‘উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ: সময় এখন আমাদের’

Send
শফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত : ১৫:২৬, জুন ০১, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৪৬, জুন ০১, ২০১৭

বাজেট উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রীজাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার জাতীয় বাজেট উত্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বাজেটের এ পরিমাণ মোট জিডিপির ১৮ শতাংশ। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)’র পরিমাণ ১ লাখ ৫৩ হাজার কোটি টাকা। এবারের বাজেটে রাজস্ব আহরণের জন্য লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৯৯১ কোটি টাকা। যা মোট জিডিপির ১৩ শতাংশ। এরমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর খাতে আসবে ২ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা। এনবিআর বহির্ভূত আয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৬ ২২ কোটি টাকা। কর ছাড়া আয় ধরা হয়েছে ৩১ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা। ‘উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ: সময় এখন আমাদের’ শিরোনামে এটি হচ্ছে বর্তমান সরকারের শেষ  ২০১৭-১৮ অর্থবছরের পূর্ণাঙ্গ বাজেট। 

এবারের বাজেটে ঘাটতি রয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ৫ শতাংশ। ঘাটতি মেটাতে বৈদেশিক সহায়তা বাবদ পাওয়া যাবে ৫১ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ২ দশমিক ৩ শতাংশ। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সংগ্রহ করা হবে ৬০ ৩৫২ কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ২ দশমিক ৭ শতাংশ। ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ব্যবস্থাপনা থেকে নেওয়া হবে ২৮ হাজার ২০৩ কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ১ দশমিক ৩ শতাংশ।

২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। এবং এ বছর শেষে মূল্যস্ফীতি হার ৫ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসার প্রত্যাশা করা হয়েছে। সুদের হার ক্রমহ্রাসমান ধারায় ও নমিনাল বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকবে বলেও আশা করা হয়েছে।

বাজেটে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে মানবসম্পদ উন্নয়নকে।এ খাতে মোট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৪৪ হাজার ২৯ কোটি টাকা।এর পরেই রয়েছে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো খাত। এ খাতে আগামী অর্থবছরের জন্য বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ২০ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা।

বেলা দেড়টার দিকে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এর আগে সাদা পজামা, ক্রিম কালারের পাঞ্জাবি ও তার ওপরে মুজিব কোট পরে প্রথা অনুযায়ী বাজেট ডক্যুমেন্টস পরিবহনের জন্য কালো রংয়ের ব্রিফকেস হাতে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে  সংসদ অধিবেধন কক্ষে প্রবেশ করেন অর্থমন্ত্রী। এ সময় উপস্থিত সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে তাদের অভিনন্দন জানান।

এর আগে সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর প্রস্তাবিত বাজেট সংসদে উপস্থাপনের জন্য সম্মতি স্বাক্ষর করেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

প্রস্তাবিত বাজেটটি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের টানা চতুর্থ বাজেট। ‘উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ: সময় এখন আমাদের’ শিরোনামে এটি হচ্ছে বর্তমান সরকারের শেষ  ২০১৭-১৮ অর্থবছরের পূর্ণাঙ্গ বাজেট। জনসাধারণের ওপর নানা উপায়ে নতুন কর ও ভ্যাট আরোপ করেই তৈরি করা হয়েছে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট।

জানা গেছে, সামনের বছর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে এবার পরিধি বাড়ানো হয়েছে সামাজিক বলয়ের। একইসঙ্গে বাড়ানো হয়েছে এ খাতের বরাদ্দ।

শেখ হাসিনা সরকারের টানা দ্বিতীয় মেয়াদের চতুর্থ বাজেট হলেও এটি হবে অর্থমন্ত্রীর টানা নবম বাজেট। এর আগে আবুল মাল আবদুল মুহিত এরশাদ সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে ১৯৮২-৮৩ ও ১৯৮৩-৮৪ অর্থবছরের জন্য দুইবার জাতীয় বাজেট পেশ করেছিলেন।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট করা হয়েছে জিডিপির ১৮ শতাংশ হারে। বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ৫ শতাংশ। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নতুন বাজেটে সরকারের নানা চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ থাকছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন।

সদ্যসমাপ্ত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭ দশমিক ২ শতাংশ। এ বছর তা বাড়িয়ে ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ, যা সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্ধারিত রয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে বিএনপি সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে সাইফুর রহমান ব্যক্তিগত ১২টি বাজেট উত্থাপন করে শীর্ষে থাকলেও তিনি টানা পাঁচবারের বেশি বাজেট দিতে পারেননি। তবে অর্থমন্ত্রী মুহিতের এবারের ঘোষিত বাজেট হবে টানা নবম বাজেট। আর এর মাধ্যমে তার উত্থাপিত মোট বাজেটের সংখ্যা হবে ১১টি।

এদিকে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে,  প্রতিবারের ন্যায় এবারও ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্থাৎ পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে বাজেট উপস্থাপন করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা, বাজেটের সংক্ষিপ্তসার, বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি, সম্পূরক আর্থিক বিবৃতি, মধ্যমেয়াদী সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতি, বিকশিত শিশু: সমৃদ্ধ বাংলাদেশ, ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে অগ্রযাত্রা: হালচিত্র ২০১৭, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা, জেন্ডার বাজেট প্রতিবেদন, সংযুক্ত তহবিল-প্রাপ্তি, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৭, মঞ্জুরি ও বরাদ্দের দাবি (অনুন্নয়ন ও উন্নয়ন), বিস্তারিত বাজেট (উন্নয়ন), মধ্যমেয়াদী বাজেট কাঠামো এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটের সংক্ষিপ্তসার ওয়েবসাইটে প্রকাশসহ জাতীয় সংসদ থেকে সরবরাহ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ প্রণীত ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসগুলোর কার্যাবলী (২০১৬-১৭) জাতীয় সংসদে পেশ করা হবে।

বাজেটকে আরও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইটে বাজেটের সব তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল যে কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পাঠ ও ডাউনলোড করতে পারবেন। দেশ বা দেশের বাইরে থেকে এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফিডব্যাক ফরম পূরণ করে বাজেট সম্পর্কে মতামত ও সুপারিশ পাঠানো যাবে। প্রাপ্ত সব মতামত ও সুপারিশ বিবেচনা করা হবে। জাতীয় সংসদে বাজেট অনুমোদনের সময়ে ও পরে তা কার্যকর করা হবে।

আগামীকাল শুক্রবার (২ জুন) বিকাল ৩টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেটোত্তর সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

/এসআই/  এপিএইচ/

লাইভ

টপ