করপোরেট কর কমানোর দাবি এফবিসিসিআই-এর

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০১:২৩, জুন ২৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:২৯, জুন ২৮, ২০১৯

তৈরি পোশাক ও বস্ত্রখাতের মতো রফতানি খাতের অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠানের করপোরেট কর আড়াই শতাংশ হারে কমানোর দাবি জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)।

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে এফবিসিআই আয়োজিত প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে এই দাবি জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির স্টক ডিভিডেন্ড এবং কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন রির্জাভের ৫০ শতাংশের বর্ধিত অংশের ওপর ১৫ শতাংশ কর প্রত্যাহারসহ বাজেট পরবর্তী ২৫টি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ভ্যাট, আয়কর এবং আমদানি শুল্ক হারে প্রয়োজনীয় বেশকিছু সংশোধনীরও দাবি জানিয়েছে এফবিসিসিআই।

এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এমপি, সম্মানিত অতিথি ছিলেন সিনিয়র সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া ও এসডিজিবিষয়ক মূখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ।

এসময় শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনী যন্ত্রপাতি থেকে আগাম কর প্রত্যাহার, টার্নওভার সীমা তিন কোটি টাকা করা হয়েছে। উৎসে কর কর্তনকারী প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক টার্নওভার এক কোটি টাকার পরিবর্তে তিন কোটি টাকা করার প্রস্তাব করছি। এছাড়া কর কর্মকর্তার জব্দকরণ ও আটক করার স্বেচ্ছাক্ষমতা ও ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার ক্ষমতা বাতিলের দাবি জানাই।

তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে আইন প্রতিপালনে অনিয়মে জরিমানার হার ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। এই জরিমানার হার আগের মতো বহাল রাখা হোক। এছাড়াও প্রাপ্ত নগদ ভর্তুকির ক্ষেত্রে অগ্রিম কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ বহাল রাখতে হবে এবং সকল রফতানিখাতে একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে।

এফবিসিসিআিই সভাপতি বলেন, শিল্পের কাঁচামালের ওপর আরোপিত অগ্রিম আয়কর পাঁচ শতাংশ থেকে কমিয়ে তিন শতাংশ নির্ধারণ করতে হবে। এছাড়াও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে পাঁচ শতাংশ অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করা দরকার।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, আমরা এফবিসিসিআই-এর প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করব। কারণ এই সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগ বান্ধব সরকার। ফলে এফবিসিসিআই-এর প্রস্তাবগুলো সংশোধনী বাজেটে সংশোধন করার চেষ্টা করব। আর কোনও কারণে তা সংশোধন সম্ভব না হলে বাজেট পাসের পরেও কমানোর সুযোগ রয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, কালো টাকা নিয়ে আমার একটা সাজেশন আছে। সেটা হলো- বিনিয়োগের জন্য ১০ শতাংশ কর দিয়ে অর্থনৈতিক জোনগুলোতে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই সুযোগ আরও প্রসারিত হতে পারে। যে কোম্পানি একশ জন কর্মীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে আর যে কোম্পানি ৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থান করেছে, দুজনের করের হার এক হওয়া উচিত না। আমার মতে, যে প্রতিষ্ঠান বেশি লোকের কর্মসংস্থান করেছে তার ক্ষেত্রে করের হার আরও কমানো যেতে পারে।

অনুষ্ঠানে আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হলো দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি। তাই প্রস্তাবিত বাজেটে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিজিএমইএ-এর সভাপতি রুবানা হক, ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ওসামা তাসির এবং বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাট্রিজের সভাপতি আনোয়ারুল আলম চৌধুরী পারভেজ বক্তব্য রাখেন।

 

/জিএম/এএইচ/

লাইভ

টপ