‘কালো’ টাকার সুযোগ বহাল, তবুও খুশি নয় রিহ্যাব

Send
ওমর ফারুক
প্রকাশিত : ০৪:৫০, জুন ০৪, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:২১, জুন ০৪, ২০১৬

কালো টাকাআবাসন খাতে ‘কালো’টাকা বা ‘অপ্রদর্শিত’অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ বহাল আছে প্রায় নয় বছর। এবারের প্রস্তাবিত বাজেটেও তা বহাল রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের বাইরে আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন এবং দেশের যে কোনও স্থানে ছোট আবাসন প্রকল্পের জন্য হ্রাসকৃত উৎসে করের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এতেও খুশি নন আবাসন ব্যবসায়ীরা।
আবাসন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) বলেছে, বাজেট পেশের আগে রিহ্যাবের পক্ষ থেকে ১৩ দফা দাবি জানানো হয়েছিল অর্থমন্ত্রীর কাছে। কিন্তু একটা দাবিও মানা হয়নি। এর ফলে আবাসন খাত মুখ থুবড়ে পড়তে পারে।
জানা গেছে, এবার বাজেট পেশের আগে রিহ্যাবের প্রধান দাবি ছিল ৫-১০ বছরের জন্য অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া। অর্থাৎ রিহ্যাব চাইছে, সাধারণ ক্রেতারা যখন প্রথমবার ফ্ল্যাট কিনবেন তখন তাদের অর্থের উৎস সরকার জানতে চাইতে পারবে না। বিনা শর্তে মালিকরা তাদের অপ্রদর্শিত অর্থ ফ্ল্যাটে বিনিয়োগ করতে পারবেন। এই সুযোগটি পেতে রিহ্যাব আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪- এর একটি ধারার সংশোধন চেয়েছিল।
 আরও পড়তে পারেন: থাইল্যান্ডে রফতানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে দূতাবাস
অপ্রদর্শিত অর্থ বিনা শর্তে বিনিয়োগের সুযোগ পাওয়ার যুক্তি হিসেবে রিহ্যাব বলেছে, এই সুযোগ না দেওয়া হলে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশ পাচার হয়ে যাবে। এ ছাড়া বর্তমানে বিভিন্ন দেশে ‘সেকেন্ড হোম’ গ্রহণের সুযোগ থাকায় দেশের অর্থ বিদেশ চলে যাচ্ছে। তাই অপ্রদর্শিত অর্থ দেশে বিনিয়োগের সুযোগ করে দিলে ভবিষ্যতে ওইসব বিনিয়োগকারী ট্যাক্স নেটের আওতায় চলে আসবে এবং এতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে। 

এ ছাড়া রিহ্যাবের অপর দাবিগুলোর মধ্যে ছিল গেইন ট্যাক্স ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশে নামিয়ে আনা, রেজিস্ট্রেশন সংশ্লিষ্ট কর ও ফি ৭ শতাংশ নির্ধারণ, ফ্ল্যাটের প্রতি বর্গমিটারের জন্য আয়কর কমিয়ে আনা, আবাসন শিল্পের জন্য বিদ্যমান মূল্য সংযোজন কর কমানোসহ নতুন করে এটা আরোপ না করা, আয়কর অধ্যাদেশের ৫৩ এইচ ধারায় আরোপিত কর প্রত্যাহার, দশ বছরের জন্য ট্যাক্স হলিডের সুযোগ ইত্যাদি। 

জানা গেছে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেটে আয়কর অধ্যাদেশের ‘১৯ বিবিবিবিবি’ নামে একটি নতুন ধারা সংযোজন করে ফ্ল্যাট কিনে কালো টাকা সাদা করার মেয়াদবিহীন সুযোগ দেওয়া হয়। অর্থাৎ সরকার বাতিল না করা পর্যন্ত এ ধারাটি অব্যাহত থাকবে। বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় যেহেতু এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি, সেহেতু ধারাটি বহাল আছে বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে। এ ধারা অনুযায়ী সিটি করপোরেশন, জেলা শহর, পৌর শহরসহ এলাকাভেদে বর্গমিটারপ্রতি নির্দিষ্ট পরিমাণ কর দিয়ে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ রয়েছে। 

অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ বহাল থাকার পরও রিহ্যাব কেন খুশি হতে পারছে না, জানতে চাইলে সংগঠনের প্রথম সহসভাপতি লিয়াকত আলী ভূইয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গত কয়েক বছর ধরে এই সুযোগ চালু থাকলেও আবাসন ব্যবসায়ীরা সামান্য সুবিধা পাননি। কারণ দশ শতাংশ ট্যাক্স দিয়ে আবাসনে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ করার সঙ্গে সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন এবং রাজস্ব বোর্ড হুমড়ি খেয়ে পড়ে ওইসব বিনিয়োগকারী ওপর। তাই ভয়ে কেউ আর এ সুযোগ নিতে চাইছে না। আর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে আবাসন খাতে। তিনি বলেন, আবাসন খাত বাঁচাতেই আমরা নিঃশর্তভাবে অপ্রদর্শিত অর্থের বিনিয়োগ করার সুযোগ চাইছি। ২০০৭ সাল পর্যন্ত বিনা প্রশ্নে অপ্রদর্শিত অর্থ ফ্ল্যাটে বিনিয়োগ করা যেত। এ নিয়ে সরকার কোনও প্রশ্ন করত না।

আরও পড়তে পারেন: দশ মেগা প্রজেক্টে বিশাল পরিকল্পনা
এদিকে বাজেট পেশের পরপরই রিহ্যাব থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাজেটে আবাসন ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবনার প্রতিফলন পাওয়া যায়নি। বাজেটে আবাসন খাতে প্রস্তাবিত আয়করের পরিমাণ পরিবর্তনের ফলে মধ্যবিত্ত এবং নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের মৌলিক অধিকার বাসস্থানের জন্য ব্যয় বেড়ে যাবে। ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ২ কোটি মানুষের আয়ের এ খাতটি আরও মুখ থুবড়ে পড়তে পারে। আর আবাসন খাতের এই সংকট ২৬৯টি লিংকেজ শিল্পকে আরও সংকটে ফেলবে।

 

ওএফ/এমএসএম/এজে

লাইভ

টপ