ঋণখেলাপিদের সামাজিকভাবে বয়কটের পরামর্শ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:৪৯, ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৫১, ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০১৯

ঋণখেলাপি

ঋণখেলাপিদের সামাজিকভাবে বয়কটের পরামর্শ দিয়েছেন ব্যাংক খাতের প্রধান নির্বাহীরা (এমডি)। খেলাপি ঋণ কমানো নিয়ে একটি পরামর্শক সভায় তারা বলেন, খেলাপি ঋণ আদায় করতে হলে সামাজিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে। ঋণখেলাপিরা যাতে দেশের বাইরে ভ্রমণে যেতে না পারেন, সেজন্য তাদের পাসপোর্ট নবায়ন আটকে দেওয়া যেতে পারে। এমন পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, যাতে তারা দেশের ভেতরে ভ্রমণের প্লেন টিকিটও কিনতে না পারেন।

বুধবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে এ সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেখানে এসব সুপারিশ তুলে ধরেন বিভিন্ন ব্যাংকের এমডিরা।

সভায় বাংলাদেশ আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বিএম খায়রুল হকসহ কমিশনের সদস্যরা ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর এমডিরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা চলে এই সভা।

সভায় ঋণখেলাপিদের সন্তানদের ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ আটকে দেওয়া যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন কেউ কেউ। এমডিরা উল্লেখ করেন,  ঋণখেলাপি ব্যক্তি যাতে গাড়ি কিনতে না পারেন, বাড়ি কিনতে না পারেন, এমন পদক্ষেপ গ্রহণ নিয়ে ভাবার সময় এসেছে।

প্রসঙ্গত, ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণ এখন ৯৯ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। এর সঙ্গে অবলোপন করা আছে আরও প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা।

সভায় ব্যাংকের এমডিরা খেলাপি ঋণ বাড়ার বাস্তব দিকগুলো তুলে ধরেন। কেন ঋণ আদায় করা যাচ্ছে না, সেটিও তারা জানান।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘খেলাপি ঋণ নিয়ে সভাটি হয়েছে। এখানে খেলাপি ঋণ কিভাবে কমানো যায়, সেটি ওঠে এসেছে। আলোচনা কেবল শুরু হলো; আলোচনা চলবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘খেলাপি ঋণ কমাতে বিদ্যমান আইনগুলো যদি সংস্কার ও যুগপোযোগী করার দরকার হয়, সেটি করা হবে। আমরা নিজেরাও পর্যবেক্ষণ করছি। ব্যাংকাররা আজ জানিয়েছেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন, অর্থ ঋণ আদালত আইন ও দেউলিয়া আইনের কিছু বিষয় সংস্কার দরকার। কারণ, অনেকেই ব্যাংকের দায় পরিশোধ না করে আদালতে চলে যাচ্ছেন। সেখান থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে আসছেন।’

সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে কোনও পক্ষ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। ইচ্ছেকৃত খেলাপিদের ধরা হবে।’

ইচ্ছেকৃত খেলাপি কীভাবে শনাক্ত করা হবে –এমন প্রশ্নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করেন না, কিন্তু বিলাসী জীবনযাপন করছেন –এরাই ইচ্ছেকৃত খেলাপি। ব্যবসা করেন ভালো, কিন্তু ঋণ পরিশোধ করেন না, তারা ইচ্ছেকৃত খেলাপি।’

ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘টাকা নিলে ফেরত দিতে হবে –এই মানসিকতা তৈরি করতে হবে। ঋণখেলাপিদের সামজিকভাবে কিভাবে ঠেকানো যায়, সেগুলো নিয়ে আলাপ হয়েছে। তবে বিস্তারিত এখনই বলা যাচ্ছে না। সভা শুরু হলো, এটিও একটি পদক্ষেপ। আমরা আশাবাদী, নিশ্চয়ই একটা পথ বের হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা খেলাপি ঋণ কমাতে চাই, সরকারও এটি কমাতে চাচ্ছে। এজন্য পরামর্শক সভা হলো। এরপর আরও সভা হবে। আমরা আমাদের পরামর্শ তুলে ধরেছি। আইনি সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক, আইন কমিশন, আইন মন্ত্রণালয়, বিচারপতি ও অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় সবাই একসঙ্গে কাজ করা হবে।’

জানা যায়, বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষেও বেশ কিছু সুপারিশ ওঠে এসেছে। ঋণ পুনঃতফশিলিকরণসহ মন্দ ঋণ বেচাকেনার পদ্ধতি চালুর বিষয়টি আলোচনায় নিয়ে আসা হয়।

/জিএম/এমএ/

লাইভ

টপ