স্থবিরতা কাটছে না আমদানি বাণিজ্যে

Send
গোলাম মওলা
প্রকাশিত : ১২:১৬, মে ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৫৫, মে ২২, ২০১৯


আমদানি বাণিজ্য

বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে স্থবিরতা কাটছে না। এ বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ দুই মাসেই আমদানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্চে আমদানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ১ শতাংশ। আর ফেব্রুয়ারিতে প্রবৃদ্ধি হয় মাইনাস ৬.২৮ শতাংশ।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক ও অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘টাকার বিপরীতে ডলারের দামবৃদ্ধির কারণে আমদানিতে ভাটা পড়েছে। ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানিতে বেশি অর্থ খরচ হচ্ছে। এ কারণে অনেকেই আমদানিতে অনুৎসাহিত হচ্ছে। আগের মতো বর্তমানে খাদ্য আমদানি করতে হচ্ছে না। এ কারণেও আমদানিতে ব্যয় কমে গেছে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে পণ্য আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৬১২ কোটি ৮ লাখ ডলার। ফেব্রুয়ারিতে আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৪৭০ কোটি ৩৯ লাখ ডলার। আর মার্চে আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৪৮৯ কোটি ৩৬ লাখ ডলার।
২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারির তুলনায় ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমদানি ব্যয় কমেছে ৬.২৮ শতাংশ। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমদানি ব্যয় হয় ৫০১ কোটি ৯১ লাখ ডলার। ২০১৮ সালের মার্চে আমদানি ব্যয় হয় ৪৮৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। ২০১৯ সালের মার্চে আমদানি ব্যয় হয়েছে ৪৮৯ কোটি ৩৬ লাখ ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে বিদেশ থেকে চাল ও গম আমদানি কমেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে চাল ও গম আমদানির জন্য লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) খোলার পরিমাণ কমেছে ৬৪.৭৫ শতাংশ। এমনকি শিল্পের জন্য ক্যাপিটাল মেশিনারির এলসি খোলার পরিমাণ কমেছে ২৭.৬৬ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, এই সময়ে সার্বিক এলসি খোলার পরিমাণ কমেছে ২০.৮৯ শতাংশ। অবশ্য এ সময়ে এলসি নিষ্পত্তি বেড়েছে ৭.৩২ শতাংশ।
চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। চালের উৎপাদন বাড়ায় আমদানি কমছে। তবে ২০১৭ সালে শূন্য শুল্কের সুবিধা নিয়ে ব্যবসায়ীরা প্রচুর চাল আমদানি করে মজুত রেখেছেন। পর্যাপ্ত মজুত থাকায় এখন তারা চাল আমদানি করছেন না।
গত জানুয়ারিতে আমদানি ব্যয় বেড়েছিল ১৬.৪৮ শতাংশ।
এদিকে পণ্য আমদানির মতোই রফতানিতেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

মার্চের চেয়ে এপ্রিলে রফতানি কম হয়েছে। মার্চে রফতানি থেকে আয় হয়েছিল ৩৩৪ কোটি ২ লাখ ডলার। এপ্রিলে রফতানি থেকে আয় হয়েছে ৩০৩ কোটি ৪২ লাখ ডলার। এছাড়া গত বছরের এপ্রিলের তুলনায় এই বছরের এপ্রিলে রফতানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ২.৬৯ শতাংশ।
প্রসঙ্গত, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পণ্য রফতানি করে ৩৯ বিলিয়ন (তিন হাজার ৯০০ কোটি) ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে সরকার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) বিভিন্ন পণ্য রফতানি থেকে বাংলাদেশ আয় করেছে ৩ হাজার ৩৯ কোটি ৩৭ লাখ ডলার। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১১.৬১ শতাংশ বেশি।

 

/এসটি/এমএমজে/

লাইভ

টপ