এ বছরই ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ!

Send
সঞ্চিতা সীতু
প্রকাশিত : ২০:১০, এপ্রিল ০৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:১৫, এপ্রিল ০৬, ২০১৯





বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন (ছবি: সংগৃহীত)দেশের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে সংশোধিত বাজেট বরাদ্দ থেকে চলতি অর্থবছরের জন্য আরও এক হাজার ৭৪৮ কোটি টাকা চেয়েছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)। এ বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির আওতায় থাকা ৪৬১ উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্যে কাজ চলছে। এরই মধ্যে ৩০৫ উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ শেষ করার দাবিও করেছে তারা। আরইবি বলছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হলে অতিরিক্ত এই টাকা প্রয়োজন।
বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব আহমদ কায়কাউসকে লেখা এক চিঠিতে আরইবি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মঈন উদ্দিন অতিরিক্ত এই টাকা চেয়েছেন।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরইবির একজন কর্মকর্তা বলেন, সময়মতো প্রকল্পগুলোর কাজ শুরু হয়নি। সঙ্গত কারণে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা শেষও হবে না। হয়তো প্রকল্পগুলোর মেয়াদ আরও বৃদ্ধির প্রয়োজন হতে পারে।
প্রসঙ্গত, এ বছরের জুনে দেশের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারিত ছিল।
আরইবি সূত্র জানায়, সংশোধিত বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) আরইবি শতভাগ বিদ্যুতায়নের জন্য মোট ১৮টি প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ চেয়েছিল সাত হাজার ৮৮০ কোটি ১৪ লাখ টাকা। কিন্তু বরাদ্দ পেয়েছে ছয় হাজার ১৩১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। যা তাদের চাহিদার তুলনায় এক হাজার ৭৪৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা অর্থাৎ ২২ ভাগ কম। এ অবস্থায় আরইবি তাদের বরাদ্দ বাড়ানোর আবেদন করেছে।
আরইবির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মইন উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সংশোধিত এডিপিতে আমরা দুই হাজার ৩০০ কোটি টাকা চেয়েছি। ৬১২ কোটি টাকা এরই মধ্যে দেওয়া হয়েছে। পরে আরও এক হাজার ১০০ কোটি টাকা দেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি পেয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘সংশোধিত বাজেটের পরে অনেক মন্ত্রণালয় অর্থ খরচ করতে না পেরে ফিরিয়ে দেয়। সেখান থেকে পরের এক হাজার ১০০ কোটি টাকা দেওয়ার আবেদন করেছি আমরা। তারা আমাদের টাকা দেওয়ার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছে।’
বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সংশোধিত এডিপিতে বিদ্যুৎ খাতের জন্য দুই হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া আমরা আরও ৫০০ কোটি টাকা বাড়ানোর আবেদন করেছি। যার বেশির ভাগ ব্যয় হবে আরইবির শতভাগ বিদ্যুতায়নের জন্য।’
আরইবি জানায়, সারাদেশে বিদ্যুৎ ছড়িয়ে দেওয়ার তিন প্রকল্পে আরইবির মোট ১৮ হাজার ১৭৮ কোটি টাকা প্রয়োজন। এর মধ্যে একটি বড় অংশ আসবে বাজেট থেকে। এই বাজেটের বিপরীতে গত বাজেট পর্যন্ত তারা বরাদ্দ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৫৪ কোটি টাকা। প্রকল্পগুলো ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে শুরু হয়েছে। শুধু বিদ্যুৎব্যবস্থা সম্প্রসারণের তিনটি প্রকল্পের মধ্যে দুটির মেয়াদ শেষ হবে এ বছর। তৃতীয়টির মেয়াদ শেষ হবে আগামী বছর।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরইবির একজন কর্মকর্তা জানান, শতভাগ বিদ্যুতায়নের প্রকল্পগুলোতে আরইবি নিজস্ব তহবিল থেকে ২০ ভাগ এবং সরকাররের কাছ থেকে ৮০ ভাগ অর্থ নিয়ে থাকে। সময়মতো প্রকল্পগুলোর কাজ শুরু হয়নি। সঙ্গত কারণে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা শেষও হবে না। হয়তো প্রকল্পগুলোর মেয়াদ আরও বৃদ্ধি প্রয়োজন হতে পারে।
যদিও বিদ্যুৎ বিভাগে দেওয়া চিঠিতে আরইবি চেয়ারম্যান দাবি করেন, তিনি চাহিদামতো বাজেট বরাদ্দ পাননি। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের ৪৬১ উপজেলাকে আরইবি শতভাগ বিদ্যুতায়িত করতে চায়।
জানা গেছে, আরইবির চলমান ১৮টি প্রকল্পের মধ্যে চারটি চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শেষ হবে। বাকি ১৪টি প্রকল্পের মধ্যে ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি প্রকল্প তিনটি, দক্ষতা বৃদ্ধি প্রকল্প দুটি, নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্প ছয়টি এবং অন্য প্রকল্প রয়েছে তিনটি।
আরইবি তাদের চিঠিতে বলেছে, বিদ্যুৎ বিতরণ সম্প্রসারণ চারটি প্রকল্পের মধ্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ কার্যক্রমের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ৪৬১টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে গত ফ্রেব্রুয়ারির মধ্যে ৩০৫টি উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়িত হয়েছে।
নেটওয়ার্ট সম্প্রসারণ চারটি প্রকল্পের মধ্যে তিনটি প্রকল্পের জন্য মোট ডিপিপি সংস্থান করা হয়েছিল ১৮ হাজার ১৭৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে পাওয়া গেছে ৯ হাজার ৩৫৪ কোটি টাকা। তিনটি প্রকল্পের মধ্যে শতভাগ পল্লী বিদ্যুতায়নের জন্য বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ (ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ) প্রকল্পের জন্য ২০১৫ থেকে ২০১৯ অর্থবছর পর্যন্ত মোট পাঁচ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা প্রয়োজন। শতভাগ পল্লী বিদ্যুতায়নের জন্য বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ (রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগ) প্রকল্পের জন্য মোট পাঁচ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা প্রয়োজন। পল্লী বিদ্যুতায়ন সম্প্রসারণের মাধ্যমে ১৫ লাখ গ্রাহক সংযোগ (১৯ দশমিক ৫ লাখ গ্রাহক সংযোগের সংস্থানসহ প্রথম সংশোধন) প্রকল্পের জন্য মোট ছয় হাজার ৯১৬ কোটি টাকা প্রয়োজন।
আরইবি চিঠিতে আরও জানায়, চলমান ১৮টি প্রকল্পের বিপরীতে ২৩০১৮-১৯ অর্থবছরে এডিপি বরাদ্দ সাত হাজার ৪৭৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এর মধ্যে জিওবি পাঁচ হাজার ৫১৭ কোটি ৯০ লাখ এবং পিএ এক হাজার ৯৬১ কোটি দুই লাখ টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় এ বছরের মার্চ পর্যন্ত আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ছয় হাজার ৫১৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা, অর্থাৎ ৮৭ দশমিক ১০ ভাগ কাজ হয়েছে। কাজের মধ্যে ৫০ হাজার ৫০০ কিলোমিটার লাইন, ১০৭টি ৩,৩১১ কেভি উপকেন্দ্র নির্মাণ অথবা উন্নয়নের মাধ্যমে ২৫ লাখ গ্রাহককে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে নতুন অনুমোদিত একটি প্রকল্পসহ মোট ১৮টি প্রকল্পের বিপরীতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে সাত হাজার ৮৮০ কোটি ১৪ লাখ টাকা চাওয়া হয়। এর মধ্যে ছয় হাজার ১৩১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। যা চাহিদার চেয়ে এক হাজার ৭৪৮ কোটি ৬৮ কোটি টাকা কম।

/এইচআই/

লাইভ

টপ