বাপেক্সের দ্বিগুণ ব্যয়ে গ্যাসকূপ খননের কাজ পাচ্ছে রাশিয়ান কোম্পানি!

Send
সঞ্চিতা সীতু
প্রকাশিত : ২১:৫৫, নভেম্বর ১০, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৫৮, নভেম্বর ১০, ২০১৮

বাপেক্স-গ্যাজপ্রমআরও তিনটি গ্যাস কূপ খননের কাজ পাচ্ছে রাশিয়ান কোম্পানি গ্যাজপ্রম। বাপেক্সের আবিষ্কার করা ‘শাহবাজপুর’ ও ‘ভোলা নর্থ’ নামের দুটি গ্যাসক্ষেত্রে কূপ তিনটির অবস্থান।  জানা গেছে,  প্রতিটি কূপ খননে বাপেক্সে খরচ ৮০ কোটি টাকা হারে তিনটিতে ২৪০ কোটি টাকা। অথচ গ্যাজপ্রম নিচ্ছে ১৬০ কোটি হারে ৪৮০ কোটি টাকা। এতে সরকারকে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্তি ২৪০ কোটি টাকা।  অর্থাৎ দেশীয় অনুসন্ধান ও উত্তোলন কোম্পানি বাপেক্সের তুলতায় দ্বিগুণ ব্যয়ে কূপ খনন করবে গ্যাজপ্রম। বাড়তি দরে কূপ খনন নিয়ে বাপেক্স সংশ্লিষ্টদের অসন্তোষের মধ্যেই রাশিয়ান কোম্পোনিকে কাজটি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাপেক্সের একজন কর্মকর্তা বলেন, গ্যাজপ্রমকে কাজ দেওয়ার বিষয়ে ইতোমধ্যে সরকার অনুমোদন দিয়েছে।এখন তাদের সঙ্গে কূপ খনন করার খরচ নিয়ে দর কষাকষি হবে। কূপগুলো বাপেক্সের। তাই অতিরিক্ত খরচের দায়ও বাপেক্সের ওপর পড়বে। কিন্তু সরকার চাইলে বাপেক্সের কিছু করার থাকে না। নিজেরা কূপ খনন করতে পারলেও তা অন্যদের দিয়ে দিতে হয়।

গ্যাস পাওয়ার নিশ্চয়তা আছে যেখানে, সেখানে বিদেশি কোম্পানিকে বেশি দামে কাজ করতে না দিয়ে কম দামে বাপেক্সকে দিয়ে করানো দরকার বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জানতে চাইলে জ্বালানি বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ভোলা এলাকায় প্রচুর গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এজন্য বেশ কিছু স্থানে কূপখননের পরিকল্পনা করা হয়েছে।এরমধ্যে ভোলা ইলিশা-১, টবগি, ভোলা নর্থ-২ এর গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

বাপেক্স সূত্র জানায়, নতুন এই তিন কূপ খনন করতে বাপেক্সের গড়ে খরচ হতে পারে ২৪০ কোটি টাকা। প্রতিটি কূপ খনন করার জন্য বাপেক্স সর্বোচ্চ ৮০ কোটি টাকা খরচ করে। সেখানে গ্যাজপ্রমকে সব শেষ কূপ খনন করার কাজ দেওয়া হয়েছে প্রতিটি ১৬০ কোটি টাকা। হিসাব করে বলা হচ্ছে, এতে বাপেক্স এর লোকসান হবে ২৪০ কোটি টাকা।

এই অবস্থার মধ্যে গ্যাজপ্রম এই তিন জায়গায় খননের আগ্রহ দেখিয়ে চিঠি দিয়েছে। আর কূপ খনন করার আদেশে সায় দিয়েছে সরকার।বাপেক্সকে বলা হয়েছে, প্রতিটি কূপ খননের দর নির্ধারণে তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে।

বাপেক্সর কর্মকর্তারা অভিযোগ করে বলেন, যেখানে গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা কম, সেখানে বাপেক্সকে দিয়ে কূপ খনন করানো হয়। আর যেখানে গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি, সেখানে বিদেশি কোম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। আমরা বিষয়টি বারবার বলার চেষ্টাও করেছি কিন্তু কেউ আমাদের কথা শোনে না।

সূত্র বলছে, এর আগে তারা দেশের মোট ১৫টি কূপ খনন করেছে। এরমধ্যে প্রথম ১০টি কূপ দেশীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি খরচে করলেও সে তুলনায় গ্যাস পাওয়া যায়নি। বাকি ৫টির অবস্থাও ভালো নয়।

রাশিয়ান গ্যাস কোম্পানিকে দিয়ে প্রথমে যে ১০টি কূপ খনন করা হয়, তাতে ওই সময় বাপেক্সের প্রত্যেকটি কূপের জন্য গ্যাজপ্রমকে দিতে হয় ১ কোটি ৮৬ লাখ ডলার, অন্যদিকে সিলেট গ্যাসফিল্ড লিমিটেড এবং বাংলাদেশ গ্যাসফিল্ড লিমিটেডকে দিতে হয় ২ কোটি ৬ লাখ ডলার। প্রথম দশটি কূপের মধ্যে ছিল বিজিএফসিএলের তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ১৯, ২০, ২১ ও ২২ নম্বর কূপ, সিলেট গ্যাসফিল্ড লিমিটেডের (এসজিএফএল) রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্রের ৮ নম্বর কূপ এবং বাপেক্সের বেগমগঞ্জের ৩ নম্বর, শাহাবাজপুরের ৩ ও ৪, শ্রীকাইল ৩ ও সেমুতাংয়ের ৬ নম্বর উন্নয়ন কূপ খনন করে গ্যাজপ্রম।

এ বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম বলেন, ‘যেখানে দেশীয় কোম্পানির কাজের যোগ্যতা আছে, সেখানে বিদেশি কোম্পানিকে দিয়ে বেশি দামে কাজ করানোর কোনও মানে নেই। অযথা খরচ বাড়বে। আর সেই বাড়তি দামের বোঝা টানবে সাধারণ মানুষ।’ তিনি বলেন, ‘এসব খরচের অজুহাতে বার বার বিতরণ কোম্পানিগুলো গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে আসে।’ যেসব এলাকায় বাপেক্স কাজ করতে পারবে না, সেখানে গ্যাজপ্রমকে দিয়ে কাজ করানো দরকার বলেও তিনি মনে করেন।

/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ