বিদ্যুৎ সংযোগে টিআইএন বাধ্যতামূলকের প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবিতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:৩৩, জুন ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:২১, জুন ২৪, ২০১৯

 

বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব প্রত্যাহার করতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। সোমবার (২৪ জুন) টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ জানিয়ে এই চিঠি দেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু।
প্রসঙ্গত, সাধারণ মানুষকে করের আওতায় আনতে এবার বাজেটে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য টিআইএন সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তার এই প্রস্তাবে দেশের বড় একটি অংশ এ কারণে বিপদে পড়বে বলে মনে করছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এজন্য প্রস্তাবটি প্রত্যাহারে চিঠি দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া সরকারের অন্যতম নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি। ইতোমধ্যে ৯৩ ভাগ জনগোষ্ঠী বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ গ্রাহক সংখ্যা সারাদেশে তিন কোটি ৩৪ লাখ। এরমধ্যে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)-এর গ্রাহক সংখ্যা দুই কোটি ৬৪ লাখ। আরইবির এই গ্রাহকের মধ্যে এক কোটি ২০ লাখ  প্রান্তিক গ্রাহক (যারা মাসে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন।)

চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থবিলে প্রস্তাব করা হয়েছে, বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেই কর শনাক্ত নম্বর (টিআইএন) নিতে হবে। এই প্রান্তিক গ্রাহকেরা খুব দরিদ্র। অনেকেই দিনমজুর। তাদের পক্ষে টিআইএন করা কষ্টদায়ক ও অমানবিক। এছাড়া টিআইএন থাকলে প্রতিবছর আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হয়। যা ওই দরিদ্র শ্রেণির লোকদের জন্য হয়রানিমূলক, কর্মকালের অপচয় ও সেই সঙ্গে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এই অবস্থায় বিদ্যুৎ সংযোগের টিআইএন থাকার প্রস্তাব প্রত্যাহার করার জন্য চিঠিতে বিশেষভাবে অনুরোধ করেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী।

এ বিষয়ে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহম্মদ হোসেইন বলেন, ‘বাজেট নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। তাই আমরা এখনই অনুরোধ জানিয়েছি। অর্থ মন্ত্রণালয় বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে আমরা আশা করছি।’ তিনি বলেন, ‘বড় গ্রাহকদের জন্য এটি সমস্যা হয়তো হবে না। কারণ তাদের বেশিরভাগ আয়কর দেন। কিন্তু আমাদের প্রান্তিক গ্রাহকের সংখ্যা সে তুলনায় অনেক বেশি।’ তাদের কথা বিবেচনা করেই এই প্রস্তাব প্রত্যাহার করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

জানা গেছে, আবাসিকে বিদ্যুতের সংযোগের জন্য আবেদনপত্রের সঙ্গে আবেদনকারীর দুই কপি সত্যায়িত রঙিন ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টের ফটোকপি, জমির দলিল বা লিজের সত্যায়িত ফটোকপি, ১০ তলার বেশি হলে অগ্নিনির্বাপণ সনদ, সিটি করপোরেশন, পৌরসভার মধ্যে হলে ভবন নির্মাণের বৈধ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ফটোকপি ও দুই কিলোওয়াটের বেশি গ্রাহকের বিদ্যুৎ লোড হলে সৌর প্যানেল স্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে কারও ভবন নির্মাণের বৈধ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না থাকলে অনাপত্তিপত্র দিয়েও বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া যায়। এছাড়া, বাণিজ্যিক ও শিল্প সংযোগের ক্ষেত্রে আবেদনপত্রের সঙ্গে পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ছাড়পত্রের কপিও জমা দিতে হয়। এরসঙ্গে টিআইএন জমা দেওয়াটা গ্রাহকদের জন্য আরও বিপদের কারণে হবে বলে মনে করছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

এর আগে, গত রবিবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদের নির্ধারিত বাজেট বক্তৃতায় বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেন, ‘আমাদের এক কোটি ২০ লাখ গ্রাহক। যারা প্রান্তিক গ্রাহক, তাদের পক্ষে টিআইএন নম্বর জোগাড় করে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া কঠিন।’ ফলে এ ধরনের সিদ্ধান্ত পুনঃবিবেচনা করা উচিত বলেও তিনি মনে করেন।

আরও পড়ুন:  সংযোগে টিআইএন বাধ্যতামূলক: প্রস্তাব প্রত্যাহারে চিঠি দিচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ

 

/এসএনএস/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ