বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কোম্পানি হচ্ছে

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০২:৩৩, মে ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:৩৮, মে ২৪, ২০১৯

বাংলাদেশ সরকারসাভার চামড়া শিল্প নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কোম্পানি গঠন করা হচ্ছে। এই কোম্পানিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য আবেদন করতে হবে ২৬ মের মধ্যে। এজন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠাতে হবে শিল্প মন্ত্রণালয়ে। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এ সময়ের মধ্যে যেসব ট্যানারি মালিক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠাবেন, তাদের সদস্য করে কোম্পানিটি গঠন করা হবে। সাভার চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) পরিচালনার জন্যই ‘ঢাকা ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড’ নামে এই কোম্পানিটি গঠন করা হচ্ছে।
সাভার চামড়া শিল্পনগরীর সার্বিক বিষয়ে চামড়া শিল্পসংশ্লিষ্ট সংগঠন ও স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (২৩ মে) শিল্প মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এতে সভাপতিত্ব করেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।
এছাড়া সভায় শিল্পসচিব মো. আবদুল হালিম, অতিরিক্ত সচিব বেগম পরাগ, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান মো. মোশতাক হাসান, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এলএফএমইএবি) চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএলএলএফইএ) চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিনসহ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), বিসিক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

শিল্পমন্ত্রী জানিয়েছেন, এ শিল্পের স্বার্থে আইনের আওতায় ভবিষ্যতেও যতটুকু সুবিধা দেওয়া সম্ভব, তা দেওয়া হবে। তবে, জমির মূল্য কোনোভাবেই আর কমানো হবে না। ব্যবসায়ী ও জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করে সরকার ট্যানারি মালিকদের অনেক সুবিধা দিয়েছে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, শিল্প মালিকদের দাবির প্রেক্ষিতে চামড়া শিল্পনগরীর প্রতি বর্গফুট জায়গা উন্নয়নের জন্য সরকারের ১ হাজার ৭শ টাকা খরচ হলেও উদ্যোক্তাদের স্বার্থ বিবেচনা করে তা প্রতি বর্গফুট ৪৭১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সার্বিক বিবেচনায় প্লটের দাম কমানোর আর কোনও সুযোগ নেই। যেসব ট্যানারি মালিক স্থানান্তরের শর্ত পূরণ করেছেন, তাদের অনুকূলে শিল্প মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করেছে বলেও জানানো হয়।

জানা গেছে, সভায় ২০১৯ সালের জুলাইয়ের মধ্যে প্রত্যেক ট্যানারি মালিককে লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের মানদণ্ড অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে যন্ত্রপাতি স্থাপনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ট্যানারির উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, সাভার চামড়া শিল্পনগরীর সিইটিপির অবশিষ্ট যন্ত্রপাতি সিডিউল অনুযায়ী প্রিশিপমেন্ট ইন্সপেকশন (পিএসআই) শেষে স্থাপন করা হবে। চীনা ঠিকাদার কোম্পানি আগামী চার মাসের মধ্যে সিইটিপি পুরোপুরি চালু এবং দেশীয় জনবলকে প্রশিক্ষিত করে কোম্পানির কাছে পরিচালনার দায়িত্বভার হস্তান্তর করবে। এছাড়া চামড়া শিল্পনগরীর সলিড বর্জ্য ডাম্পিংয়ের জন্য উপযুক্ত জায়গা খুঁজে বের করা হবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়।

/এসআই/এনআই/

লাইভ

টপ