অনেক শিল্প কারখানার মালিক বন্ড সুবিধায় পণ্য এনে বাইরে বিক্রি করে দেওয়ায় বাজার অস্থির হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘এর বাইরে অনেকে যে দামে পণ্য রফতানি করছে, তার পুরো মুনাফা দেশে আনছেন না।’ বুধবার (৪ এপ্রিল) ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বন্ড সুবিধা-সংক্রান্ত রফতানি খাত পোশাক, নিটওয়্যার, কম্পোজিট ও প্যাকেজিং খাতের প্রতিনিধিদের প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
রাজধানীর সেগুন বাগিচাস্থ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘সম্প্রতি গার্মেন্ট মালিকরা ঠিকমতো ভ্যাট দেয় কিনা, তা খতিয়ে দেখতে অডিট শুরু করেছে এনবিআর। নিয়ম অনুসারে পরিবহন খরচ, প্যাকেজিংসহ অন্যান্য ব্যয়ের ওপর ভ্যাট দিতে হয়। কিন্তু এখন মিসেলেনিয়াস (অন্যান্য) ব্যয়ের ওপরও ভ্যাট দেওয়া হচ্ছে কিনা, তা দেখা হচ্ছে। এর মানে অন্যান্য খরচের মধ্যে বিভিন্ন কার্যসম্পাদনের জন্য যে ঘুষ দেওয়া হয়, সেটাও যুক্ত আছে। এজন্য আমাদের (গার্মেন্ট মালিক) ঘুষের ওপরও ভ্যাট দিতে হচ্ছে।’
এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘আমাদের দেশে ইনকাম ট্যাক্স নিয়ে মানুষের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা আছে। আস্থা রয়েছে। স্বেচ্ছায় মানুষ ইনকাম ট্যাক্স দিচ্ছে। কিন্তু ভ্যাটের বিষয়ে মানুষের আস্থা নেই। অনেকে তা দিতে চান না। এজন্য অডিট সিস্টেম চালু করা হয়েছে। দেখা গেছে, অডিটের পর অনেকে দাবি করা ভ্যাট পরিশোধ করছেন।’ তিনি বলেন, ‘রাজধানীতে অনেক ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ক্লিনিক রোগী-গ্রাহকদের কাছ থেকে ভ্যাট নিচ্ছে কিন্তু তা পরিশোধ করছে না। অডিটে সেটা ধরা পড়ছে। তবে অডিটের নামে যেন কোনও হয়রানি না করা হয়, সেটাও দেখা হবে।’
বর্তমানে রফতানিমুখী গার্মেন্ট এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং শিল্প প্রতিষ্ঠানকে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ উৎসে কর দিতে হয়। আসন্ন বাজেটে তা কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছে এ খাতের উদ্যোক্তারা।
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘দেশের ৮০ শতাংশ গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি লস দিয়ে ব্যবসা করছে। মাত্র ১০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান মুনাফা করছে। কিন্তু সবাইকে ভ্যাট, ট্যাক্স ও উৎসে কর দিতে হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বায়াররা এখন ন্যায্যমূল্য দিচ্ছে না। এর বাইরে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে গেছে। এরসঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে কাঁচামালের দাম।’ এজন্য উৎসে কর কমিয়ে তার মেয়াদ ৫ বছরের জন্য নির্দিষ্ট করে দেওয়ার দাবি করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে নিট খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিকেএমইএ, বাংলাদেশ গার্মেন্ট এক্সেসরিজ প্যাকেজিং ম্যানুফেচারাস অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ), বাংলাক্রাফটের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।







