তিতাসের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে শুরু হচ্ছে অ্যাকশন

Send
সঞ্চিতা সীতু
প্রকাশিত : ২০:৪৩, জুন ০৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:১১, জুন ১০, ২০১৯

দুদক-তিতাসতিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদে বিরুদ্ধে ‘অ্যাকশন’ শুরু হচ্ছে। গত ১৭ এপ্রিল তিতাসের বিপুল পরিমাণ  দুর্নীতির তথ্যসহ জ্বালানি বিভাগে প্রতিবেদন দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ওই প্রতিবেদনে  উল্লেখ করা হয়েছে, ২২ পন্থায় তিতাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুর্নীতি করেন। এরপর দুদকের এই প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে গত ২৬ এপ্রিল  বৈঠক করে দুর্নীতিবাদজদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যেতে তিতাসকে  নির্দেশ দেয় জ্বালানি বিভাগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র বলছে, গ্যাসখাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কাজ শুরু করেছে জ্বালানি বিভাগ ও তিতাস। এরইমধ্যে যেসব বিষয়ে সরকারের নীতি-নির্ধারণী সিদ্ধান্ত প্রয়োজন, সেগুলো দেখছে জ্বালানি বিভাগ আর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়গুলো দেখছে তিতাস।

জানা গেছে, তিতাসের অভিযুক্ত ১৯০ জনকে নিজের আগের কর্মস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ট্রুথ কমিশিনে যাওয়া ১১৬ জনের নামের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সরাসরি সেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার কর্মস্থল পরিবর্তন করে নতুন জায়গায় বদলি করা হচ্ছে। তিতাস বলছে, একটি ‘অ্যাকশন’ প্ল্যান তৈরি করে কাজ করছে তারা।

জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাতের সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সব থেকে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বারবার তিতাসের নাম উঠে আসে। শুধু সংযোগ দেওয়ার সময়ই নয় বরং সেই সংযোগে গ্যাসের বিল কমিয়ে দিতে পারেন তিতাসের কর্মীরা। আবার তিতাসের খাতায় ব্যক্তির নাম উল্লেখ না থাকলেও তাদেরও সংযোগ দিয়ে নিজেরাই বিল আদায় করেন এই প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। দুদকের অনুসন্ধানে সেই চিত্রই উঠে এসেছে।

এরইমধ্যে শিল্প-কারখানায় গ্যাস সংযোগের জন্য প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টার নেতৃত্বে গঠিত কমিটি বাতিল করে দিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। দুদক তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, এভাবে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার প্রথাকে জটিল করার সুযোগ নিচ্ছেন কেউ কেউ। এরফলে শিল্পের গ্যাসসংযোগ নিয়ে অবৈধ পন্থায় বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হচ্ছে।

জানতে চাইলে তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল বলেন, ‘ট্রুথ কমিশনের তালিকাটা আমরা সংগ্রহ করেছি।এর বেশিরভাগই অবসরে চলে গেছেন। দুই-চারজন যারা আছেন, তাদের আমরা কাস্টমার সার্ভিসের বাইরে বদলি করেছি এরইমধ্যে। তবে, তারা আবার হাইকোর্ট থেকে ইনডেমিনিটিও পেয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘দুদক যে ১২ সুপারিশ করেছে, আমরা সেই ১২টি নিয়েই কাজ করছি। বদলি করেছি অনেক। আসলে বদলির কোনও শেষ নেই। ডিজিএম, জিএম ও কাস্টমার সার্ভিসের সঙ্গে যারা দীর্ঘদিন ছিল, তাদের আমরা বদল করে দিচ্ছি। কারণ আমাকে তো তিতাসের লোকজনের মধ্যেই কাজ করতে হবে।’

সংযোগ থেকে বিতরণ, বিল আদায় থেকে ব্যাংকে টাকা স্থানান্তর—তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানির সবখানে শুধু দুর্নীতিই দেখেছে দুদক। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, যেসব পন্থায় দুর্নীতি হয়, তা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিতাসের এক কর্মকর্তা জানান, দুদকের নির্দেশ অনুযায়ী গত দুই তিন মাসে প্রায় ১৯০ জনকে বদলি করা হয়েছে। ট্রুথ কমিশনের তালিকায় দুদকের যে দুর্নীতিবাজদের নাম ছিল, সেই তালিকা এরইমধ্যে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তিতাসের বোর্ড থেকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, একটি অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করে কাজ করতে হবে। আমরা সেই প্ল্যান অনুযায়ী, তালিকা তৈরি করেছি। বদলি করতে হবে, ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে। এছাড়া আরও বেশকিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। আমরা সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছি। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।’এসব  সুপারিশের আলোকে কাজ করার চেষ্টা চলছে বলেও এই কর্মকর্তা জানান।

/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ