গবেষণা কর্মশালার প্রস্তাব অর্থপাচার রোধে ব্যাংকগুলোকে নিজস্ব ডাটা সিস্টেম গড়ে তুলতে হবে

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০০:৩৭, মে ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:৪৫, মে ২১, ২০১৯

বাণিজ্যকেন্দ্রীক অর্থপাচার রোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার অপেক্ষায় না থেকে ব্যাংকগুলোকে নিজস্ব ডাটা ব্যাংক গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে এই ডাটা ব্যাংক অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যেন নিজেদের কাজে ব্যবহার করতে পারে সেই উদ্যোগও নিতে হবে। অর্থপাচার রোধে ব্যাংকের পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং অন্যান্য সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

সোমবার (২০ মে) বাংলাদেশ ইনিস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক গবেষণা কর্মশালায় এসব বলা হয়েছে। রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটোরিয়ামে ‘অ্যাড্রেসিং ট্রেড বেজড মানি লন্ডারিং ইন বাংলাদেশ: অ্যান অ্যাসেসমেন্ট’ শীর্ষক কর্মশালায় এক গবেষণা কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

এসময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বাণিজ্যকেন্দ্রীক অর্থপাচার রোধে এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। একটি গাইড তৈরি করছে, যা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সারা বিশ্বে এখন অর্থপাচার একটি চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশও এর আওতার বাইরে নয়।  এই সমস্যা মোকাবিলায় সব সংস্থাকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।’  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা বলেন, ‘মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও জনশক্তি নেই। এদিকে নজর দিয়ে ব্যাংকারদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর নির্ভর না করে প্রত্যেক ব্যাংকের নিজস্ব ডাটা ব্যাংক করতে হবে। যা অন্যান্য ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে পারে।’  

পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘অর্থপাচার প্রতিরোধে সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। ব্যাংক এবং সব স্টেক হোল্ডারের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। ব্যাংকের এডি শাখাগুলোকে সুষ্ঠু মনিটরিং করতে হবে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল দিতে হবে। ব্যাংকারদের ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি ট্রেড এর খুঁটিনাটি জানাতে হবে। বাণিজ্য পণ্যের মূল্য নির্ধারণে ব্যাপারে বিদেশি সংস্থার সহায়তা প্রয়োজন।’  

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ইয়াছিন আলি বলেন, ‘ব্যাংকারদের ভালোভাবে ক্রেডিট রিপোর্ট জানতে হবে। প্রত্যেক ব্যাংক এলসি খোলার ডাটাবেজ করলে অর্থপাচার রোধে গুরুত্বপূর্ণ আইন করার সময় ব্যাংকিং অপারেশনে যেন কোনও ক্ষতি না হয় সেদিকটি বিবেচনায় রাখতে হবে।

ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফারুক মাঈনুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘গ্রাহক এবং ব্যাংকার সব পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। অর্থপাচারের পেছনের কারণগুলো খুঁজে বের করতে হবে।’

স্বাগত বক্তব্য ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইবিএম-এর অধ্যাপক এবং পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ড.শাহ মো. আহসান হাবীব।

গবেষণা দলে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন বিআইবিএমের অনুষদ সদস্য শেখ নাজিবুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ; বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, উপ-মহাব্যবস্থাপক কামাল হোসেন; ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের এসভিপি মো. মাহমুদুর রহমান, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের ভিপি এটিএম নেসারুল হক; এনবিআরের প্রথম সচিব সৈয়দ মুশফিকুর রহমান।

 

/জিএম/এএইচ/

লাইভ

টপ