সীমান্ত এলাকার মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করবে ‘সীমান্ত ব্যাংক’

জামাল উদ্দিন
১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ০৭:৪৫আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১৬:০৬

সীমান্ত ব্যাংক বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) পরিচালিত ‘সীমান্ত ব্যাংক’ সীমান্ত এলাকার বিপথগামী ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন বাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তা।

বর্তমানে ব্যাংকটির সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করছেন বিজিবি’র অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসা) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তৌফিকুল হাসান সিদ্দিকী। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পাঁচ বছরের বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে তারা ব্যাংকটি শুরু করেছেন। এ ব্যাংক সীমান্ত এলাকার বিপথগামী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করবে। বিশেষ করে ‘আলোকিত সীমান্ত’ ও ‘সমৃদ্ধির পথে সীমান্ত’ কর্মসূচির মতো জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে সীমান্তের বিপথগামী মানুষদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে এবং সীমান্ত এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সহায়তা দেওয়া যাবে।’

বিজিবি’র অতিরিক্ত মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘ঈদের পরেই প্রিন্সিপাল শাখা ছাড়াও প্রাথমিকভাবে দেশের কয়েকটি স্থানে ছয়টি শাখার কার্যক্রম শুরু করা হবে। আগামী বছর খোলা হবে আরও ২০টি শাখা। পর্যায়ক্রমে ব্যাংকের পরিধি বাড়ানো হবে।’

বিজিবি’র জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহম্মদ মোহসিন রেজা জানান, ‘ব্যাংকের আয় থেকে বিজিবি সদস্যদের সহজ শর্তে বিভিন্ন প্রকার ঋণ প্রদান, ডিপোজিট পেনশন স্কিম, গৃহ নির্মাণ ঋণ, দুরারোগ্য রোগের জন্য দেশি ও বিদেশি চিকিৎসা সহায়তা, কৃষি ঋণ এবং একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পে অর্থায়ন করা হবে। এছাড়া সীমান্তে বসবাসকারী জনসাধারণের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও কাজ করবে এই ব্যাংক।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিজিবি’র মুক্তিযোদ্ধা সদস্য, কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত সদস্য এবং তাদের পরিবারের কল্যাণে ব্যয় হবে ব্যাংকটির আয়। ঋণের ক্ষেত্রেও তারা বিশেষ সুবিধা পাবেন। থাকবে পেনশন স্কিম, গৃহ নির্মাণ ঋণ ও চিকিৎসা সহায়তা। সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। ব্যাংকে চাকরির ক্ষেত্রে বিজিবির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যরা অগ্রাধিকার পাবেন।’

সূত্র জানায়, গত ১ সেপ্টেম্বর প্রথম অ্যাকাউন্ট খুলে তফসিলি ব্যাংক হিসেবে এ ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালনার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বেসরকারি ব্যাংকের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাই গ্রাহকদের দেওয়া হবে। ব্যাংকটির অনুমোদিত মূল্যধন ৪০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন একশ কোটি টাকা। সীমান্ত ব্যাংক লিমিটেডকে তফসিলি ব্যাংক হিসেবে গত ১০ আগস্ট গেজেট প্রকাশ করে সরকার। সেনাবাহিনী পরিচালিত ট্রাস্ট ব্যাংকের আদলে পরিচালিত সীমান্ত ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে পদাধিকারবলে দায়িত্ব পালন করবেন বিজিবি’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ।

২০১৪ সালের ২০ ডিসেম্বর বিজিবি দিবসে পিলখানায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ব্যাংক স্থাপনের জন্য আবেদন জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে সম্মতি দেন। গত বছরের ২০ ডিসেম্বর  ‘সীমান্ত ব্যাংক’-এর লোগো উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানেই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ব্যাংক স্থাপনের নিমিত্তে লেটার অব ইনটেন্ট হস্তান্তর করেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ‘সীমান্ত ব্যাংক’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে বিশিষ্ট ব্যাংকার মোখলেসুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। গত ২১ জুলাই সীমান্ত ব্যাংকের চূড়ান্ত লাইসেন্স দেয়  বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যাংকটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

/এসএনএইচ/এমএনএইচ/

 

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মধ্যপ্রাচ্যের তিন যুদ্ধবিরতিকেই কেন যুদ্ধ মনে হচ্ছে
মধ্যপ্রাচ্যের তিন যুদ্ধবিরতিকেই কেন যুদ্ধ মনে হচ্ছে
কর্মসংস্থান রক্ষায় ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল আনলো বাংলাদেশ ব্যাংক
কর্মসংস্থান রক্ষায় ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল আনলো বাংলাদেশ ব্যাংক
মহাকাশ কম্পিউটিংয়ের প্রথম উদ্ভাবন কেন্দ্রের অনুমোদন চীনের
মহাকাশ কম্পিউটিংয়ের প্রথম উদ্ভাবন কেন্দ্রের অনুমোদন চীনের
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রাঘাতে ৬ জনের মৃত্যু, ৪ জনই গিয়েছিলেন আম কুড়াতে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রাঘাতে ৬ জনের মৃত্যু, ৪ জনই গিয়েছিলেন আম কুড়াতে
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী