সিগারেটের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হবে: এনবিআর চেয়ারম্যান

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:১৯, মে ০৬, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৩২, মে ০৬, ২০১৮

 

প্রাক-বাজেট সংলাপে এনবিআর চেয়ারম্যান


কম দামের সিগারেটের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। রবিবার (৬ মে) এনবিআর সম্মেলন কক্ষে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এ ঘোষণা দেন।



অ্যান্টি-টোবাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্সের (আত্মা) পক্ষ থেকে সিগারেটের দাম বাড়ানো ও স্ল্যাব পরিবর্তনের দাবি জানানো হলে এনবিআর চেয়ারম্যান স্ল্যাব পুনর্নির্ধারণের ঘোষণা দেন। প্রাক-বাজেট আলোচনায় বিড়ি-সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যের দাম ও সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় আত্মা। সংগঠনটির পক্ষে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন সাংবাদিক মর্তুজা হায়দার লিটন, শাহনাজ মুন্নী, নাদিরা কিরন ও দৌলত আক্তার মালা ও মিজান চৌধুরী।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে নিম্নস্তরের ১০ শলাকা সিগারেটের মূল্য ২৭ ও ৩৫ টাকা। ফলে কম দামের এই সিগারেটের দাম পুনর্নির্ধারণ হলে ১০ শলাকা সিগারেটের দাম বেড়ে যাবে।

মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘তামাকজাত পণ্যের দামের ক্ষেত্রে অ্যান্টি-টোবাকোর (আত্মা) প্রস্তাবগুলো যৌক্তিক। সিগারেটের নিম্ন স্ল্যাবের দাম সহনীয় পর্যায়ে আছে। তবে এটাকে বাড়িয়ে যেন ভারসাম্যে আনা যায়, আমরা সেই চেষ্টাই করবো। এটি এমনভাবে করা হবে যেন সব পক্ষই খুশি থাকে।’

আসন্ন বাজেটে সিগারেটের মূল্যস্তর চারটি থেকে দুটিতে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করে আত্মা। এর মধ্যে একটি হবে উচ্চস্তর। অন্যটি হবে নিম্নস্তর। নিম্নস্তরের ১০ পিস সিগারেটের দাম ন্যূনতম ৫০ টাকা নির্ধারণের পাশাপাশি ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করতে হবে এবং উচ্চস্তরের ১০ পিস সিগারেটের নূন্যতম দাম ১০০ টাকা নির্ধারণের পাশাপাশি ৬৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়। এছাড়া সব ক্ষেত্রে প্রতি ১০ পিস সিগারেটে ৫ টাকা কর নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়।

বিড়ির ক্ষেত্রে বলা হয়, ফিল্টার ও নন-ফিল্টার বিভাজন বাতিল করে প্রতি বান্ডিল বিড়ির সর্বনিম্ন মূল্য ৩০ টাকা নির্ধারণ করে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং ৬ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করার কথা বলা হয়। ধোঁয়াবিহীন তামাক পণ্যের (যেমন— জর্দা ও গুল) প্রতি ২০ গ্রামের সর্বনিম্ন মূল্য ৫০ টাকা নির্ধারণ করে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং ১০ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় আত্মা ছাড়াও কয়েকটি সংগঠন অংশ নেয়। এতে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় এসএমই ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম তৈরির প্রধান উপকরণ পলি-কার্বোনেট আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক ২ শতাংশ বা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নির্ধারণ, মোল্ডের ওজনভিত্তিক দাম নির্ধারণের পরিবর্তে লেনদেনের দামে শুল্কায়ন, প্লাস্টিক শিল্পের মৌলিক কাঁচামাল প্রাইমারি পলিমারের ওপর বিদ্যমান ৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ৩ শতাংশে নিয়ে আসা, মেলামাইনের কাঁচামাল আমদানিতে ১০ শতাংশের পরিবর্তে ৩ শতাংশ শুল্ক আরোপ, কৃষি যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক মওকুফ, হস্তশিল্প রফতানিতে নগদ প্রণোদনা ২০ শতাংশের পরিবর্তে ৩০ শতাংশে উন্নীত করাসহ ৩০টির বেশি প্রস্তাব দেওয়া হয়। এসব প্রস্তাবের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, তারা কিছু কিছু প্রস্তাব বিবেচনা করবেন।

বাংলাদেশ পেপার মিল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরে সংগঠনটির নেতা মোস্তফা কামাল মহিউদ্দিন বলেন, ‘পেপার শিল্পেও বন্ড সুবিধার অপব্যবহার হচ্ছে। প্যাকেজিং পেপারের নামে সাদা কাগজ আমদানি করা হচ্ছে। কিছু কিছু শিক্ষা উপকরণে ভ্যাট রয়েছে। এগুলোর ভ্যাট প্রত্যাহার করা হোক।’ তিনি বলেন, ‘স্যানিটারি ন্যাপকিন আমরা ওজন পদ্ধতিতে আমদানি করি। কিন্তু বিক্রি করি পিস পদ্ধতিতে। তাই পিস পদ্ধতিতে শুল্ক আরোপ করার আবেদন করছি। এছাড়া শুল্কায়ন পদ্ধতির অনিয়মের কারণেও বিদেশে টাকা পাচার হচ্ছে। এটিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।’
বিভিন্ন প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশীয় শিল্পের উন্নয়নে যেন আমাদের নীতি কাজে লাগে, সেই ব্যবস্থা করা হবে। দেশীয় পণ্যের উৎপাদন বাড়ছে। তবে মানসম্মত পণ্য যেন উৎপাদন হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’
এক প্রস্তাবের জবাবে তিনি বলেন, ‘অপ্রদর্শিত আয়ের ওপর প্রতিবছরই ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। নতুন কিছু হবে না। ভূমি নিবন্ধন খরচ কমাতে ভূমি মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠাবো। জমি বিক্রির টাকা অনেক সময় কালো টাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়। এটি যেন না হয় সেই ব্যবস্থা করা হবে।’

/জিএম/এইচআই/

লাইভ

টপ