সংযোগে টিআইএন বাধ্যতামূলক: প্রস্তাব প্রত্যাহারে চিঠি দিচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ

Send
সঞ্চিতা সীতু
প্রকাশিত : ১৯:৫৮, জুন ২৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:০১, জুন ২৪, ২০১৯

বিদ্যুৎ

সাধারণ মানুষকে করের আওতায় আনতে এবার বাজেটে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য টিআইএন (কর শনাক্তকরণ নম্বর) সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তার এই প্রস্তাবে অনেকে সাধুবাদ জানালেও দেশের বড় একটি অংশ এ কারণে বিপদে পড়বে বলে মনে করছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এজন্য প্রস্তাবটি প্রত্যাহারে সোমবার (২৪ জুন) অর্থ বিভাগে চিঠি দেবে বিদ্যুৎ বিভাগ।

সংযোগ পেতে গ্রাহকের টিআইএন নম্বর বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব অযৌক্তিক মনে করে বিদ্যুৎ বিভাগ। জানতে চাইলে বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, এই প্রস্তাব প্রত্যাহারের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে অর্থ বিভাগকে অনুরোধ করা হবে। এ জন্য আগামীকাল (সোমবার) এ বিষয়ে একটি চিঠি দেওয়া হবে অর্থ বিভাগে।

বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আসলেই টিআইএন সার্টিফিকেটের প্রয়োজন আছে কিনা, জানতে চাইলে ঢাকার বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির (ডেসকো) ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহিদ সারওয়ার বলেন, ‘আবাসিকের ক্ষেত্রে একজন বাড়িওয়ালা বা ভাড়াটিয়ার টিআইএন নম্বর নাও থাকতে পারে। এছাড়া, নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রে এমনিতেই অনেক কাগজপত্র জমা দিতে হয়। নতুন করে আরও একটি জটিল বিষয় যুক্ত হলে সংযোগ পেতে গ্রাহকদের আরও সমস্যা হবে।’ তিনি বলেন, ‘নিম্নবিত্তরা এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়বে।’

জানা গেছে, আবাসিকে বিদ্যুতের সংযোগের জন্য আবেদনপত্রের সঙ্গে আবেদনকারীর দুই কপি সত্যায়িত রঙিন ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টের ফটোকপি, জমির দলিল বা লিজের সত্যায়িত ফটোকপি, ১০ তলার বেশি হলে অগ্নিনির্বাপণ সনদ, সিটি করপোরেশন, পৌরসভার মধ্যে হলে ভবন নির্মাণের বৈধ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ফটোকপি ও দুই কিলোওয়াটের বেশি গ্রাহকের বিদ্যুৎ লোড হলে সৌর প্যানেল স্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে কারও ভবন নির্মাণের বৈধ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না থাকলে অনাপত্তিপত্র দিয়েও বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া যায়। এছাড়া বাণিজ্যিক ও শিল্প সংযোগের ক্ষেত্রে আবেদনপত্রের সঙ্গে পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ছাড়পত্রের কপিও জমা দিতে হয়।
এ বিষয়ে রবিবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদের নির্ধারিত বাজেট বক্তৃতায় বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেন, ‘আমাদের এক কোটি ২০ লাখ গ্রাহক। যারা প্রান্তিক গ্রাহক, তাদের পক্ষে টিআইএন নম্বর জোগাড় করে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া কঠিন। ফলে এ ধরনের সিদ্ধান্ত পুনঃবিবেচনা করা উচিত।’
গ্রামের বেশিরভাগ গ্রাহক প্রান্তিক পর্যায়ের। গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগদাতা বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরইবি)-এর একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা বিদ্যুৎ সংযোগ যতটা সম্ভব সহজ করার চেষ্টা করছি। বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে দেশে শতভাগ বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করছি। এরইমধ্যে বহু উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন করা হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে সবাইকে বিদ্যুৎ দেওয়ার চেষ্টা করছে আরইবি। এ অবস্থায় আমাদের গ্রাহকদের করের আওতায় আনতে যদি টিআইএন সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করা হয়, তাহলে তো মুশকিল। কারণ, এই গ্রাহকদের বেশিরভাগই করযোগ্য আয়ই করেন না। ফলে এ সিদ্ধান্তটি পুনঃবিবেচনা করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

আরইবি জানায়, প্রান্তিক গ্রাহকদের সাধারণত ব্যবহৃত মাসিক বিদ্যুতের পরিমাণ হয় ৫০ ইউনিটের মধ্যে। সব মিলিয়ে এসব গ্রাহকের মাসিক বিদ্যুৎ বিল আসে গড়ে ১৫০ টাকা।

/এমএনএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ