুলে নিরাপত্তা বিধান করার জন্য। ২১ জুন ২০০৪ সাল থেকে র‌্যাব ফোর্সেস পূর্ণাঙ্গভাবে অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু করে। জন্ম থেকে গত ১০ বছর ধরে র‌্যাব নামের এই এলিট বাহিনীটির বিরুদ্ধে বিচার বহির্ভূত হত্যার মতো অভিযোগ ছিল। তাদের বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড অনেকটাই প্রকাশ্যই ছিল রাষ্ট্রের কাছে। সরকারের পাশাপাশি কিছু সাধারণ মানুষও তাদের এই বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড মেনে নিয়েছিল কারণ তারা বিশ্বাস করতো র‌্যাব আসলেই জনগণের বৃহত্তর কল্যাণেই বেআইনি কাজ করছে। যারা র‌্যাবের প্রত্যক্ষ হিংসার শিকার হয়নি, যাদের স্বজনকে র‌্যাব গুম করে দেয়নি, ক্রস ফায়ারে দেয়নি- অন্তত তারা এমনটিই ভাবতো। কিন্তু র‌্যাবের নারায়নগঞ্জ হত্যাকাণ্ডের পর এই বাহিনীর ওপর সেই সাধারণ মানুষের এই আস্থা অবশিষ্ট আছে কিনা একটি বড় প্রশ্ন হিসেবে দেখা দিচ্ছে। মনে হচ্ছে, র‌্যাবের ওপর আকাশ ছোঁয়া বিশ্বাস হঠাৎ করে মাটিতে নেমে এসেছে। সে সঙ্গে শুরু হয়েছে র‌্যাব রাখা না রাখার রাজনৈতিক বিতর্ক। বিরোধী বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, যার সরকার মূলত এই এলিট ফোর্স তৈরি করেছেন, ইতিমধ্যে র‌্যাব বিলুপ্তির দাবি করেছেন কয়েক বার।

আবার বিলুপ্ত না করলেও র‌্যাবকে সংস্কারের দাবি উঠেছে বেশির ভাগ সব মহল থেকে। তাদের যুক্তি ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ সালের বিডিআর হত্যাকাণ্ড যেমন একটি বাহিনীর নাম পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল, তেমনি র‌্যাবেরও নাম পরিবর্তন বা আমূল একটি সংস্কার দরকার। কারণ নারায়নগঞ্জের ঘটনার পর র‌্যাব বলতে এখন আর জনগণকে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষাকারি কোনও বাহিনীকে বুঝাবে না, বুঝাবে টাকার বিনিময়ে ভাড়া খাটা একটি বাহিনী, যতই সেটা এখন পর্যন্ত প্রমাণিত না হোক। তিল তিল করে এতোদিনে অর্জণ করা র‌্যাবের সুনামের কাজগুলো মানুষ সহজে ভুলে যাবে। মানুষ এটাও ভুলে যাবে দেশ থেকে জঙ্গী নির্মূলে যে বাহিনীটি সবচেয়ে সাহসী, উজ্জ্বল ভূমিকা রেখেছে সেটা র‌্যাবই। এদেশের স্বাধীনতায় উজ্জ্বল ত্যাগ স্বীকার করা পুলিশ বাহিনী ২০১১ সালে স্বাধীণতা পুরষ্কার পেয়েছে কিন্তু জন্মের দুই বছরের মাথায় ২০০৬ সালে র‌্যাব জনসেবায় অবদানের জন্য স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছিল। আর আজ বাস্তবতা হচ্ছে যারা তাদের সৃষ্টি করেছিল, যারা তাদের স্বাধীণতা পুরষ্কার দিয়েছিল- সেই বিএনপি আজ র‌্যাবের বিলুপ্তি চাচ্ছে।

শুধু নারায়নগঞ্জ দিয়ে র‌্যাব খারাপ খবরের শিরোনাম হয়েছে এটাও ঠিক বলা যাবে না। বরং আমরা বলতে পারি- এর আগে র‌্যাবের বিরুদ্ধে ওঠা কিছু অনৈতিক এবং লাগামহীন কর্মকাণ্ড নিয়ে সরকার প্রশ্ন না তোলায় নারায়নগঞ্জের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। লিমনের মতো একটি নিরীহ ছেলেকে যখন তারা পঙ্গু করে দিলে রাষ্ট্র র‌্যাবের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল। চট্টগ্রামে ২০১১ সালে যখন একজন র‌্যাবের সদস্য মাজারের ২ কোটি টাকা লুট করলো- রাষ্ট্র কঠোর হয়নি। র‌্যাব অনেক সময় কাউকে লাপাত্তা করে রেখে ২/৪ দিন পর অদ্ভূত সব মামলার আসামী হিসেবে মিডিয়ার সামনে এনে সার্কাস করেছে (অতি সম্প্রতি জেএমবির সস্ত্রাসী ছিনতাইতেও হাজির করা হয়েছে এমন কিছু লোককে)। কেউ তাদের দিকে আঙ্গুল তোলেনি। র‌্যাব যখন দিনের পর দির ক্রস ফায়ারের বানানো গল্প বলে যেতো- মিডিয়া জোরালো প্রশ্ন তোলেনি। রাষ্ট্র হত্যায় সম্মতি দিয়েছে।

অতি সম্প্রতি ব্রিটেনের পার্লামেন্ট র‌্যাবের বিরুদ্ধে কথা বলেছে, আমেরিকা র‌্যাব নিষিদ্ধ করতে বলেছে, হিউম্যান রাইটস র‌্যাবের কঠোর সমালোচনা করে সংশোধনের কথা বলেছে। আমরা এসবকে পাত্তা দেইনি। দিতে হবে তার কোনও জোরালো কারণও ছিল না। কারণ যারা সেসব চবক দিচ্ছিলো আমরা তাদের চরিত্রও দেখে আসছি। যুক্তরাষ্ট্র পানামার রাষ্ট্রপতি নরিয়েগাকে পানামা থেকে তুলে নিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগদান ছাড়া তাদের দেশে নিয়ে বিচার করেছে। নরিয়েগা এখনো যুক্তরাষ্ট্রে বন্দি অবস্থায় আছে। যখন একটা স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতিকে অন্য একটা রাষ্ট্র তুলে নিয়ে গেলে মানবাধিকার ক্ষুন্ন হয় না, ইরাকের নিরীহ জনগণকে হত্যা করলে যখন মানবাধিকার লঙ্ঘন হয় না, সন্ত্রাস দমনের নামে আফগানিস্তান, নিকারাগুয়ায় আক্রমণ চালিয়ে অগণিত মানুষ হত্যা করা যায়, পাকিস্তানে ড্রোন হামলা করে শত শত শিশু মারা হয় – তখন মানবাধিকারের পক্ষে বলা যুক্তরাষ্ট্রের কথা গুরুত্বহীনও হয়ে পড়ে বিশ্বের কাছে, আমাদের কাছে।

র‌্যাবের জন্ম প্রেক্ষাপট আর আজকের অবস্থান বিশ্লেষণ করে অনেকে মনে করছেন বিশেষ শক্তিধর বাহিনী হিসেবে র‌্যাব সরকারের দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে আসছে। জন্মের পর র‌্যাব তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাবরের নিজস্ব বাহিনী মতো কাজ করেছে। বাবরের ইচ্ছায় বিএনপিসহ নানা দলের, মতের অনেক লোককে বিনা বিচারে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ আছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠেছে সত্যিকারের সন্ত্রাসী যেমন তারা মেরেছে তেমনি টাকা না ফেলে অনেককে তারা ক্রস ফায়ারে দিয়েছে। র‌্যাবে হয়তো জবাবদিহিতা আছে কিন্তু জবাবদিহিতা যে আছে সেটা জনগণের কাছে পরিষ্কার নয় এখনও। কারণ সে রকম দৃষ্টান্তমূলক সাজা কোনও র‌্যাব সদস্য পেয়েছেন সেটা প্রকাশ পায়নি। র‌্যাবের জন্মের আগে চট্টগ্রামে জামাল উদ্দিনকে দিয়ে সারা দেশে অপহরণ বাণিজ্য খুলেছিল বিএনপির সন্ত্রাসীরা। বিএনপি র‌্যাব বানিয়ে কঠিন হাতে তা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নিয়ে এসেছিল। কিন্তু তারপরেই অভিযোগ আসা শুরু হলো যে, বাণিজ্যে র‌্যাবও জড়িয়ে পড়েছে। পরিবর্তন এটুকুই যে র‌্যাব যাদের ধরেছে তাদের মধ্যে প্রকৃত সস্ত্রাসীও ছিল। আর বিএনপির অপহরণ বাণিজ্যকারিরা সন্ত্রাসীদের নয়, নিরিহ লোককে, ব্যবসায়ীদের অপহরণ করে বাণিজ্য চালিয়েছে। সন্ত্রাসীরা কাউকে অপহরনের পর ফোন করতো, র‌্যাব উঠিয়ে নিলে অনেক ক্ষেত্রে তার কোনও হদিস পাওয়া যায় না। আজও সেই সংস্কৃতি চলছে। কেন একজনকে তারা ধরে নিয়ে যাচ্ছে সে প্রশ্ন রাখার কোনও অবকাশ, অধিকার র‌্যাব জনগণকে এখনও দেয়নি।

ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য বিএনপি র‌্যাবকে যে হারে ব্যবহার করেছে আওয়ামী লীগ তাদের বিগত আমলে সেভাবে এ বাহিনীকে ব্যবহার করেছে বলে চোখে পড়েনি। তবে চলতি বছরের গোড়ায় অদ্ভূত নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর র‌্যাব যে সরকারকে ব্যবহার করছে সেটাতো নারায়নগঞ্জ দিয়ে প্রকাশ হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যে অনেক মানুষ গুম হয়েছে, অপহৃত হয়েছে অভিযোগ উঠেছিল। সরকার এটার দিকে যথাযত নজর দেয়নি। তাই র‌্যাবের বিরুদ্ধে আজ যত অভিযোগ তার একটা বিহিত ব্যবস্থা করা জনস্বার্থে নয়, সরকারের টিকে থাকার স্বার্থে জরুরী হয়ে পড়েছে।

লেখক: সাংবাদিক ও শিক্ষক

anisalamgir@gmail.com

Comments

comments

শেয়ার করুন

Leave A Reply