যেসব শর্তে আরও ২৮১ দিন সময় পেলো অ্যাকর্ড

Send
বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৭:১৩, মে ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৪৫, মে ২৭, ২০১৯

বাংলাদেশে ইউরোপের ক্রেতাদের সমন্বয়ে গঠিত কারখানা পরিদর্শন জোট অ্যাকর্ডের কার্যক্রম চালাতে ২৮১ দিন সময় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। বিজিএমইএ’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এক্ষেত্রে চারটি শর্তের বিষয়ে একমত হয়েছে অ্যাকর্ড। শর্তগুলো নিম্নরূপ: 

০১. বিজিএমইএ ইউনিটের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি ছাড়া অ্যাকর্ড-এর দিক থেকে কোনও কারখানাকে বাদ দেওয়া অথবা তাদের বিরুদ্ধে কোনও গুরুতর ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।

০২. কোনও একটি কারখানার ব্যর্থতার জন্য সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।

০৩. নিরাপত্তা উদ্যোগের অংশ হিসেবে একাধিক পরিদর্শক সংস্থা কোনও কারখানা দ্বিতীয়বার পরিদর্শন করবে না। রেমিডিয়েশন কো-অর্ডিনেশন সেল বা সংস্কার সমন্বয়ক সেল (আরসিসি), দ্য অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি, নিরাপদ এবং অন্যান্য পরিদর্শক কর্তৃপক্ষ সাধারণ নিয়মাবলী মেনে চলবে।

০৪. বিজিএমইএ ইউনিট এবং অ্যাকর্ডের মধ্যে কোনও বিরোধের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য বিষয়টি আরসিসি-তে তোলা হবে।

বিজিএমইএ জানিয়েছে, বাংলাদেশে পূর্ণ ও স্বাধীন জাতীয় সম্মতি পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির গুরুত্ব বিবেচনা করে তারা একটি 'আরএমজি সাসটেইনেবিলিটি কাউন্সিল (আরএসসি) প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে। এটি পরিচালনা করবে বিজিএমইএ/বিকেএমইএ, বিভিন্ন ব্র্যান্ড এবং কর্মীদের প্রতিনিধিরা।

২৮১ দিন শেষে অ্যাকর্ড চলে যাওয়ার পর তাদের স্থাপনা ও রিসোর্চ ব্যবহার করবে আরএসসি। অ্যাকর্ড চলে যাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করতেও সাহায্য করবে বিজিএমইএ। এজন্য অ্যাকর্ডের ঢাকা অফিসে দ্রুত ‘বিজিএমইএ ইউনিট’ নামের একটি অপারেটিং ইউনিট প্রতিষ্ঠা করবে বিজিএমইএ।

অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে সিনিয়র বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি টেকনিক্যাল সাব কমিটি গঠন করা হবে। এতে অন্যদের সঙ্গে বিশেষ করে বুয়েটের প্রতিনিধিরাও থাকবেন। এ সংক্রান্ত অগ্রগতির বিষয়ে নিয়মিত আরসিসি-কে জানাবে বিজিএমইএ ইউনিট। আর অ্যাকর্ড চলে যাওয়ার পর আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে তৈরি পোশাক খাতের নিরাপত্তা বিষয়ক দিকগুলোর প্রতি মনোনিবেশ করবে আরএসসি।

রবিবার আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, এই ২৮১ দিনের মধ্যে মধ্যে অ্যাকর্ড বিজিএমইএ’র সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্বারক (এমওইউ) অনুসারে সব দায়িত্ব হস্তান্তর (বিজিএমইএ’কে) করবে। পাশাপাশি অ্যাকর্ডের ভেতর বিজিএমইএ’র একটি সেল গঠন করা হবে এবং অ্যাকর্ড ও বিজিএমইএ যৌথভাবে কারখানা পরিদর্শন ও এর নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করবে। অ্যাকর্ডের এক আবেদনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাকর্ডের সময় আবেদনের শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। এছাড়া, বিজিএমইএ'র পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ মইনুল ইসলাম এবং অ্যাকর্ডের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী সালাউদ্দিন আহমেদ।

পরে ইমতিয়াজ মইনুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অ্যাকর্ড ও বিজিএমইএ’র মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। সেই স্মারকের শর্তানুসারে অ্যাকর্ডকে এই সময় দেওয়া হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, এর আগে ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে রানা প্লাজা ধসের পর একই বছরের ১৫ মে ইউরোপের ২০টি দেশসহ উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার ২০০ ব্র্যান্ড এবং খুচরা ক্রেতা ও কয়েকটি ট্রেড ইউনিয়নের সমন্বয়ে অ্যাকর্ড গঠিত হয়। সরকারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী এরই মধ্যে পাঁচ বছরের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়েছে অ্যাকর্ডের। তবে সরকারের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে অতিরিক্ত ছয় মাস সময় এ দেশে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয় অ্যাকর্ড এবং অন্য ক্রেতা জোট উত্তর আমেরিকার অ্যালায়েন্সকে। বর্ধিত সেই মেয়াদও শেষ হয়েছে।

এরপর সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ অ্যাকর্ডের কার্যক্রম নিয়ে চূড়ান্ত রায় দেন। ওই রায়ে বাংলাদেশ থেকে কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে অ্যাকর্ডকে নির্দেশ দেন আদালত। এরপর মামলাটি আপিল বিভাগে যাওয়ার পর থেকে বারবার সময় আবেদন করে আসছিল অ্যাকর্ড।

/এমপি/এপিএইচ/

লাইভ

টপ