ভ্যাট ১৫ শতাংশই, বাড়ছে অব্যাহতির আওতা

Send
গোলাম মওলা
প্রকাশিত : ১৫:৪৮, জুন ০১, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৫২, জুন ০১, ২০১৭

বাজেট উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ১৫ শতাংশ হারেই ভ্যাট হার রাখার প্রস্তাব করেছেন। তবে এবার বাড়ছে অব্যাহতির আওতা। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘মূল্য সংযোজন কর বর্তমানে এক ও অভিন্ন হারে প্রয়োগ করা হবে। এটি হবে ১৫ শতাংশ। এই হার আগামী ৩ বছর অপরিবর্তিত থাকবে।’

ভ্যাট অব্যাহতির সীমা ৩০ লাখ টাকার পরিবর্তে ৩৬ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করেছে অর্থমন্ত্রী। এছাড়া  টার্নওভার করের সীমা ৮০ লাখ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে দেড় কোটি টাকা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের মাসিক টার্নওভারের পরিমাণ গড়ে সাড়ে ১২ লাখ টাকার কম তারা ৪ শতাংশ হারে ভ্যাট পরিশোধের সুযোগ পাবেন। নতুন মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন-২০১২ এর সফল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ব্যবসায়ীদের সুপারিশ অনুযায়ী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বার্থে ভ্যাট অব্যাহতির সীমা ৩০ লাখ টাকার পরিবর্তে ৩৬ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করছি। ১৯৯১ সালের আইনে এ ধরনের কোনও সুযোগ ব্যবসায়ীরা পেতো না।

ভ্যাট অব্যাহতি পাওয়া আগের ‘এইচএস কোড’ ভুক্ত ৫৩৬ পণ্য ও সেবার পরিবর্তে ১ হাজার ৪৩টি পণ্য ও সেবাকে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করেন। চাল, ডাল, মুড়ি, চিড়া, চিনিসহ ৫৪৯টি পণ্যের ওপর থেকে ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব করেন। এছাড়া ৯৩ ধরনের জীবন রক্ষাকারী ওষুধের ওপর ও গণপরিবহন সেবা, জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ওপরও ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব করেন। কৃষি গবাদি পশু ও মৎস চাষ খাত সংশ্লিষ্ট ৪০৪টি ক্ষেত্রে এবং দাতব্য  প্রতিষ্ঠানের অবাণিজ্যিক কার্যক্রম, অলাভজনক সাংস্কৃতিক সেবার ক্ষেত্রেও ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘প্রস্তাবিত ব্যবস্থার ফলে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অনেকাংশে কিছুটা কমবে। কোনও অবস্থাতেই কোনও পণ্য মূল্য বৃদ্ধি পাবে না।’

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে ভ্যাট আইন কার্যকর করার কথা থাকলেও ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে এক বছর পিছিয়ে দেয় সরকার। ব্যবসায়ীরা শুরু থেকেই ১৫ শতাংশ ভ্যাটে আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন। অর্থমন্ত্রী ১৫ শতাংশে অনড় থাকার কথা জানিয়ে আসছিলেন দীর্ঘদিন। তবে ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে অর্থমন্ত্রী তার অবস্থান থেকে খানিকটা সরে আসলেও বাজেটের আগ মুহূর্তে তিনি ভ্যাট হার ১৫ শতাংশেই অনড় থাকেন।

যদিও দেশের ব্যবসায়ীরা ভ্যাট হার ১০ শতাংশের পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট কিছু খাতে অন্যান্য দেশের মতো ভ্যাটের হারে বহুস্তর রাখার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

এদিকে বছর জুড়ে আলোচনা-তর্ক- বিতর্কের পর ভ্যাট হার ১২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের শীর্ষ পর্যায় থেকে বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জাতীয় সংসদের এই বাজেটের বিষয়টি তুলে ধরবেন।

এদিকে, ভ্যাট হার ১২ শতাংশে নামানো উচিত বলে মন্তব্য করেছেন সিপিডির গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, একবারে না হলেও ধাপে ধাপে ভ্যাট কমিয়ে আনা যেতে পারে। নতুবা এই নতুন ভ্যাট আইন উৎপাদক ও ভোক্তার ওপর চাপ বাড়াবে।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মজিদও মনে করেন, নতুন আইন কার্যকর হলে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে। চাপ বাড়বে ভোক্তার ওপর। 

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভ্যাট হার ১৫ শতাংশ হলে ব্যবসায়ীদের সমস্যা হওয়ার কথা নয়। ব্যবসায়ীদের উচিত হবে, তারা যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য করসেবা বৃদ্ধির জন্য এনবিআরের কাছে নিশ্চয়তা চাওয়া।’

প্রসঙ্গত, আগামী ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা।

/এসটি/

আরও পড়ুন:

বাড়ছে না করমুক্ত আয়সীমা

 

বাজেটে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৪ শতাংশ

 

বাজেটে ঘাটতি এক লাখ ১২ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা

বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ

 

লাইভ

টপ