দাম বাড়তে পারে যেসব পণ্যের

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৬:৩৪, জুন ০১, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৫৬, জুন ০১, ২০১৭

দাম বাড়ছে যেসব পণ্যেরঅর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের যে বাজেট প্রস্তাব করেছেন তাতে কয়েকটি পণ্যের শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও রেগুলেটরি ডিউটি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে ও আমদানির ক্ষেত্রে এগুলো বাড়বে। এর ফলে ভোক্তা পর্যায়ে কিছু পণ্যের দাম বাড়তে পারে।
যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে তার মধ্যে রয়েছে গুড়া দুধ, মাখন, শুকনা আঙুর, যেকোনও ধরনের তাজা ফল, গোল মরিচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, এলাচ, জিরা, চকলেট, শিশু খাদ্য, পটেটো চিপস, সস, আইসক্রিম, লবণ, জ্বালানি তৈল, পেইন্ট, ভার্নিশ, সৌন্দর্য অথবা প্রসাধনী সামগ্রী, শেইভিং কিটস, শরীরের দুর্গন্ধ দূরীকরণে ব্যবহৃত সামগ্রী, টয়লেট সামগ্রী, রুম সুগন্ধি, সাবান, ডিটারজেন্ট, মশার কয়েল, অ্যারোসল ও মশার মারার সামগ্রী, প্লাস্টিক পণ্য, প্লাস্টিকের দরজা, জানালা, ফ্রেম, মোটর গাড়ির টায়ার, বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ, ওভেন ফ্রেবিক্স, কার্পেট ও অন্যান্য টেক্সটাইল ফ্লোর আচ্ছাদন।

এছাড়া শিশুদের গার্মেন্টস পণ্য, বিদেশি জুতা, ইমিটেশন জুয়েলারি, স্টেইলনেস স্টিলের সিঙ্ক, ওয়াস বেসিনের যন্ত্রাংশ, ওয়াটার ট্যাপ, বাথরুমের ফিটিংস, স্টেইনলেস স্টিল বেলট, দুই ও চার স্ট্রোক বিশিষ্ট অটোরিকশা/থ্রি হুইলার ইঞ্জিন, সিলিং ফ্যান ও এর যন্ত্রাংশ, রঙিন টেলিভিশন, সিম কার্ড, সিসি ভেদে গাড়ি ইত্যাদি।

স্থানীয় বা সরবরাহ পর্যায়ে সম্পূরক শুল্কারোপের ফলে যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে তার মধ্যে রয়েছে- সব ধরনের বার্গার, স্যান্ডউইচ, চিকেন ফ্রাই, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, হট ডগ, পিৎজা, ফলের রস ও ফ্রুট ড্রিংক, পাস্তা, লাজারানো, মিনারেল ওয়াটার (৩ লিটার পর্যন্ত), কোমল পানীয়, এনার্জি ড্রিংক, সিগারেট, বিড়ি, জর্দা ও গুল, পেইন্টস, সৌন্দর্য্যবর্ধক প্রসাধনী, পাউডার, শ্যাম্পু, শেভের আগে পরে ব্যবহৃত সামগ্রী, ঘাম দূরীকরণে ব্যবহৃত সামগ্রী, সুগন্ধযুক্ত বাথ সল্ট ও অন্যান্য সামগ্রী, সিগারেট ও বিড়ি পেপার, সিরামিক, দেয়াল টাইলস ও বাথটাব, সিমকার্ড (রিপ্লেসমেন্টসহ) সরবরাহ।

সংসদে উপস্থাপনের আগে বৃহস্পতিবার সকালে ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। সংসদ ভবনে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে প্রস্তাবিত এ বাজেটের অনুমোদন দেওয়া হয়।

 

এছাড়া দাম বাড়তে পারে এমন পণ্যগুলো হচ্ছে-
এমএস রড: রড তৈরির কাঁচামাল লোহার পিন্ড, স্ক্র্যাপ, বিলেটে আমদানি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া এতদিন এসব পণ্যে নির্ধারিত ট্যারিফের ভিত্তি ধরে ভ্যাট আদায় করা হতো, এখন থেকে বাজার মূল্যে ভ্যাট আদায় করা হবে। ফলে রডের দাম বাড়তে পারে।
অন্যান্য নির্মাণ উপকরণ : ইট, পেরেক, ঢেউটিন,তারাকাঁটা, লোহার পেরেক, নাট, বোল্টসহ লোহা জাতীয় বিভিন্ন পণ্যের নির্ধারিত মূল্যে (ট্যারিফ ভ্যালু) ভ্যাট আদায় করা হতো। এখন থেকে বাজার মূল্যে শুল্ক আদায় করা হবে। আবার কাঁচামালে বিভিন্ন শুল্ক আরোপ হয়েছে। ফলে এসব পণ্যে দাম বাড়তে পারে।
স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত গুঁড়া দুধ: তরল দুধ থেকে গুঁড়া দুধ উৎপাদন করা হলে তার প্রতিকেজি ১০০ টাকা ট্যারিফ মূল্য ধরে ভ্যাট আদায় করা হতো। এখন থেকে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় করা হবে। এতে দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নামি-দামি হোটেল রেস্তোরাঁর খাবার: সাধারণ হোটেলের খাবারে ৪ শতাংশ ভ্যাট হলেও নামি-দামি রেস্তোরাঁর খাবারে ভ্যাট বেড়ে ১৫ শতাংশ হবে। ফলে খাওয়ার খরচ বাড়বে।

ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের খরচ: বর্তমানে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে। ভ্যাট হার একক করায় এখন থেকে এক্ষেত্রেও ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ হবে। ফলে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে খরচ বাড়বে।

বিমান ভ্রমণ খরচ: সার্কভুক্ত দেশের বাইরে বিমান ভ্রমণে খরচ বাড়বে। বিমান ভাড়ার ওপর আরোপিত আবগারি শুল্ক বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী বাল্ব ও টিউব লাইট: নতুন ভ্যাট আইনের কারণে এসব পণ্যে অতিরিক্ত ভ্যাট আরোপ হবে। এতে দাম বাড়তে পারে।

গ্যাস ও বিদ্যুৎ: এতদিন গ্যাস ও বিদ্যুতের দামের ওপর ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ করা হতো। এখন থেকে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ হবে। ফলে বাড়বে গ্যাস ও বিদ্যুতের খরচ।

এলপি গ্যাস: ভ্যাট বৃদ্ধির কারণে দাম বাড়বে এলপি গ্যাসেরও। এতদিন এই গ্যাসেরও ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হতো। এখন থেকে ১৫ শতাংশ দিতে হবে। বৈদ্যুতিক খুঁটির দামও একই কারণে বাড়তে পারে।

মসলা পণ্য: জিরা, গোলমরিচ, এলাচ, দারুচিনিতে আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ প্রস্তাব করা হয়েছে। অপরদিকে এসব মসলা আমদানির সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

স্বর্ণালংকার: এতদিন স্বর্ণালংকারে ৫ শতাংশ ভ্যাট ছিল। নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হওয়ায় এবং স্বর্ণালংকারে ভ্যাট ছাড় না দেওয়ায় এর দাম বাড়বে।

ই-সিগারেট ও বিড়ি: ন্যূনতম মূল্য বাড়ানোর পাশাপাশি করও বাড়ানো হয়েছে বিড়ি, ফিল্টারযুক্ত বিড়ি ও ইলেকট্রনিক সিগারেটে। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

অটোরিকশা: ব্যাটারিচালিত, সিএনজিচালিত অটোরিকশার দাম বাড়তে পারে। এতে সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হয়েছে।

স্টার্চ: কাসাভা স্টার্চসহ সব ধরনের স্টার্চ আমদানিতে শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে আমদানি করা স্টার্চের দাম বাড়তে পারে।

সোলার প্যানেল: শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করায় সোলার প্যানেলের দাম বাড়বে।
এছাড়া হাতে তৈরি বিস্কুট ও কেক, দেশে তৈরি বোতলজাত আচার, টমোটো কেচাপ, চাটনি, টমাটো সস, পেস্ট, দেশীয় আম, আনারস ও পেয়ারাসহ সব ধরনের ফলের জুসের দাম বাড়তে পারে। দাম বাড়তে পারে কিচেন টাওয়েল, ডুপলেক্স বোর্ড, টয়লেট, ন্যাপকিন ও ফেসিয়্যাল টিস্যু, প্যাকিং পেপার, স্থানীয়ভাবে তৈরি করা সব ধরনের পোশাক-পরিচ্ছদের। বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার, শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত মিনি বাস, বাস, ট্রাক, ট্রাক ভ্যান, পিক আপ, লাইফ বোর্ড, ফায়ার ফাইটিং শিফটের দামও বাড়বে অতিরিক্ত শুল্ক বসানোর কারণে। মোটরগাড়ির মেরামত খরচ, নির্মাণ ও ভূমি উন্নয়ন সংস্থা, বাড়বে অতিরিক্ত শুল্ক ও ভ্যাট আরোপের কারণে। 

/জিএম/এফএস/

আরও পড়ুন- 

এছাড়া দাম বাড়তে পারে এমন পণ্যগুলো হচ্ছে-
এমএস রড: রড তৈরির কাঁচামাল লোহার পিন্ড, স্ক্র্যাপ, বিলেটে আমদানি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া এতদিন এসব পণ্যে নির্ধারিত ট্যারিফের ভিত্তি ধরে ভ্যাট আদায় করা হতো, এখন থেকে বাজার মূল্যে ভ্যাট আদায় করা হবে। ফলে রডের দাম বাড়তে পারে।
অন্যান্য নির্মাণ উপকরণ : ইট, পেরেক, ঢেউটিন,তারাকাঁটা, লোহার পেরেক, নাট, বোল্টসহ লোহা জাতীয় বিভিন্ন পণ্যের নির্ধারিত মূল্যে (ট্যারিফ ভ্যালু) ভ্যাট আদায় করা হতো। এখন থেকে বাজার মূল্যে শুল্ক আদায় করা হবে। আবার কাঁচামালে বিভিন্ন শুল্ক আরোপ হয়েছে। ফলে এসব পণ্যে দাম বাড়তে পারে।
স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত গুঁড়া দুধ: তরল দুধ থেকে গুঁড়া দুধ উৎপাদন করা হলে তার প্রতিকেজি ১০০ টাকা ট্যারিফ মূল্য ধরে ভ্যাট আদায় করা হতো। এখন থেকে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় করা হবে। এতে দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নামি-দামি হোটেল রেস্তোরাঁর খাবার: সাধারণ হোটেলের খাবারে ৪ শতাংশ ভ্যাট হলেও নামি-দামি রেস্তোরাঁর খাবারে ভ্যাট বেড়ে ১৫ শতাংশ হবে। ফলে খাওয়ার খরচ বাড়বে।

ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের খরচ: বর্তমানে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে। ভ্যাট হার একক করায় এখন থেকে এক্ষেত্রেও ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ হবে। ফলে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে খরচ বাড়বে।

বিমান ভ্রমণ খরচ: সার্কভুক্ত দেশের বাইরে বিমান ভ্রমণে খরচ বাড়বে। বিমান ভাড়ার ওপর আরোপিত আবগারি শুল্ক বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী বাল্ব ও টিউব লাইট: নতুন ভ্যাট আইনের কারণে এসব পণ্যে অতিরিক্ত ভ্যাট আরোপ হবে। এতে দাম বাড়তে পারে।

গ্যাস ও বিদ্যুৎ: এতদিন গ্যাস ও বিদ্যুতের দামের ওপর ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ করা হতো। এখন থেকে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ হবে। ফলে বাড়বে গ্যাস ও বিদ্যুতের খরচ।

এলপি গ্যাস: ভ্যাট বৃদ্ধির কারণে দাম বাড়বে এলপি গ্যাসেরও। এতদিন এই গ্যাসেরও ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হতো। এখন থেকে ১৫ শতাংশ দিতে হবে। বৈদ্যুতিক খুঁটির দামও একই কারণে বাড়তে পারে।

মসলা পণ্য: জিরা, গোলমরিচ, এলাচ, দারুচিনিতে আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ প্রস্তাব করা হয়েছে। অপরদিকে এসব মসলা আমদানির সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

স্বর্ণালংকার: এতদিন স্বর্ণালংকারে ৫ শতাংশ ভ্যাট ছিল। নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হওয়ায় এবং স্বর্ণালংকারে ভ্যাট ছাড় না দেওয়ায় এর দাম বাড়বে।

ই-সিগারেট ও বিড়ি: ন্যূনতম মূল্য বাড়ানোর পাশাপাশি করও বাড়ানো হয়েছে বিড়ি, ফিল্টারযুক্ত বিড়ি ও ইলেকট্রনিক সিগারেটে। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

অটোরিকশা: ব্যাটারিচালিত, সিএনজিচালিত অটোরিকশার দাম বাড়তে পারে। এতে সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হয়েছে।

স্টার্চ: কাসাভা স্টার্চসহ সব ধরনের স্টার্চ আমদানিতে শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে আমদানি করা স্টার্চের দাম বাড়তে পারে।

সোলার প্যানেল: শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করায় সোলার প্যানেলের দাম বাড়বে।
এছাড়া হাতে তৈরি বিস্কুট ও কেক, দেশে তৈরি বোতলজাত আচার, টমোটো কেচাপ, চাটনি, টমাটো সস, পেস্ট, দেশীয় আম, আনারস ও পেয়ারাসহ সব ধরনের ফলের জুসের দাম বাড়তে পারে। দাম বাড়তে পারে কিচেন টাওয়েল, ডুপলেক্স বোর্ড, টয়লেট, ন্যাপকিন ও ফেসিয়্যাল টিস্যু, প্যাকিং পেপার, স্থানীয়ভাবে তৈরি করা সব ধরনের পোশাক-পরিচ্ছদের। বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার, শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত মিনি বাস, বাস, ট্রাক, ট্রাক ভ্যান, পিক আপ, লাইফ বোর্ড, ফায়ার ফাইটিং শিফটের দামও বাড়বে অতিরিক্ত শুল্ক বসানোর কারণে। মোটরগাড়ির মেরামত খরচ, নির্মাণ ও ভূমি উন্নয়ন সংস্থা, বাড়বে অতিরিক্ত শুল্ক ও ভ্যাট আরোপের কারণে।

/জিএম/টিএন/

 

লাইভ

টপ