বিদ্যুৎখাতে আসছে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:৩৯, জুলাই ১১, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:২২, জুলাই ১২, ২০১৮



৬৬৬সরকারি-বেসরকারি মিলে বিদ্যুৎখাতে একসঙ্গে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ আসছে। সাত দশমিক চার বিলিয়ন বা প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগে মহেশখালীতে ছয় হাজার মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), দেশের বেসরকারি কোম্পানি সামিট পাওয়ার, মার্কিন কোম্পানি জেনারেল ইলেক্ট্রিক (জিই) এবং জাপানের মিতসুবিসি করপোরেশন যৌথভাবে এই বিনিয়োগ করছে। বুধবার (১১ জুলাই) দুপুরে হোটেল সোনারগাঁওয়ে পৃথক দু’টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।
সামিট পাওয়ার জিই-এর সঙ্গে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট এলএনজি ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করবে। সামিট ও জিই’র সঙ্গে প্রকল্পটিতে জাপানের মিতসুবিশি করপোরেশন অংশীদার হিসেবে থাকছে। দ্বিতীয় এমওইউটি সই হয়েছে একই দিন বিকেলে রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে। যেখানে জিই এর সঙ্গে পিডিবি যৌথভাবে তিন হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করবে।

পিডিবি-জিই এমওইউ
চুক্তি সই অনুষ্ঠানে জানানো হয়, তিন হাজার ৬০০ মেগাওয়াট প্রকল্পের ৫১ শতাংশ অংশীদারিত্ব থাকবে পিডিবির হাতে। বাকি শেয়ারের মধ্যে ৩০ ভাগের মালিকানা পাবে জিই। এছাড়া ১৯ ভাগ পিডিবি এবং জিইএর সমাঝোতার ভিত্তিতে অন্য কোম্পানিকে দেওয়া হবে। মূল কাজের মধ্যে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা জরিপের সঙ্গে মহেশখালীতে ৫ হাজার ৬০০ একর ভূমি উন্নয়ন। তিন হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ ও পরিচালনা, এলএনজি আমাদানি অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। তবে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ভূমি উন্নয়ন করা যাবে।
অনুষ্ঠানে ১৯ ভাগ শেয়ার অন্য কোম্পানিকে হস্তান্তরের কথা বলা হলেও পিডিবি বলছে, এখনও সেই কোম্পানি নির্ধারণ করা হয়নি। প্রকল্পটির ভূমি উন্নয়নে এক দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলার এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র ও এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে দুই দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হবে। দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ৩৫ হাজার কোটি টাকার বেশি।
জিই পাওয়ারের প্রেসিডেন্ট ও সিইও রাসেল স্ট্রোকস ও পিডিবি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালেদ মাহমুদ নিজ নিজ পক্ষে এমওইউতে সই করেন।
ভূমি উন্নয়ন এবং সমীক্ষার পর মূল চুক্তি সই হবে। মূল চুক্তি সইয়ের পর ৩৬ মাসের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে আসবে।
চুক্তি সই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী বলেন, ‘এলএনজির পাশাপাশি কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো এগিয়ে নিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আশা করি, ১০ বছর পর বাংলাদেশ গ্যাস টার্বাইন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে পারবে।’ এজন্য তিনি দেশীয় প্রকৌশলীদের উৎকর্ষ সাধনে জিই এর সহায়তা চান।
যুক্তরাস্ট্রে রাস্ট্রদূত মার্সিয়া স্টিফেনস বার্নিকাট বলেন, ‘বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক এই সমঝোতার মাধ্যেম আরও জোরালো হবে। বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর অধীনে ভারসাম্য রেখে এগিয়ে যাচ্ছে। সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে নানাভাবে চেষ্টা করছে। জিই-এর সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব সরকারের লক্ষ্য অর্জনে ভূমিকা রাখবে। এটি সরাসরি সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ আমেরিকার।’
অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ সচিব ড.আহমেদ কায়কাউস, জিই পাওয়ারের প্রেসিডেন্ট ও সিইও রাসেল স্ট্রোকস এবং পিডিবি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালেদ মাহমুদ বক্তব্য রাখেন।
সামিট-জিই সমঝোতা
সকালে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয়ে দেশের বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সব থেকে বড় কোম্পানি সামিট পাওয়ার জেনারেল ইলেকট্রিক (জিই) কোম্পানি ও জাপানের মিতসুবিশি করপোরেশন মিলে তিন শ কোটি ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি করেছে। দেশীয় মুদ্রায় এই বিনিয়োগের পরিমাণ ২৪ হাজার কোটি টাকা।
প্রকল্পের আওতায় জিইর প্রধান পণ্য ৯-এইচএ গ্যাস টারবাইন ব্যবহার করে ৬০০ মেগাওয়াট করে মোট দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার চারটি ইউনিট নির্মাণ করা হবে। এখানে মোট তিন লাখ ৮০ হাজার ঘনমিটার গ্যাস মজুদ ক্ষমতার দু’টি এলএনজি টার্মিনাল, একলাখ মেট্রিক টন ক্ষমতার একটি তেলের সংরক্ষণাগার এবং ৩০০ মেগাওয়াটের একটি ফার্নেস অয়েল চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান, মিতসুবিশি করপোরেশনের ইনফ্রাস্ট্রাকচার বিজনেস ডিভিশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তেতসুজি নাকাগাওয়া, জিই পাওয়ারের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাসেল স্টোকস স্ব স্ব কোম্পানির পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।
অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বেসরকারি অন্য কোম্পানিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে সঞ্চালন ও বিতরণে বেসরকারি অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী ছাড়াও সামিট, জিই ও মিতসুবিশির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/এসএনএস/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ