গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে ব্যবসা-বাণিজ্যে অবশ্যই প্রভাব পড়বে: বাণিজ্যমন্ত্রী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৬:৩৯, জুলাই ০২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৪৮, জুলাই ০২, ২০১৯

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি (ফাইল ছবি)

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, ‘গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে ব্যবসা-বাণিজ্যে অবশ্যই প্রভাব পড়বে। তবে আর কত ভর্তুকি দিয়ে চালানো যাবে।’

মঙ্গলবার (২ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে নিজ দফতরে ঢাকায় নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত হু কং ইল’র সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

টিপু মুনশি বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব সোর্স থেকে গ্যাস শেষ হয়ে আসছে। বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানি করতে অনেক বেশি দাম পড়ে। সে অনুযায়ী কিন্তু দাম বাড়ানো হয়নি। যত খরচ পড়ছে, সেটা কিন্তু চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। দামে কিছুটা সমন্বয় করা হয়েছে মাত্র।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাড়িতে বাড়িতে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রেও কিন্তু দাম বেড়েছে। আমরা যদি দুই কোটি মানুষকে গ্যাস দিই, তাহলে দুই কোটির ওপর চাপ পড়বে। তবে বাকি ১৩ কিংবা ১৫ কোটি মানুষর তেমন কিছু হবে না। তারপরও এক্ষেত্রে দামটা এমনভাবে বাড়ানো হয়েছে, যাতে চাপটা সহ্য করা যায়।’

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো উন্নয়নে অধিক বিনিয়োগ করতে চায় কোরিয়া। গত ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ কোরিয়ায় রফতানি করেছে ২৫৪ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য; একই সময়ে বাংলাদেশ আমদানি করেছে একহাজার ২৪০ দশমিক ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের কোরিয়ান পণ্য। এ বাণিজ্য ব্যবধান কমাতে উভয় দেশ একমত বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেছেন, ‘কোরিয়া বাংলাদেশের সঙ্গ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে আগ্রহী। কোরিয়া বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও কোরিয়ার মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির অনেক সুযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। আগামী ১৩-১৫ জুলাই কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী প্রায় ১০০ জন ব্যবসায়ী নিয়ে বাংলাদেশ সফর করবেন। এসময় বাংলাদেশে কোরিয়ার বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হবে। বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে কোরিয়ার বিনিয়োগকারীরা লাভবান হবেন।’

টিপু মুনশি বলেন, ‘কোরিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক অংশীদার। বাংলাদেশে কোরিয়ার অনেক বিনিয়োগ ও বাণিজ্য রয়েছে। কোরিয়ান বিনিয়োগের জন্য চট্রগ্রামের আনোয়ারায় কেইপিজেড বরাদ্দ করা হয়েছে। সেখানে কোরিয়ান বিনিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। কোরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ব্যবধান কমিয়ে আনতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশ কোরিয়ার দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক অংশীদার ও ভালো বন্ধু রাষ্ট্র। কোরিয়া বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধি করতে আগ্রহী। অনেক কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে ব্যবসা করছে। কোরিয়ার তৈরি অনেক পণ্যের চাহিদা রয়েছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করবে কোরিয়া। কোরিয়া বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে অনেক কাজ করেছে, এখনো করছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য বাংলাদেশ খুবই ভালো স্থান। কোরিয়ান বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।’

এসময় বাণিজ্য সচিব মো. মফিজুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব তপন কান্তি ঘোষ উপস্থিত ছিলেন।

/এসআই/এমএ/

লাইভ

টপ