চাল মজুদদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ডিসিদের প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রীর নির্দেশ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:৫০, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:০৩, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৭

 

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ফাইল ছবি সংগৃহীতঅবৈধভাবে যারা ধান ও চাল মজুদ রেখেছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। ৬৪ জেলার ডিসিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘জেলার যেখানে রাইস মিল ও গুদাম আছে, সেখানেই অভিযান চালাতে  হবে। দেশের যেকোনও স্থানে অস্বাভাবিক পরিমাণের ধান ও চালের মজুদ পাওয়া গেলে তা জব্দ করতে হবে। মিল মালিককে গ্রেফতার করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনও ছাড় নেই।’ রবিবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দফতরে বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ নির্দেশ দেন।

এ সময় খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ও বাংলাদেশ অটো রাইস মিল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান এ কে এম খোরশেদ আলম খান উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে চাল সংকটের গুজব ছড়িয়ে বাজারকে অস্থির করার ক্ষেত্রে রাইস মিল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলীর নাম উঠে আসে। এ সময় তোফায়েল আহমেদ বৈঠকে থেকে উঠে গিয়ে তাৎক্ষণিক কুষ্টিয়ার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক এডিসি (রাজস্ব)  (ডিসি বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন) ও নাটোরের ডিসিকে পৃথকভাবে ফোন করেন। কারণ কুষ্টিয়া ও নাটোরে আব্দুর রশিদের চালকল ও গুদাম রয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এই দুই জেলার শীর্ষ কর্মকর্তার কাছে জানতে চান, অবৈধ মজুদের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা। এ সময় উভয় জেলার কর্মকর্তাই মন্ত্রীকে জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ধান ও চালের অবৈধ মজুদের দায়ে আবদুর রশিদকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এতবড় অপরাধের দায়ে তাকে কেন গ্রেফতার করা হলো না?’

গুদামে পাওয়া ধান ও চাল জব্দের নির্দেশ দিয়ে  ডিসিদের আবারও মজুদদারদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ তিনি আরও বলেন, ‘শুধু এই দুই জেলায়ই নয়, মিটিং শেষ করেই আমি দেশের ৬৪ জেলার ডিসির সঙ্গে ফোনে কথা বলব। তাদের নির্দেশ দেব, যেখানেই ধান ও চালের অবৈধ মজুদের সংবাদ পাওয়া যাবে, সেখানেই অভিযান পরিচালনা করতে হবে। এর মালিকদের গ্রেফতার করতে হবে। চাল নিয়ে আর কোনও ষড়যন্ত্র সহ্য করা হবে না।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রশিদ বিএনপির অর্থ যোগানদাতা।  লায়েক আলী জামায়াতের রাজনীতি করে। তারাই ষড়যন্ত্র করে চালের বাজারকে অস্থির করেছে। ভারত চাল রফতানি করবে না, দাম বাড়ানোর জন্য এমন গুজব ওরাই ছড়িয়েছে। দেশে চালের কোনও সংকট নেই। এরাই সরকারকে বিব্রত করতে চালের বাজারকে অস্থির করে তুলেছে।’

এ প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বাংলা টিবিউনকে বলেন, ‘বৈঠক শেষে অফিসে গিয়ে আমিও দেশের ৬৪ জেলার ডিসিকে নির্দেশ দেব, যেন অবৈধ মজুদদারদের চাল ও ধান জব্দ করা হয় এবং তাদের যেন গ্রেফতার করা হয়।’

উল্লেখ্য, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সচিবালয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ সংক্রান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, চালকল মালিক, মিলার, চাল আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত থাকবেন।

আরও পড়ুন: চাল সংকট: মিল মালিক রশিদ ও লায়েক আলীকে গ্রেফতারের নির্দেশ

 

      

/এসআই/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ