পায়রায় বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিকল্পনা

Send
সঞ্চিতা সীতু, পায়রা থেকে ফিরে
প্রকাশিত : ২৩:০০, আগস্ট ১২, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৫০, আগস্ট ১২, ২০১৮

 

পায়রা বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্ভাব্য স্থানপটুয়াখালীর পায়রা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের এলাকার মধ্যেই বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্র করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এজন্য বায়ু মানচিত্র বা উইন্ড ম্যাপিংয়ের কাজ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। তাতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি বাতাসের গতিবেগ রয়েছে পায়রায়। পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকা ঘুরে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা যায়, এখনপর্যন্ত উইন্ড ম্যাপিংয়ের যে ফল পাওয়া গেছে, তাতে বলা হচ্ছে, ৫০ থেকে ১০০ মিটার উচ্চতায় বায়ু প্রবাহের গতি প্রতি সেকেন্ডে আট থেকে ১৩ মিটার।বাংলাদেশের মধ্যে যাকে সর্বোচ্চ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিসিপিসিএল) জানায়, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করছে। মূলত এ কারণেই উইন্ড ম্যাপিং করা হচ্ছে। তবে এত ভালো ফল পাওয়া যাবে, তা কেউ আশা করেনি।

পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ও প্রধান প্রকৌশলী শাহ আব্দুল মওলা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা এখানে ভালো ফল পাচ্ছি। তবে এই প্রক্রিয়ায় একবছরের বায়ু প্রবাহের গড়চিত্র রেকর্ড করা হচ্ছে। এরপরই চূড়ান্ত ফল বিশ্লেষণ সম্ভব হবে।’

পায়রায় উইন্ড ম্যাপিংয়ের জন্য যে টাওয়ার বসানো হয়েছে, তাতে ১০০ থেকে ১২০ মিটারের মধ্যে ১৩ মিটার/সেকেন্ড, ৮০ মিটার উচ্চতায় ১১ মিটার/সেকেন্ড এবং ৫০ মিটার উচ্চতায় ১০ মিটার/সেকেন্ড বায়ুর গড় প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে।

অনেক বিশেষজ্ঞই আগে বলতেন, বাংলাদেশে বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভবনা নেই বললেই চলে। তবে বাংলাদেশের নতুন করে করা উইন্ড ম্যাপিং সেই ধারণা বদলে দিয়েছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল রিনিউয়েবল এনার্জি ল্যাবরেটরি (এনআরইএল) জানায়, বাংলাদেশের উপকূলে অন্তত ১০ হাজার মেগাওয়াট বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। তারা বাংলাদেশের নয়টি স্থানের ২৪ থেকে ৪৩ মাস ধরে বায়ু প্রবাহের তথ্য সংগ্রহ করে। এই তথ্যের ওপর নির্ভর করেই তারা এই সম্ভাবনার কথা জানায়। 

এনআরইএল তাদের পর্যবেক্ষণে জানায়, বাংলাদেশের নয়টি এলাকার বাতাসের গড় গতিবেগ ৫ থেকে ৬ মিটার/সেকেন্ড। বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য যাকে আদর্শ বলছে মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি।সাধারণত ২ দশমিক ৩ থেকে ২ দশমিক ৫ মিটার/সেকেন্ড হলেই বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব সেক্ষেত্রে বিদ্যুতের দাম বেশি পড়ে। কিন্তু ৫ থেকে ৬ মিটার/সেকেন্ড বাতাসের গতিবেগ হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক করা সম্ভব। এখন আধুনিক প্রযুক্তি এসেছে একটি টারবাইন দিয়ে ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।

এই পরিসংখ্যানের পর পায়রায় ৫০ থেকে ১০০ মিটার উচ্চতায় বাতাসের গতি প্রায় দ্বিগুণ বলে জানা যায়।

পায়রার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এ এম খোরশেদুল আলম বলেন, ‘আমরা ৫০ মেগাওয়টের উইন্ড মিল স্থাপন করবো। তবে শুরুতে আড়াই মেগাওয়াটের চারটি উইন্ড মিল স্থাপন করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের ম্যাপিংয়ের কাজ শেষ হলেও অন্যরাও এই তথ্যর ভিত্তিতে উপকূলীয় এলাকায় বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে। যা দেশের জন্য বড় সুফল বয়ে আনবে।’

বর্তমানে বাংলাদেশের কুতুবদিয়া ও ফেনীতে বায়ু বিদ্যুতের দু’টি পাইলট প্রকল্প চালু আছে। কুতুবদিয়ায় এক মেগাওয়াট করে দু’টি ও ফেনীতে এক মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি কেন্দ্র রয়েছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রর ব্যয় হিসেবে বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনে মেগাওয়াট প্রতি ১৫ থেকে ১৬ কোটি টাকা প্রয়োজন হয়।অন্যদিকে তেল ও গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদনে মেগাওয়াট প্রতি ৮ কোটি টাকা, কয়লায় ১২ কোটি টাকা এবং সোলারে ১১ কোটি টাকা প্রয়োজন হয়।সবচেয়ে বেশি খরচ হলেও সুবিধা হচ্ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জ্বালানি খরচ শূন্য বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ