খেলাপি ঋণ কম দেখাতে এবার অবলোপনে ছাড়

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২২:৩৭, ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৩৯, ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০১৯

বাংলাদেশ ব্যাংক

ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার অংশ হিসেবে এবার অবলোপনে (রাইট অফ) ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ অবলোপন নীতিমালায় সংশোধন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নীতিমালা অনুযায়ী, এখন থেকে ৩ বছর হলেই মন্দমানের (কু-ঋণ) খেলাপি ঋণ অবলোপন করতে পারবে ব্যাংকগুলো। আগে ৫ বছর না হলে খেলাপি ঋণ অবলোপন করা যেত না। এছাড়া আগে মাত্র ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত খেলাপি ঋণ মামলা ছাড়াই অবলোপন করার সুযোগ ছিল; এখন তা বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। 

বুধবার(৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে খেলাপি ঋণ অবলোপনের এ নীতিমালা জারি করা হয়েছে। 

দীর্ঘদিন ব্যাংক ব্যবস্থায় থাকা মন্দমানের (কু-ঋণ) খেলাপি ঋণ আর্থিক বিবরণী (ব্যালান্সশিট) থেকে বাদ দেওয়াকে ঋণ অবলোপন বলা হয়। ব্যাংকের মূল হিসাবে খেলাপি ঋণ কম দেখাতেই এ ধরনের ছাড় দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 সূত্র বলছে, বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম, রাজনৈতিক চাপ ও তদবিরে ব্যাংকের পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের  বাছবিচার ছাড়াই ঋণ অনুমোদন দেওয়া,  আর বিভিন্ন অজুহাতে ঋণগ্রহীতার  সময়মতো ঋণ ফেরত না দেওয়ার সংস্কৃতির কারণে প্রতি বছরই খেলাপি ঋণ বাড়ছে। যার বড় অংশই নির্দিষ্ট সময়ান্তে মন্দমানে পরিণত হচ্ছে। এসব ঋণ আদায়ের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। তাই এ মানের ঋণ ব্যাংকের মূল হিসাবে অতিমাত্রায় স্ফীত হওয়ার আশঙ্কায় ২০০৩ সাল থেকে তা অবলোপনের সুযোগ করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। 

নতুন নীতিমালায় বলা হয়, যে সব ঋণ হিসাবের বকেয়া দীর্ঘদিন আদায় বন্ধ রয়েছে, নিকট ভবিষ্যতে আদায়ের সম্ভাবনাও নেই এবং যে সব ঋণ এক নাগাড়ে ৩ বছর মন্দমানে খেলাপি হিসেবে রয়েছে সেসব ঋণ হিসাব ব্যাংকগুলো অবলোপন করতে পারবে। পাশাপাশি ব্যাংক নিজস্ব বিবেচনায় মৃত ব্যক্তির নিজ নামে অথবা তার একক মালিকানাধিন প্রতিষ্ঠানের নামে গৃহীত ঋণ শ্রেণিমান নির্বিশেষে ও অর্থঋণ আদালত আইন-২০০৩ অনুযায়ী মামলাযোগ্য না হলে মামলা না করেই অবলোপন করতে পারবে। তবে একক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির উপার্জনক্ষম উত্তরসূরী রয়েছে কিনা তা বিবেচনায় নিতে হবে।

নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়, অবলোপনযোগ্য ঋণের বিপরীতে ব্যাংকের অনুকূলে বন্ধক রাখা সম্পত্তি নিয়ম অনুসারে বিক্রির চেষ্টা করা এবং ব্যাংকে নিশ্চয়তা প্রদানকারী ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ আদায়ে সমর্থ না হলে সেই ঋণ অবলোপনের আওতায় আসবে। অবলোপনের জন্য নির্বাচিত ঋণ হিসাবগুলোর ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়ে থাকলে অবলোপনের আগে অবশ্যই অর্থঋণ আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে। তবে ক্ষুদ্র অংকের ঋণের ক্ষেত্রে মামলা দায়েরের খরচ বেশি হওয়ায় ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে মামলা দায়ের ছাড়াই অবলোপন করা যাবে। আগে মামলা ছাড়াই ৫০ হাজার টাকার কম অংকের ঋণ অবলোপনের সুযোগ রাখা হয়েছিল।

তবে নতুন নীতিমালায় অবলোপন করা ঋণের প্রভিশন আগের মতোই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অবলোপনযোগ্য সব ঋণেই শতভাগ প্রভিশন রাখতে হবে। বলা হয়েছে, অবলোপনের আগে সংশ্লিষ্ট ঋণ হিসাবের স্থিতি হতে রাখা স্থগিত সুদ বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট ঋণস্থিতির সমপরিমাণ প্রভিশন সংরক্ষিত থাকতে হবে। এক্ষেত্রে অবলোপনের জন্য চিহ্নিত প্রতিটি ঋণ হিসাবের বিপরীতে রক্ষিত প্রভিশন পর্যাপ্ত না হলে ব্যাংকের চলতি বছরের আয়খাত বিকলন করে অবশিষ্ট প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে। কোনও ঋণ হিসাব আংশিকভাবে অবলোপন করা যাবে না। পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়া কোনও ঋণ অবলোপন করা যাবে না। 

নীতিমালা অনুযায়ী, অবলোপন করা ঋণ আদায়ের জন্য প্রত্যেক ব্যাংকে পৃথক ডেট কালেকশন ইউনিট গঠন করতে হবে। এছাড়া অবলোপ করা ঋণ হিসাবের বিপরীতে দায়েরকৃত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং অবলোপন করা ঋণের বিপরীতে প্রাপ্য অর্থ আদায়ের জন্য প্রয়োজনে তৃতীয় পক্ষ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে নিয়োজিত করা যাবে।  অবলোপনকৃত ঋণের হিসাব পৃথক লেজারে সংরক্ষণ করতে হবে এবং ব্যাংকের আর্থিক বিবরণীতে ব্যাংক কোম্পানি আইনের আওতায় রিপোর্ট করতে হবে। কোনও অবস্থাতেই অবলোনকৃত ঋণ পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠন করা যাবে না।  খেলাপিঋণ গ্রহীতার ঋণ অবলোপন হলেও সংশ্লিস্ট গ্রহীতা তার দায় সম্পূর্ণ পরিশোধ না করা পর্যন্ত খেলাপি ঋণগ্রহীতা হিসেবে চিহ্নিত হবেন। ব্যাংকের পরিচালক কিংবা সাবেক পরিচালক এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঋণ বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া অবলোপন করা যাবে না। এছাড়া অবলোপনকৃত ঋণের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবিতে যথারীতি রিপোর্ট করতে হবে।  

/জিএম/টিএন/

লাইভ

টপ