প্রথমবারের মতো দেশে কয়লা আমদানির চুক্তি সই

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২৩:০০, জুন ১৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৪২, জুন ১৭, ২০১৯

 

পায়রায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আমদানি করবে বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিসিপিসিএল)। এজন্য ইন্দোনেশিয়ার কোম্পানি পিটি.বায়ান রিসোর্স টিবিকে-এর সঙ্গে চুক্তি সই করেছে তারা। প্রথমবারের মতো কয়লা আমদানির চুক্তি সই করলো বাংলাদেশ।
সোমবার (১৭ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে এ চুক্তি সই হয়। চুক্তিতে পিটি.বায়ানের পক্ষে প্রেসিডেন্ট ও সিইও লোটাকং এবং বিসিপিসিএল-এর পক্ষে কোম্পানি সচিব দিপক কুমার ঢালি সই করেন।
১০ বছর মেয়াদি এই চুক্তির আওতায় প্রতি বছর সাড়ে চার মিলিয়ন টন কয়লা আমদানি করা হবে। দেশে কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য এটিই প্রথম আমদানি চুক্তি।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, ‘কয়লায় পরিবেশ দূষণ হবে না। পৃথিবীর সর্বোচ্চ প্রযুক্তি দিয়ে এই কেন্দ্রের নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড এবং সালফার ডাই অক্সাইড নিয়ন্ত্রণ করা হবে। উন্নত দেশগুলো আমাদের চেয়ে ৪০ ভাগ বেশি কার্বন ছড়ায়। আমরা তাদের তুলনায় বাতাসে কম কার্বন নিঃসরণ করি।’
অনুষ্ঠানের পরে তিনি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ইউনেসকো অজ্ঞতাবশত এই প্রতিবেদন দিয়েছে। আমরা তাদের শত শত পৃষ্ঠা কাগজপত্র পাঠিয়েছি। আমরা একটি প্রতিনিধিদল পাঠাবো এসব বিষয়ে আলোচনার জন্য।’
সম্প্রতি ইউনেসকো রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রকে সুন্দরবনের জন্য হুমকি বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
চুক্তি সই অনুষ্ঠানে পিটি.বায়ানের চেয়ারম্যান পুরনমো ইউসোজিয়ানতোরো বাংলাদেশ কয়লা রফতানির সুযোগ দেওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ৩০ থেকে ৩৫ মিলিয়ন টন কয়লা উত্তোলন করি। এর মধ্যে ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন টন কয়লা অভ্যন্তরীণভাবে ব্যবহার করা হয়। বাকি কয়লা আমরা বিভিন্ন দেশে রফতানি করি।’
অন্যদের মধ্যে এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, বিইআরসির চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম, বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, বিসিপিসিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এম খোরশেদুল আলম বক্তব্য রাখেন।
চুক্তির আওতায় পিটি.বায়ান রিসোর্স, টিবিকে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কয়লা সরবরাহ করবে। আগামী ২৬ নভেম্বর থেকে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি আনুষ্ঠানিক বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করবে। মূলত গ্রিডের সঙ্গে সিংকোনাইজিং-এর জন্য পরীক্ষামূলক উৎপাদন করা হয়।
বিসিপিসিএল সূত্র জানায়, ইন্দোনেশিয়ার কোম্পানি পিটি.বায়ান রিসোর্স, টিবিকে এই অঞ্চলের সব থেকে বড় কয়লা সরবরাহকারী কোম্পানির একটি। কয়লা উৎপাদনের সঙ্গে পিটি.বায়ান-এর রয়েছে বন্দর অবকাঠামো। পিটি.বায়ান দাবি করছে এই অঞ্চলের মধ্যে তাদের কয়লা অন্যতম। প্রতি টন কয়লার দাম ধরা হয়েছে ৫৫ ডলার। এর সঙ্গে পরিবহন খরচ ২৫ ডলার যোগ হয়ে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছাতে ব্যয় দাঁড়াবে ৮০ ডলার। কয়লা পরিবহনের জন্য জার্মানির কোম্পানি ওলডেনডরফ-এর সঙ্গে আলাদা চুক্তি করছে বিসিপিসিএল। ওই চুক্তিটির মেয়াদ ৫ বছর। ওলডেনডরফ বিশ্বব্যাপী বাল্ক শিপিংয়ে পরিচিত নাম।
বিসিপিসিএল জানায়, এখন ৫৫ হাজার টনের জাহাজে করে অর্ধেক ২৫ হাজার টন করে কয়লা আনা হবে। তবে বন্দরে ৯ মিটার ড্রাফট হলে তখন বড় জাহাজে করে কয়লা আনা সম্ভব। এতে আমদানি ব্যয় প্রতি টনে অন্তত ৪ ডলার কমে আসবে। পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালাতে বছরে ৪ মিলিয়ন টন কয়লার প্রয়োজন হবে।

/এসএনএস/এইচআই/

লাইভ

টপ