এই বাজেটে চাপে পড়বে নিম্ন মধ্যবিত্ত: সিপিডি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৬:৩৯, জুন ০২, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৪৪, জুন ০২, ২০১৭

 

সিপিডিনতুন অর্থবছরের (২০১৭-১৮) প্রস্তাবিত বাজেটে সামগ্রিকভাবে যে কর কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, তাতে মূল্যস্ফীতি বাড়বে বলে মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘বাজেটে যে কর ও ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে, তাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, বাড়বে ভোগ ব্যয়, এর ফলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে। এতে নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বেন।’ শুক্রবার (২ জুন) রাজধানীর লেকশোর হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পর্যালোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

ড. দেবপ্রিয় বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে বাজেটে যে আয় ও ব্যয় ধরা হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। শুধুত্র প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা দিয়ে দক্ষতার সঙ্গে বাজেট বাস্তবায়ন করা যাবে না। বাজেট সফলভাবে বাস্তবায়ন করার একটা রাজনৈতিক অর্থনীতি আছে। সেটা হলো জাতীয় সংসদের প্রতিনিধি ছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের যুক্ত করা, কিন্তু বাস্তবে আমরা বাজেট প্রনয়ন ও বাস্তবায়নে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা দেখি না।’

বাজেটে যে প্রত্যাশা বা আকাঙ্ক্ষা করা হয়েছে তার সঙ্গে  একমত পোষণ করে দেবপ্রিয় বলেন, ‘বাজেটে আগের ভ্যাট আইন ও নতুন আইনের মিশ্রণ ঘোষণা করা হয়েছে। আগের আইনে যা কিছু রাখা হয়েছে, কোনটা কেন রাখা হলো, তা অর্থমন্ত্রী পরিষ্কার করেননি। প্রকৃতপক্ষে করের আপাতন কোথায় বাড়লো কিংবা কোথায় কমলো, তা এখনও পরিষ্কার নয়। তবে আমাদের প্রাথমিক ধারণা, অভ্যন্তরীণ বাজারে উৎপাদনমুখী তৎপরতার ওপর চাপটা বেশি পড়লো।’ তিনি বলেন, ‘আগামী অর্থ বছরে ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক সহায়তা লক্ষ্যমাত্রার যে হিসাব ধরা হয়েছে, তা অবাস্তব। বাংলাদেশের ইতিহাসে গত চার বছর মিলেও এই পরিমাণ বৈদেশিক সাহায্য নেওয়া যায়নি। অর্থমন্ত্রী আসলে কোনও রকমে একটা অংক দিয়ে হিসাব মিলিয়ে দিয়েছেন। এগুলো বাস্তব সম্মত নয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে সব চেয়ে বেশি বৈদেশিক অর্থ ব্যবহার হয়েছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ।’

দেশে বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ব্যবস্থাকেই গুরুত্ব দেওয়া হয় উল্লেখ করে ড. দেবপ্রিয় বলেন, ‘শুধু প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। বাজেট বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক অর্থনীতিও প্রয়োজন। এবারের বাজেটে যে আটটি ধারণা বা অনুমানের ওপর প্রণয়ন করা হয়েছে, তার মধ্যে অন্তত ৪ থেকে ৫টি ধারণার বিষয়ে বড় ধরনের সংশয় রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জিডিপির প্রবৃদ্ধি বা মূল্যস্ফীতির হারের ব্যাপারে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তাকে আমরা আংশিকভাবে সঠিক বলে ধরে নিচ্ছি। বৈদেশিক সাহায্যের ব্যাপারে যে ধারণা করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই যৌক্তিকভাবে মেনে নেওয়া যায় না। কারণ এটা আদৌ বাস্তবসম্মত নয়। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকবে বলে ধরে নেওয়া হয়েছে, সেটা আগামী দিনের অভিজ্ঞতাই আমাদের বলে দেবে।’

বাজেটে কর্মসংস্থান ও নতুন কত করদাতার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী পরিষ্কার করেননি বলে মন্তব্য করে ড. দেবপ্রিয় বলেন, ‘৭ দশমিক ৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির জন্য যে পরিমাণ বিনিয়োগ দরকার পড়বে, সেই পরিমাণ বিনিয়োগ হবে কিনা, সেটা  একটা বড় প্রশ্ন। আমরা দেখেছি, ৭ দশমিক ৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির জন্য ব্যক্তিখাতে ৬৬ হাজার কোটি টাকা বাড়তি বিনিয়োগ লাগবে। আর সরকারি বিনিয়োগ লাগবে ৫০ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ বাড়তি ১১৬ কোটি টাকা বিনিয়োগ হলেই কেবল ৭ দশমিক ৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে। এই হিসাবে প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা একটু বেশি আশাব্যঞ্জক বলে মনে করি।’

সরকারের বিভিন্ন মেঘা প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হলেও তা খরচ করা যায়নি। সরকারের অগ্রাধিকার মূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের চিত্র হতাশাজনক বলে মন্তব্য করে দেবপ্রিয় বলেন, ‘একমাত্র পদ্মাসেতু ছাড়া অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পের ব্যয় ঠিক মতো হচ্ছে না। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এসব প্রকল্প দেখভাল করা হচ্ছে কিন্তু তারপরও সেগুলোর অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়।’ এ কারণে ব্যক্তিখাতও চাঙ্গা হচ্ছে না বলে মত প্রকাশ করেন তিনি

এ সময় সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, গবেষণা ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খানসহ সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/জিএম/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ