নতুন বীমা করপোরেশন আইনে কী আছে?

Send
শফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত : ১০:১০, ডিসেম্বর ০৫, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৭, ডিসেম্বর ০৫, ২০১৮

সাধারণ বীমা কর্পোরেশন ও জীবন বীমা কর্পোরেশনমন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদন করা হয়েছে বীমা করপোরেশন আইন ২০১৮। সোমবার (৩ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত বর্তমান সরকারের শেষ মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই আইনটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, নতুন বীমা করপোরেশন আইনে কী আছে?

জানা গেছে, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ সালে প্রণীত ‘দ্য ইন্সুরেন্স করপোরেশন অ্যাক্ট ১৯৭৩’ দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে দেশের বীমা খাত। যদিও বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর বীমা আইনকে যুগোপযোগী করতে ১৯৩৮ সালে প্রণীত ‘দ্য ইন্সুরেন্স অ্যাক্ট ১৯৩৮’ বাতিল করে ‘বীমা আইন ২০১০’ এবং দেশের বীমা ব্যবসার তত্ত্বাবধানের জন্য একটি নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ‘বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন ২০১০’ প্রণয়ন করে। এই আইন দিয়েই এতদিন চলছিল দেশের বীমা খাত। তাই নতুন আইনের প্রয়োজন দেখা দেয়, যা ৩ ডিসেম্বর অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

জানা গেছে, নতুনভাবে প্রণীত এই দুটি আইনের সঙ্গে সমন্বয় করে এবং আইনটি ইংরেজি থেকে বাংলায় রূপান্তরের উদ্দেশ্যেই নতুন ‘বীমা করপোরেশন আইন ২০১৮’ মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করে অর্থ  মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। 

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে আরও  জানা গেছে, ২০১৫ সালে ৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ আইনের একটি খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। উপস্থাপিত আইনটিতে ৩৩টি ধারা রয়েছে। এ আইনে বাতিল করা  ‘দ্য ইন্সুরেন্স করপোরেশন অ্যাক্ট ১৯৭৩’ এর সঙ্গে যেসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে—

বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে অপ্রয়োজনীয় বিবেচনায় নতুন আইনে ‘দ্য ইন্সুরেন্স অ্যাক্ট, ১৯৭৩’ এর ৩, ১৪, ১৪এ, ২৪, ২৭, ও ৩২ ধারা বাদ দেওয়া হয়েছে।     

১৯৭৩ সালের বীমা আইনে জীবন বীমা করপোরেশনের অনুমোদিত ও পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ছিল ২০ কোটি টাকা। নতুন আইনে এ ক্ষেত্রে পরিবর্তন করে অনুমোদিত মূলধন ৩০০ কোটি এবং পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। একইভাবে সাধারণ বীমা করপোরেশনের ক্ষেত্রে অনুমোদিত মূলধন ৫০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ নির্দিষ্ট করা হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। এর ফলে উভয় করপোরেশনের মূলধনের পরিমাণ সম্প্রসারিত হবে।

বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদেরকে অন্তর্ভুক্তির সুবিধার্থে উভয় করপোরশনের (জীবন বীমা ও সাধারণ বীমা) পরিচালনা বোর্ডের সদস্য সংখ্যা ৭ থেকে বাড়িয়ে ১০জন করা হয়েছে। বোর্ডের পরিচালকের সংখ্যা বাড়ার কারণে কোরাম সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।  নতুন আইনে বলা হয়েছে— করপোরেশন পরিচালনা বোর্ডের বৈঠক করার জন্য ন্যূনতম ৫ জন সদস্যের প্রয়োজন হবে,আগের আইনে কোরাম হতো ৩ জনে।

করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় সুশাসন আনতে এবং বোর্ড সদস্যদের পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় বিধান সংযোজন করে পরিচালকদের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা সংক্রান্ত ধারাটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।

নতুন আইনে সরকারি সম্পত্তির বীমা করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান ধারাটি পরিবর্তন করা হয়েছে। ১৯৭৩ সালের আইনে সরকারি সম্পত্তির ৫০ শতাংশের বীমা বাধ্যতামূলকভাবে সাধারণ বীমা করপোরেশন বা অন্য বীমা কোম্পানির কাছে বীমা করার বিধান ছিল। নতুন আইনের ১৬(১) ধারা মোতাবেক সরকারি সম্পত্তির ১০০ শতাংশের বীমা সাধারণ করপোরেশন অবলিখন (আন্ডার রাইট) করে তার ৫০ শতাংশ নিজের কাছে রেখে বাকি ৫০ শতাংশ সব বেসরকারি বীমা কোম্পানির মধ্যে সমান হারে বণ্টন করবে। এই পদ্ধতিটি ১৯৯০ সালের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যস্থতায় সাধারণ বীমা করপোরেশন এবং অন্য সব বেসরকারি বীমা কোম্পানির মধ্যে সম্পাদিত এমওইউ বলে বর্তমানে চালু আছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরষদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, নতুন আইনটি খুবই যুগোপযোগী। বীমা একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ খাত। তাই এ খাতের উন্নয়নে সরকার নতুন আইন তৈরি করেছে। আশা করা যাচ্ছে, এর ফলে বীমা খাত আরও সম্প্রসারিত হবে।

/এসআই/টিএন/এপিএইচ/

লাইভ

টপ