বিজিএমইএ ভবন ভাঙা নিয়ে মন্তব্য নেই ব্যবসায়ীদের

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৭:২২, এপ্রিল ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৫৪, এপ্রিল ১৬, ২০১৯





রাজধানীর হাতিরঝিলে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র ভবন ভেঙে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে ভাঙার এ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় কোনও মন্তব্য করতে চান না ব্যবসায়ী নেতারা।
বিজিএমইএ’র নতুন সভাপতি রুবানা হকসহ ব্যবসায়ী নেতারা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তারা আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। বিজিএমইএ'র যেসব নেতা ভবনটি রাখার পক্ষে ছিলেন তারাও বলছেন, মন্তব্য করা যাবে না। আদালতের প্রতিও তারা সমান শ্রদ্ধাশীল।
বিজিএমইএ’র বর্তমান সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সর্বোচ্চ আদালতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমরা নতুন ভবনে স্থানান্তরিত হয়েছি। ফলে ভবন ভেঙে ফেলার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার সুযোগ নেই।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এর আগে তারা ভবনটিকে রক্ষার চেষ্টা করলেও এখন সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। নিজেদের কার্যক্রম হাতিরঝিলের ভবন থেকে সরিয়ে নিলেও ভবনটি রেখে দেওয়ার পক্ষে অবস্থান ছিল এই নেতাদের।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) বিজিএমইএ ভবনটি ভাঙার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। সংস্থাটির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অলিউর রহমান জানিয়েছেন, ভবনটিতে এখনও থাকা মালামাল সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে। জানা গেছে, কন্ট্রোলড ডেমোলিশন বা নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ পদ্ধতি ব্যবহার করে ভবনটি ভাঙা হবে।
এর আগে অবশ্য ভবনটিকে পোশাক শ্রমিকদের কল্যাণে হাসপাতাল বা অন্য কোনও সেবামূলক সংস্থা গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন ব্যবসায়ী নেতারা।
উল্লেখ্য, রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই গড়ে ওঠা বিজিএমইএ’র এই ভবন ভাঙা নিয়ে আলোচনা শুরু হয় প্রায় ৯ বছর আগে। ২০১০ সালে একটি জাতীয় দৈনিকে ভবনটি নির্মাণে রাজউকের অনুমোদন না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনটি হাইকোর্টের নজরে আনা হলে ভবনটি কেন ভাঙা হবে না, তা জানতে চেয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন আদালত। পরে ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ ভবনটি ভেঙে ফেলার রায় দেন।
এরপর আপিল ও রিভিউয়ে ভবনটি ভাঙার সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে দফায় দফায় সময় প্রার্থনা করে বিজিএমইএ। সর্বশেষ গত বছরের ৩ এপ্রিল বিজিএমইএ’কে এক বছরের সময় দেন সর্বোচ্চ আদালত।
এই সময় শেষ হওয়ায় বিজিএমইএ ভবনটি ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে অবশ্য উত্তরায় নিজেদের নতুন কমপ্লেক্স তৈরি করেছে বিজিএমইএ। ১৩ তলা ভবনটির ষষ্ঠ তলা পর্যন্ত নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। সেখানেই নিজেদের কার্যক্রম শুরু করেছে বিজিএমইএ।




আরও পড়ুন...

নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ পদ্ধতিতে ভাঙা হবে বিজিএমইএ ভবন: রাজউক

/জিএম/এইচআই/এমএমজে/

লাইভ

টপ