খনির কয়লা দিয়ে বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের চাহিদা মেটানো সম্ভব না

Send
সঞ্চিতা সীতু
প্রকাশিত : ১৯:৪৮, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৪৫, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৮

বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত)

বড়পুকুরিয়া কয়লা চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের চাহিদা মতো কয়লা সরবরাহ করতে পারবে না খনি কর্তৃপক্ষ। ফলে শুধু খনির কয়লা দিয়ে পূর্ণ মাত্রায় ৫২৫ মেগাওয়াটের কেন্দ্রটি চালানো সম্ভব নয়। বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং খনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, ২২ জুলাই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি কয়লা সংকটের কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এরপর শুক্রবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আবার তা চালু করা হলেও পূর্ণ মাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বড়পুকুরিয়া কয়লা চালিত ৫২৫ মেগাওয়াটের তিনটি ইউনিটের জন্য প্রতিদিন কয়লার প্রয়োজন সাড়ে পাঁচ হাজার টন। কিন্তু খনি কর্তৃপক্ষ বলছে, শুক্রবার তাদের উৎপাদন হয়েছে দুই হাজার ৪০০ টন। এখন খনির যে স্তর থেকে কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে সেখান থেকে প্রতিদিন তিন হাজার টনের বেশি কয়লা পাওয়া সম্ভব নয়। এতে প্রতিদিন ঘাটতি থাকে দুই হাজার ৫০০ টন। এর মধ্যে আবার বছরে শিফট পরিবর্তনের জন্য খনির কয়লা উত্তোলন তিন মাস বন্ধ থাকে। সব মিলিয়ে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রর চাহিদার সঙ্গে বাৎসরিক কয়লা উত্তোলনের যে ঘাটতি তা পূরণে আমদানির কোনও বিকল্প নেই।

বিদ্যুৎ সচিব আহমদ কায়কাউস বলেছেন, ‘সরকার কয়লা আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। কয়লা আমদানির জন্য একটি প্রতিনিধি দল সিঙ্গাপুর ঘুরে এসেছেন। আমরা ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে কয়লা একটি স্টক মজুদ রাখার পরিকল্পনা করেছি।’   

পিডিবির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিঙ্গাপুর দূতাবাসের মাধ্যমে কয়লা বিক্রেতার আগ্রহপত্র জমা নিয়েছে পিডিবি।  পিডিবি বলছে, কয়লার বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান কয়লা পরিবহন করে বড়পুকুরিয়া পর্যন্ত পৌঁছে দেবে। সাধারণত সমুদ্রের উপকূল পর্যন্ত কয়লা রফতানিকারকরা পৌঁছে দিলেও অভ্যন্তরীণ পরিবহনের দায়িত্ব নিজ প্রতিষ্ঠানকেই নিতে হয়।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি

পিডিবির সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, এখনও কয়লা পরিবহনে আমাদের কোনও অভিজ্ঞতা নেই। কোনও বন্দরে কয়লা খালাস করার জন্য কোনও আলাদা জেটি নেই। কয়লাতে ডাস্ট থাকাতে আলাদা পরিবহন ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। একই জায়গাতে অন্য পণ্যের সঙ্গে কয়লা পরিবহন করা যায় না। এছাড়াও কয়লা পরিবহনের জন্য দেশের অভ্যন্তরে রেলওয়ের কোনও ওয়াগন নেই। আর ট্রাকে করে কয়লা চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রর জন্য কয়লা সরবরাহ করা সম্ভব নয়।

হিসেব করে দেখা গেছে, প্রতিদিন আড়াই হাজার টন কয়লার ঘাটতি মেটাতে ২০ টনের বড় ট্রাক ব্যবহার করলেও ১২৫টি ট্রাকের দরকার, যা অর্থনৈতিকভাবেও লাভজনক নয়।

এ ব্যাপারে খনি কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল হক এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘বিদ্যুৎকেন্দ্রর প্রথম এবং দ্বিতীয় ইউনিট আমাদের অনুমতি নিয়ে নির্মাণ করলেও তৃতীয় ইউনিটে কয়লা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি আমরা দেইনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘পিডিবিকে আমরা বলেছি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রর জন্য সাড়ে পাঁচ হাজার টন কয়লা সরবরাহ করা সম্ভব নয়। আমাদের সর্বোচ্চ উৎপাদন হতে পারে তিন হাজার টন।’

এদিকে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রর প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল হাকিম বলেন, ‘বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ১১ হাজার টন কয়লার মজুদ নিয়ে আবার চালু করা হয়েছে। কেন্দ্রর ২৭৫ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট চালাতে প্রতিদিন দুই হাজার ৮০০ টন কয়লার দরকার। কিন্তু বড়পুকুরিয়া খনি আমাদের তিন হাজার টনের বেশি কয়লা দিতে পারবে না। এতে করে আমাদের পক্ষে পূর্ণ মাত্রায় ৫২৫ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব না।’

 

/এসএনএস/ এএইচ/

লাইভ

টপ