ভ্যাট ফাঁকি বন্ধে সব ব্যাংকে বসছে এনবিআরের নিজস্ব সফটওয়্যার

Send
গোলাম মওলা
প্রকাশিত : ১৫:৪২, জুলাই ০৯, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৪৫, জুলাই ০৯, ২০১৮

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডভ্যাট ফাঁকি বন্ধে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে বসানো হচ্ছে এনবিআরের নিজস্ব সফটওয়্যার। প্রাথমিকভাবে সরকারি চার ব্যাংকসহ ১৭ ব্যাংকে এই সফটওয়্যার বসানো হবে। তবে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ব্যাংকেও এই সফটওয়্যার বসানো হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ) সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
এর আগে উৎসে মূসক ফাঁকি রোধ, সহজীকরণ ও স্বচ্ছতা আনয়নে সব ব্যাংকে পরীক্ষামূলকভাবে একটি অনলাইনভিত্তিক সফটওয়্যার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রথমে কিছু ব্যাংক অনীহা প্রকাশ করলেও এখন সবাই সাড়া দিচ্ছে। 
প্রসঙ্গত, ১৭টি ব্যাংক থেকে উৎসে মূসক কর্তন ও সরকারি কোষাগারে জমা করে বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ)-মূল্য সংযোজন কর (মূসক)। সম্প্রতি তৈরি করা এলটিইউ’র এক তদন্ত প্রতিবেদনে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে ঠিকমতো মূসক জমা হচ্ছে না মন্তব্য করা হয়েছে। অবশ্য এনবিআরের প্রতিবেদনে একটি ব্যাংকের ভ্যাট ফাঁকির তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় সব ব্যাংকই বছরের পর বছর উৎসে মূসক ফাঁকি দিয়ে আসছে। মনিটরিং না থাকায় এই ফাঁকি বাড়ছে।  প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, সফটওয়্যারটি জনতা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়সহ চারটি শাখায় পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে এলটিইউ’র কমিশনার মো. মতিউর রহমান বলেন, উৎসে মূসক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বাড়াতে ব্যাংকগুলোতে এই সফটওয়্যার চালু করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রাথমিকভাবে জনতা ব্যাংকে স্থাপন করা হয়েছে। বেশ সাড়াও পাওয়া যাচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সব ব্যাংকে স্থাপন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এই সফটওয়্যার ভ্যাট ফাঁকি রোধে কাজ দেবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকের ৩৯টি সেবার বিপরীতে প্রায় সাড়ে চার শতাংশ উৎসে মূসক কর্তনের বিধান রয়েছে। কিন্তু ব্যাংকগুলো ইনফরমেশন টেকনোলজি সার্ভিস ব্যবহার করে উৎসে মূসক কর্তন করছে না। ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।

এর আগে  উৎসে মূসক কর্তন ও কোষাগারে জমাসংক্রান্ত কাগজপত্র চেয়ে ব্যাংকগুলোকে চিঠি দেয় এলটিইউ। ১৭ ব্যাংকের মধ্যে ১৫ ব্যাংকের ইনফরমেশন টেকনোলজি সার্ভিস প্রোভাইডারের আওতায় থমসন রয়টার্সের সেবা গ্রহণের তথ্য পায় এলটিইউ। চিঠি দেওয়া ও তদারকির পর ১১ ব্যাংক উৎসে মূসক সংক্রান্ত তথ্য দাখিল করে। এতে দেখা যায়, একটি ব্যাংক মাত্র ৫০ লাখ টাকা জমা দিয়েছে। এলটিইউর সন্দেহ হলে প্রতিটি ব্যাংকের তথ্য যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক আয়-ব্যয় থেকে প্রদেয় মূসক সঠিকভাবে সরকারি কোষাগারে জমা দিচ্ছে না। ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আয় ও ক্ষতি (প্রফিট অ্যান্ড লস) হিসাব বিবরণী পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির আয় ও ব্যয় খাতের যে মূসক কর্তনের বাধ্যবাধকতা ছিল তা সঠিকভাবে কর্তন করা হয়নি। 

জানা গেছে, এলটিইউ’র আওতাধীনে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও রূপালী ব্যাংক লিমিটেড রয়েছে। বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে উত্তরা ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, এইচএসবিসি ও সাউথ ইস্ট ব্যাংক লিমিটেড। 

 

/টিএন/

লাইভ

টপ