কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে পাটকল সংস্কার

Send
শফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত : ২৩:৪৬, জুন ৩০, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৫০, জুলাই ০১, ২০১৮







পাটকলদেশের পাটকলগুলোকে সচল করে পুরনো যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে এসব কারখানার দক্ষতা ও উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে এসব কারখানায় জনবল নিয়োগ দিয়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিরও পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে কারখানাগুলোকে সংস্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ৩টি পাটকল সংস্কার করবে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের আওতাধীন ৩টি মিল সুষমকরণ, আধুনিকায়ন, পুনর্বাসন এবং বর্ধিতকরণ’ নামে একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এর প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১৫০ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার তহবিল থেকে ২৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি) প্রকল্পটি ২০২০ সালের ৩০ জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া পাটকল ৩টি হলো নরসিংদীর ইউএমসি জুট মিল লিমিটেড, যশোরের নোয়াপাড়ার যশোর জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের গ্রালফ্রা-হাবিব লিমিটেড। এই পাটকল ৩টি গত শতকের ষাটের দশকে স্থাপন করা। এগুলোর যন্ত্রপাতির উৎপাদন ক্ষমতা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক যন্ত্রপাতি বসানো জরুরি।
সূত্র জানায়, প্রতিবছর পাটশিল্প কারখানাগুলোর যন্ত্রপাতি কেনায় বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়।
২০১৪ সালের ১২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় বিজেএমসিকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দেন। এরপর মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ২০১৬ সালের ১০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী নীতিগত অনুমোদন দেন। জানানো হয়, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কম খরচে পরিবেশবান্ধব পাটপণ্য উৎপাদনে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো সক্ষম হবে। প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন সম্ভব হবে। নতুন কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর এবং একই বছরের ২৭ অক্টোবর পরিকল্পনা কমিশনে হওয়া পিইসি সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তের আলোকে ডিপিপি পুনর্গঠন সাপেক্ষে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়। এরপর প্রকল্পটি পুনর্গঠন করে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করে।
জানা গেছে, এ প্রকল্পের আওতায় যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জাম কেনা হবে ৩৮৭টি। ৩ হাজার ৬০০ বর্গফুটের অফিস ভবন নির্মাণ করা হবে। এর বাইরেও অন্যান্য ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণসহ পানি নিষ্কাশন অবকাঠামো, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গোডাউন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ভবন মেরামত, অন্যান্য ভবন, স্থাপনা ও রাস্তা মেরামত করা হবে। এ ছাড়াও প্রকল্পের আওতায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নতুন ও আধুনিক মেশিন ও সহায়ক যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করে এসব মিলকে বর্ধিতকরণ, আধুনিকায়ন ও সুষমকরণের মাধ্যমে উৎপাদন ক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়ানোই এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।’ তিনি বলেন, ‘এছাড়া আউটসোর্সিংয়ের ওপর মিলগুলোর নির্ভরতা ও ব্যয় কমানো, উন্নত মানসম্পন্ন পাটপণ্য উৎপাদন করে দেশ-বিদেশের চাহিদা মেটানোর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং মিলগুলোর খালি জায়গার ব্যবহার, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, বর্তমান শ্রমিকদের বেশি বেশি কাজে লাগানো, পরিবেশবান্ধব পাটপণ্য উৎপাদন, বিক্রয় ও রফতানির মাধ্যমে ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, ‘ভিশন ২০২১’ এবং এসডিজি’র লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করতে এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।’
প্রতিমন্ত্রী জানান, এর ফলে কারখানা পরিচালনায় ব্যয় কমবে। সরকারের লোকসানও কমবে।

/এইচআই/

লাইভ

টপ