‘খেলাপি ঋণের কারণে ভালো উদ্যোক্তারা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২৩:২১, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:২১, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৮






বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডিসিসিআইয়ের বৈঠকব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের কারণে দেশের ভালো উদ্যোক্তারা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি আবুল কাসেম খান।





বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারী) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে তার কার্যালয়ে ঢাকা চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আবুল কাসেম খান বলেন, ‘২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৮০ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’ তিনি খেলাপি ঋণ কমানো, ঋণ আদায়ে ব্যাংকগুলোর আরও সক্রিয় হওয়া এবং বৃহৎ ঋণ প্রকল্পগুলোতে ‘বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর)’-এর ধারা বাধ্যতামূলক রাখার প্রস্তাব করেন। তিনি বিদ্যমান ‘মানি লোন কোর্ট অ্যাক্ট ২০০৩’-এর ধারাগুলো আরও যুগোপযোগী করার প্রস্তাব করেন।
বিনিয়োগের জন্য অর্থপ্রাপ্তির সহজীকরণ করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বন্ড ছাড়ার পরামর্শ দিয়ে আবুল কাসেম খান বলেন, ‘ঋণের হার বেশি হওয়ায় দেশের উদ্যোক্তারা আশানুরূপভাবে নতুন বিনিয়োগে উৎসাহিত হচ্ছেন না। এ কারণে পুঁজিবাজারে “বিনিয়োগ বন্ড” ছাড়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি নীতিমালা প্রণয়ণ করতে পারে ।’
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান, চেইঞ্জ ম্যানেজমেন্ট অ্যাডভাইজার আল্লাহ মালিক কাজেমি, প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. ফয়সাল আহমেদ এবং ব্যাংকিং রিফর্ম অ্যাডভাইজার এ কে সুর চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
আবুল কাসেম খান দেশের পুঁজিবাজারকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক, ডিএসই, বাংলাদেশ সিকিউরিটজ এক্সচেঞ্জ কমিশন, চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ, ইন্সুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অথরিটি এবং সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ডিসিসিআই’র সভাপতি দেশের এসএমই খাতের উদোক্তাদের সিঙ্গেল ডিজিট ঋণ প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে আরও মনোযোগী হওয়ার আহবান জানান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, ‘বিদ্যমান অর্থ-সংকট খুবই সাময়িক এবং স্বল্প সময়ে এ সমস্যার সমাধান হবে। বিদেশ থেকে অবৈধ পথে রেমিট্যান্স আসার বিষয়ে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যার ফলে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স প্রবাহের পরিমাণ বেড়েছে।’
তিনি বলেন, ‘জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়াতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কোনও বিকল্প নেই।’ তিনি মনে করেন, অবকাঠামোসহ অন্যান্য খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও আর্থিক প্রবাহ নিশ্চিতকরণের জন্য পুঁজিবাজারে বন্ড প্রবর্তনের বিষয়টি একটি ভালো উদ্যোগ হতে পারে।
মুক্ত আলোচনায় ডিসিসিআই সহ-সভাপতি কামরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি রিয়াদ হোসেন, পরিচালক ইঞ্জি. আকবর হাকিম, হোসেন এ সিকদার, হুমায়ুন রশিদ, কে এম এন মঞ্জুরুল হক, নূহের লতিফ খান, সেলিম আকতার খান, ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী এবং মহাসচিব এ এইচ এম রেজাউল কবির বক্তব্য রাখেন।


 

/জিএম/এইচআই/

লাইভ

টপ