বেড়েছে ই-সিগারেট ও বিড়ির দাম

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২৩:২৩, জুন ০১, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৩০, জুন ০১, ২০১৭

জাতীয় সংসদ

বিড়ির ভয়াবহতা সিগারেটের চেয়েও বেশি উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিড়ি এখন আর বিড়ি নেই। এটি একটি মোটামুটি সস্তা সিগারেট এবং এটিও স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতির। দেশের জনসাধারণের স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং ধূমপানজনিত চিকিৎসা ব্যয় বিবেচনা করে এই খাত টিকিয়ে রাখার যৌক্তিক কোনও কারণ নেই বলে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামী তিন বছরের মধ্যে এ দেশ থেকে বিড়ি উৎপাদন বন্ধ করে দেবো।

এসব বিবেচনায় নিয়ে বিড়ির ট্যারিফ মূল্য বিলুপ্তির পাশাপাশি ফিল্টারবিহীন ও ফিল্টারযুক্ত বিড়িতে সম্পূরক শুল্ক হার আগের মতোই যথাক্রমে ৩০ ও ৩৫ শতাংশতে কোনও পরিবর্তন না করার কথা জানান তিনি।

অপরদিকে, করসহ ফিল্টারবিহীন ২৫ শলাকার বিড়ির প্যাকেটের দাম ১৫ টাকা এবং ফিল্টারযুক্ত ২০ শলাকার বিড়ির প্যাকেটের দাম ১৫ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করছি এবং এই মূল্য বাজেট ঘোষণার দিন ১ জুন থেকেই তা কার্যকর হবে বলেও বাজেট বক্তৃতায় বলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সিগারেট, বিড়িসহ সকল তামাকজাত পণ্য স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এসব পণ্যের কারণে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক ব্যয় বৃদ্ধি পায়। ফলে সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুলসহ সব ধরনের তামাকজাত পণ্য প্রস্তুতকারী করদাতাদের এ ধরনের ব্যবসা হতে অর্জিত আয়ের ওপর ২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে সারচার্জ আরোপের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।

তামাক কৃষি পণ্য হলেও তামাকের উৎপাদনকে সরকার সবসময় নিরুৎসাহিত করেছে, কারণ, এটি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। তাই তামাক জাতীয় সব পণ্যে উচ্চ হারে শুল্ক আরোপিত আছে। তামাক ও তামাকজাত পণ্যের উৎপাদন ও ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে এ বছর তামাকজাত পণ্য রফতানিতে ২৫ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়। স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বিড়ি-সিগারেটের মতো আরেকটি ভয়াবহ উদ্ভাবিত পণ্য হলো ই-সিগারেট উল্লেখ করে তিনি বলেন,  এ পণ্যটির শুল্কহার মাত্র ১০ শতাংশ। অন্যদিকে, এর রিফিলের শুল্কহারও ১০ শতাংশ। এর পরিবর্তে তিনি ২৫ শতাংশ শুল্কহার প্রস্তাব করেন। একইসঙ্গে এ দুটি পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপেরও প্রস্তাব করেন তিনি।

অপরদিকে, দেশীয় ব্র্যান্ডের নিম্ন মূল্যস্তরের সিগারেটের প্রতি ১০ শলাকার দাম ২৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৭ টাকা এবং সম্পূরক শুল্ক হার ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫২ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। অন্যদিকে কম মূল্যের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সিগারেটে বর্তমানে পৃথক মূল্যস্তর না থাকায় এ ধরনের সিগারেটের প্রতি ১০ শলাকার মূল্য ৩৫ টাকা ও সম্পূরক শুল্ক ৫৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী। ৪৫ টাকা ও এর বেশি দামের মধ্যম ও উচ্চ মূল্যস্তরের সিগারেটের দাম নির্ধারণ না করে  বিষয়টি উৎপাদকদের ইচ্ছাধীন রাখার প্রস্তাব রাখেন অর্থমন্ত্রী ।

/জেএ/টিএন/

লাইভ

টপ