‘সরকারের ১০০ দিনে শেয়ারবাজারে সুশাসন দেখা যায়নি’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০৬:১৪, এপ্রিল ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৬:২৪, এপ্রিল ২৪, ২০১৯

াা‘বর্তমান সরকারের ১০০ দিনে শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনয়নে সুশাসন দেখা যায়নি’ বলে মন্তব্য করেছেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার পর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সিরডাপ মিলনায়তনে সিপিডি আয়োজিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন। বর্তমান সরকারের ১০০ দিন উপলক্ষে এ মিডিয়া ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

এ সময় খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘শেয়ারবাজারে এখনও সুশাসনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট ছাড় দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। তিনি বলেন, শেয়ারবাজারে কারসাজির সঙ্গে জড়িত দুষ্ট চক্রকে থামাতে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বড় কোনও উদ্যোগ নেয় না।’

গোলাম মোয়াজ্জেম শেয়ারবাজারের অনিয়মের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে বিএসইসির যে ধরনের জোরালো ভূমিকা নেওয়ার কথা, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা দেখা যায় না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিএসইসি পদক্ষেপ নেয় বটে, তবে বাজারের কারসাজি বন্ধে দুষ্ট চক্র থামানোর যে উদ্যোগ নেওয়ার কথা, সেক্ষেত্রে বড় কোনও উদ্যোগ দেখা যায় না।  এমনকি এমন অভিযোগ রয়েছে, একজন যে পরিমাণ অনিয়ম করে থাকে, তার বিরুদ্ধে যে পরিমাণ অর্থদণ্ড করা হয়, তাতে এ ধরনের কাজের সঙ্গে যারা যুক্ত তারা আরও উৎসাহিত হন। তার কারণ, আর্থিক দণ্ড তার জন্য খুব বেশি সমস্যা না। সুতরাং সুশাসনের ক্ষেত্রে ছাড় দিয়ে পুঁজিবাজারকে আস্থার জায়গায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।’

আগামী দিনে শেয়ারবাজার সংস্কারের ওপর সব থেকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমরা সুশাসনের বিষয়ে ২০১০ সালেও বলেছি। এখনও সেই ঘাটতি রয়েছে।’ 

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের পরপরই আমরা শেয়ারবাজারে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখলাম। এক মাস পর আবার সূচক আগের অবস্থানে চলে আসলো। এখানে কৃত্রিমভাবে শেয়ারবাজারের উল্লম্ফন করা হয়েছিল কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।’

তিনি শেয়ারবাজারের সমস্যা প্রসঙ্গে বলেন, `সাম্প্রতিক সময় শেয়ারবাজারে কিছু সমস্যার কথা শোনা যাচ্ছে এবং জানতে পেরেছি। এর মধ্যে একটি বড় সমস্যা প্লেসমেন্ট শেয়ার। এ নিয়ে গণমাধ্যমে নিউজ এসেছে। যেখানে ইনফরমাল মার্কেট গড়ে ওঠার অভিযোগ রয়েছে এবং সরকার বিষয়টি সংস্কারে কাজ করছে।’

এ সময় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক। তিনি বলেন, ‘যে কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে আনা হচ্ছে এবং এ ক্ষেত্রে যে রিপোর্টি জমা দেওয়া হচ্ছে, সেগুলো নিয়ে অভিযোগ করা হচ্ছে। এমনকি বিএসইসির চেয়ারম্যানও রিপোর্টগুলো নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন। যে রিপোর্টগুলো তথ্য উপাত্তের দিক দিয়ে ভুল। যেখানে অনেক ধরনের দুষ্টতা থাকতে পারে। যে কারণে নতুন কোনও কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসার কিছুদিন পরে অভিহিত মূল্যের নিচে নেমে যায়। এখান থেকে প্রতীয়মান হয় যে, কোম্পানিগুলো যেভাবে এবং যারা মূল্যায়ন করছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। কিন্তু এক্ষেত্রে বড় কোনও ধরনের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।’

 

 

/জিএম/এমএএ/

লাইভ

টপ