‘সোনালি ব্যাগ’ শিগগিরই বাজারজাত করা হবে: পাটমন্ত্রী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:৫৭, জানুয়ারি ২৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:০৫, জানুয়ারি ২৯, ২০১৯





যত দ্রুত সম্ভব পাট থেকে তৈরি ‘সোনালি ব্যাগ’ বাজারজাতকরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী।
মঙ্গলবার (২৯ জানুয়ারি) ঢাকার ডেমরার লতিফ বাওয়ানী জুট মিলস পরিদর্শনের সময় তিনি এ কথা জানান।
এ সময় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) চেয়ারম্যান শাহ মো. নাসিম, সোনালি ব্যাগের উদ্ভাবক ও বিজেএমসি বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা ড. মোবারক হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, পাট বাংলাদেশের মহামূল্যবান সম্পদ। এই সম্পদ কাজে লাগিয়ে দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। সরকার থেকে যে বাজেট লাগবে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সেটার ব্যবস্থা করবে। পাটের তৈরি সোনালি ব্যাগ খুব দ্রুত বাংলাদেশকে সারাবিশ্বে ব্র্যাডিং করবে। সেজন্য সরকার যত দ্রুত সম্ভব পাট থেকে তৈরি পলিথিন ব্যাগ বাজারজাতকরণে যাবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে বিজেএমসির উদ্যোগে একটি ম্যানুয়েল পাইলট প্ল্যান্ট দিয়ে ‘সোনালি ব্যাগ’ তৈরির কাজ চলছে। তবে বৃহৎ পরিসরে নতুন উদ্ভাবিত সোনালি ব্যাগ তৈরিতে মেশিনের জন্য বিভিন্ন দেশে যোগাযোগ করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে দেশীয় প্রযুক্তিতে মেশিন তৈরি করা হয়েছে। এতে প্রতিদিন ৩-৪ হাজার পলিব্যাগ উৎপাদন করা সম্ভব।
গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, বাংলাদেশে এই প্রথম পাট থেকে সোনালি ব্যাগ তৈরি হচ্ছে। সরকার চায় সারাবিশ্বে পাটের ব্যবহার ছড়িয়ে দিতে। বাংলাদেশকে সবাই এই পাটের মাধ্যমে আরও বেশি সম্মান দেবে। সারাবিশ্ব বাংলাদেশকে অনুকরণ করবে। এই সোনালি ব্যাগ পরিবেশবান্ধব। এটি খুব সহজে পচে যায়।
সোনালী ব্যাগের উদ্ভাবক ও বিজেএমসির বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা ড. মোবারক হোসেন বলেন, এই ব্যাগ পলিথিন ব্যাগের চেয়ে দেড়গুণ বেশি শক্তিশালী। সরকারের কাছে আবেদন এটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে খুব শিগগির ব্যবস্থা নেবে।
তিনি বলেন, ২০০৮ সালে আমি গবেষণা শুরু করেছি। সরকার যে সাপোর্ট দিয়েছে তাতে আশার আলো দেখতে পারছি। এজন্য আরও নতুন মেশিন দরকার। অটোমেশন করতে হলে বিদেশি মেশিন দরকার।
জানা গেছে, বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর আবিষ্কৃত পলিথিনের বিকল্প পচনশীল সোনালি ব্যাগ দেখতে প্রচলিত পলিথিনের মতোই হালকা, পাতলা ও টেকসই। পাটের সূক্ষ্ম সেলুলোজকে প্রক্রিয়াজাত করে এ ব্যাগ তৈরি করা হয়েছে। পাটের তৈরি সোনালি ব্যাগ মাটিতে ফেললে তা মাটির সঙ্গে মিশে যাবে। এই ব্যাগ দামেও সাশ্রয়ী হবে। এভাবে পাটের ব্যবহার বাড়লে ন্যায্য দাম পাবেন কৃষক। অতীতের মতো বাংলাদেশ পাট দিয়েই বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত হবে।
উল্লেখ্য, পলিথিনের বিকল্প পচনশীল সোনালি ব্যাগ তৈরির প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয় ২০১৭ সালের ১২ মে। রাজধানীর ডেমরায় লতিফ বাওয়ানী জুটমিলে সোনালি ব্যাগ তৈরির প্রাথমিক পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়।
২০১৮ সালের ২ অক্টোবর থেকে পাট থেকে সোনালী ব্যাগ বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের জন্য যুক্তরাজ্যের ফুটামুরা কেমিক্যাল লিমিটেডের সঙ্গে বিজেএমসির একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং একটি এনডিএ সই হয়েছে।

/এসআই/এইচআই/

লাইভ

টপ