জিএসপি স্থগিত থাকায় বাংলাদেশের ইমেজের ক্ষতি হয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:০৫, মার্চ ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:১২, মার্চ ১৪, ২০১৯

 

২৬তম ইউএস ট্রেড শো’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা রাখছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি 

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন,  বাংলাদেশ সুনামের সঙ্গে এবং সফলভাবে বিশ্ববাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের একক ক্রেতা হিসেবে সবচেয়ে বড় দেশ। উভয় দেশের বাণিজ্য ভারসাম্য বাংলাদেশের পক্ষে। গত ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৫ হাজার ৯৮৩ দশমিক ৩১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রফতানি করেছে, একই সময়ে আমদানি করেছে ১ হাজার ৭০৩ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রফতানি বাড়ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) আমেরিকান চেম্বার অফ কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) এবং ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস আয়োজিত তিনদিনব্যাপী “২৬তম ইউএস ট্রেড শো-২০১৯” এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

আমেরিকান চেম্বার অফ কমার্স ইন বাংলাদেশ এর প্রেসিডেন্ট মো. নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ইয়াল আর. মিলার।

২৬তম ইউএস ট্রেড শো ফিতা কেটে উদ্বোধন করছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ও অ্যামচেম এর সভাপতি নুরুল ইসলাম। (ছবি: ফোকাস বাংলা)

অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশ কোনও জিএসপি সুবিধা আগেও পেতো না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে। টোব্যাকো, সিরামিক, প্লাস্টিকের মতো কিছু পণ্য রফতানির ওপর জিএসপি সুবিধা দেওয়া হতো। অপ্রত্যাশিত রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর সে জিএসপি সুবিধাও স্থগিত করা হয়। তৈরি পণ্যের ক্রেতা গোষ্ঠীর পরামর্শ অনুযায়ী বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের কারখানাগুলোর পরিবেশ উন্নতসহ, বিল্ডিং সেফটি, ফায়ার সেফটি ইত্যাদি নিশ্চিত করা হয়েছে। শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এখন জিএসপি স্থগিত রাখার কোনও কারণ নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উচিত হবে জিএসপি সুবিধা  বাংলাদেশ দেশকে ফিরিয়ে দেওয়া। জিএসপি স্থগিত থাকায় বাংলাদেশের তেমন আর্থিক কোনও ক্ষতি না হলেও ইমেজের ক্ষতি হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত স্থান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ১০০টি স্পেশাল ইকোনমিক জোনে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিশেষ সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। মার্কিন বিনিয়োগকারীরাও এ সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন।

উল্লেখ্য, এবারের মেলায় দেশটির ৪৬টি প্রতিষ্ঠানের ৭৪টি স্টল রয়েছে। মেলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত মানের পণ্য ও সেবা প্রদর্শনীর পাশাপাশি বিভিন্ন পণ্য বিক্রয় হবে। প্যানপ্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের বল রুমে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত মেলা দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। মেলায় প্রবেশ ফি ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে স্কুল শিক্ষার্থীরা ড্রেস পরে এবং নিজের আইডি কার্ড প্রদর্শন করে ফি ছাড়া মেলায় প্রবেশ করতে পারবে।

/এসআই/টিএন/

লাইভ

টপ