‘অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণেই বিনিয়োগ বাড়ছে না’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট১৯:৪৭, এপ্রিল ২০, ২০১৭

 

রোড টুদেশে বিনিয়োগের অবস্থা সন্তোষজনক না হওয়ার পেছনে অবকাঠামো দুর্বলতাই বড় কারণ বলে মনে করেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আবুল কাশেম খান। তিনি বলেন, ‘জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে ৮ শতাংশ উন্নীত করতে হলে অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশেই অবকাঠামোতে দুর্বলতার কারণে বিনিয়োগ বাড়ছে না।’ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার মিলনায়তনে ‘রোড টু ২০৩০: অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কৌশল নির্ধারণ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় মূল প্রবন্ধে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) ও ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) যৌথভাবে গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, ‘অবকাঠামোতে বিনিয়োগ জিডিপির মাত্র ২ দশমিক ৮৫ শতাংশ। অথচ বিনিয়োগ প্রয়োজন জিডিপির ৬ থেকে ৮ শতাংশ। বর্তমানে যেসব অবকাঠামো আছে তা অপর্যাপ্ত, নিম্নমানের, পুরনো ও অপরিকল্পিত। এখন টেকসই উন্নয়নের জন্য পরিকল্পিত বিনিয়োগ জরুরি।’  তিনি আরও বলেন, ‘জ্বালানির অপ্রতুলতাও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরেকটি বড় বাধা। আমদানি কয়লার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের নীতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এতে শিল্পের উৎপাদন খরচ বাড়বে। ফলে ব্যবসার প্রতিযোগী সক্ষমতা কমবে। তাই নতুন গ্যাস কূপ খনন ও নিজস্ব কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নজর দিতে হবে। পাশাপাশি করপোরেট ট্যাক্স কমিয়ে ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের সুযোগ দিতে হবে। এতে বেসরকারি খাত বিনিয়োগে উৎসাহিত হবে ও কর্মসংস্থান বাড়বে।’

অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, ‘বিনিয়োগ আকর্ষণে অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যা আছে। তবে পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেক ভালো। সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়ী বা বেসরকারি খাতের যোগাযোগ চমৎকার।’ আগের তুলনায় বর্তমানে সরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবার মান অনেক বেড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সিপিডির ফেলো মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের সহায়তা দিতে ওয়ান স্টপ সেল চালু করা হচ্ছে। এ সেল থেকে ২৬০টি সেবা দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে ১টি সেবা দিতে বিলম্ব হলে পুরো চেইন ভেঙে পড়বে। এ জন্য আগে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। যেন সব সেবা একবারে দেওয়া যায়।’

অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী,  ইংরেজি দৈনিক দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন, ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম, ইআরএফ সভাপতি সাইফ ইসলাম দিলাল, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান প্রমুখ।

বৈঠকে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন ডিসিসিআই সাবেক সভাপতি মতিউর রহমান, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরী, এএফপির ব্যুরো চিফ শফিকুল আলম, ডেইলি স্টারের বিজনেস এডিটর সাজ্জাদুর রহমান, মানবকণ্ঠের বিজনেস এডিটর সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, নিউজ টুডের সিটি এডিটর বাদিউল আলম, ডিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি কামরুল ইসলাম প্রমুখ।

 জিএম/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ