এমডি পাচ্ছে না বেসিক ও এবি ব্যাংক

Send
গোলাম মওলা
প্রকাশিত : ১২:২৪, মে ২২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:০১, মে ২২, ২০১৯

বেসিক ব্যাংক ও এবি ব্যাংক

ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ছাড়া গত ১০ মাস ধরে চলছে রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংক। এমডি’র জন্য দু’বার পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হলেও কেউ ব্যাংকটিতে আসতে চাচ্ছেন না। একই অবস্থা বেসরকারি এবি ব্যাংকেরও। সাত মাস ধরে এ ব্যাংকে নেই এমডি। আগের এমডিরা পদত্যাগের পর এখন পর্যন্ত নতুন এমডি নিয়োগ দিতে পারেনি ব্যাংক দু’টি।

ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, কোনও বাংকের এমডি পদ কোনোভাবেই তিন মাসের বেশি শূন্য রাখা যাবে না। তিন মাসের মধ্যে এমডি পদ পূরণ করতে না পারলে ওই ব্যাংকে প্রশাসক নিয়োগ দিতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু বেসিক ও এবি ব্যাংকের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক এই আইন প্রয়োগ করছে না।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সেরাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ব্যাংক দু’টিতে এমডি নিয়োগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যথাযথভাবে বলা আছে। ব্যাংক দু’টি চেষ্টাও করছে। তবে বেসিক ব্যাংক মূলত সরকারি ব্যাংক হওয়ায় সরকার সেখানে এমডি নিয়োগ দেবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের খুব বেশি কিছু করার নেই। আর এবি ব্যাংক অল্প কিছু দিনের মধ্যেই ভালো এমডি নিয়োগ দিতে পারবে।’

প্রসঙ্গত, এবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মসিউর রহমান চৌধুরী ২০১৮ সালের ১১ অক্টোবর পদত্যাগ করেন। আর বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আউয়াল খান ১৪ আগস্ট পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরপর থেকে ব্যাংক দু’টি ভারপ্রাপ্ত এমডি দিয়ে চলছে।

এবি ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে যোগদানের সব প্রক্রিয়া শেষ করেছিলেন মোহাম্মদ মামদুদুর রশিদ। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন তিনি। বর্তমান কর্মস্থল ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) পদেই তিনি আছেন। মামদুদুর রশিদের সঙ্গে ইউসিবি ছাড়ার কথা ছিল উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাবিল মুস্তাফিজুর রহমানের। এবি ব্যাংকে যোগ দিতে ইউসিবি থেকে পদত্যাগও করেছিলেন তিনি। কিন্তু মামদুদুর রশিদ সিদ্ধান্ত পাল্টানোয় নাবিল মুস্তাফিজুর রহমানও পিছু হটেছেন। বিদায় সংবর্ধনা নিয়েও তিনি এবি ব্যাংকে না গিয়ে ইউসিবিতেই আছেন।

ইউসিবিতে নাবিল মুস্তাফিজুরের পদে যোগদানের জন্য নিয়োগপত্র নিয়ে এসেছেন প্রাইম ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ ফরিদুল ইসলাম। এরই মধ্যে তিনি প্রাইম ব্যাংক থেকে পদত্যাগও করেছেন। নাবিল মুস্তাফিজ না যাওয়ায় ইউসিবিতে যোগ দিতে পারছেন না ফরিদুল ইসলাম।

বেসরকারি খাতের প্রথম ব্যাংক হিসেবে যাত্রা করেছিল এবি ব্যাংক লিমিটেড। মানসম্পন্ন ব্যাংকিং সেবা প্রদানের মাধ্যমে ব্যাংকটির অবস্থান ছিল সামনের সারিতে। কিন্তু গত এক দশক ধরে ভালো যাচ্ছে না এ ব্যাংকের পরিস্থিতি। গত দুই বছর ব্যাংকটির অবস্থা সবচেয়ে খরাপ। এ অবস্থায় এবি ব্যাংককে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মুহাম্মদ এ (রুমি) আলী।

সূত্র মতে, এবি ব্যাংকের বর্তমান নীতিনির্ধারকদের একজন চেয়েছিলেন মেঘনা ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে ব্যাংকটিতে নিয়ে আসতে। মেঘনা ব্যাংকের ওই কর্মকর্তা এবি ব্যাংকের ওই নীতিনির্ধারকের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। কিন্তু বিষয়টি মানতে রাজি হননি মামদুদুর রশিদ। এ নিয়ে এবি ব্যাংকের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় তার। ফলে মামদুদুর রশিদ এবি ব্যাংকের এমডি পদে যোগ না দিয়ে ইউসিবিতেই থেকে গেছেন।

এ প্রসঙ্গে এবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান বলেন, ‘মামদুদুর রশিদ ও নাবিল মুস্তাফিজুর রহমান এবি ব্যাংকে কেন যোগ দেননি, তা আমি জানি না। সিদ্ধান্তটি তাদের ব্যক্তিগত। তাই এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাই না।’

এদিকে, বেসিক ব্যাংকের হাল ধরতে চাইছে না কেউ। ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বা প্রধান নির্বাহী পদের জন্য শর্ত শিথিল করেও কাউকে পাচ্ছে না ব্যাংকটি। দু’বার পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েও কোনও প্রার্থী খুঁজে পাওয়া যায়নি।

 

/এসটি/এমএমজে/

লাইভ

টপ