পেট্রোলিয়াম পণ্যের ভেজাল ধরবেন ভ্রাম্যমাণ আদালত

Send
সঞ্চিতা সীতু
প্রকাশিত : ১৮:৫৬, জুলাই ১৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৫৯, জুলাই ১৫, ২০১৯

ডিসি-সম্মেলনএবার পেট্রোলিয়াম পণ্যের ভেজাল ধরার ক্ষমতা পাচ্ছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ‘পেট্রোলিয়াম আইন-২০১৬’, ‘মোবাইল কোর্ট আইন-২০০৯’-এ তফসিলভুক্ত করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় এই ক্ষমতা পাচ্ছেন জেলা প্রশাসকরা। সোমবার (১৫ জুলাই) সচিবালয়ে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে জেলা প্রশাসকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাদের এই সুযোগ দেওয়া হয়। পাশাপাশি নাটোরে গ্যাস দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়।  

জেলা প্রশাসক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন সোমবার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের অধিবেশনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, জ্বালানি সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত বিষয়ে জানতে চাইলে জ্বালানি বিভাগের একজন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নির্দিষ্ট কোনও বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হলে আইনে ওই বিষয় উল্লেখ থাকতে হয়। কিন্তু পেট্রোলিয়াম পণ্যের বিষয়টি এর আগে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এখন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এরমধ্য দিয়ে সারাদেশে পেট্রেলিয়াম পণ্যের ভেজাল প্রতিরোধের সঙ্গে ওজনে কম দেওয়ার মাত্রাও কমবে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সম্মেলনে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ‘পেট্রোলিয়ান আইন-২০১৬’ ও ‘মোবাইল কোর্ট আইন-২০০৯’-এ পেট্রোলিয়াম পণ্য তফসিলভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রস্তাবে বলা হয়, পেট্রোলিয়ামের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে  ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য এটি তফসিলভুক্ত করা প্রয়োজন।

এদিকে, নাটোরের জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে জেলায় গ্যাস সংযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়। এতে বলা হয়,  নাটোরে দু’টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক অঞ্চলে গ্যাস সংযোগ প্রয়োজন। এতে শিল্পের বিকাশ, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বাড়বে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বলা হয়, কুতুবদিয়া উপজেলা কক্সবাজার জেলার একটি প্রত্যন্ত দ্বীপ। এ উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নেই। বায়ু বিদ্যুতায়নের মাধ্যমে স্বল্প সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও ওই বিদ্যুৎ দিয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন।  কুতুবদিয়া উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলে লবণ ও মৎস্যশিল্প উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পর্যটন শিল্পেরও বিকাশ ঘটবে। বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যেতে পারে বলে জানানো হয়।

রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে রাঙ্গামাটি জেলার জুরাছড়ি উপজেলার মৈদুং ও দুমদুম্যা ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করার প্রস্তাব করা হয়।  এতে বলা হয়, এই এলাকায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিস্তৃত হওয়ার পাশাপাশি জনগণের জীবনমান উন্নত হবে।

এদিকে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক এলাকার লো ভোল্টেজ সমস্যা নিরাসনের দাবি জানান।  লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক জানান, লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলায় লো-ভোল্টেজজনিত কারণে স্থানীয়রা  বিদ্যুতের স্বাভাবিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সঞ্চালন লাইন লালমনিরহাট থেকে ৮৫ কিলোমিটার দীর্ঘ হওয়ায় স্থানীয় জনগণকে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সুবিধা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ জেলার মাঝামাঝি স্থানে উপকেন্দ্র স্থাপন করলে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎসেবা নিশ্চিত করা যাবে। এজন্য জেলা প্রশাসক হাতিবান্ধা উপজেলার বড়খাতায় ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব করেনয়। বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ  থেকে নির্মাণের আশ্বাসও দেওয়া হয়। 

যশোরে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে সরকারি বাসভবন খালি থাকার সময়  বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার প্রস্তাব করা হয়। যুক্তিতে বলা হয়, সরকারি বাসভবনে বসবাসরত কোনো কর্মকর্তা/কর্মচারী বদলিজনিত বা অন্য কোনও কারণে বাসা ছেড়ে দেওয়ার পরও প্রায় দেখা যায়, ৫ থেকে ৬ মাস বাসা খালি থাকে। ওই সময়ে সর্বনিম্ন বিদ্যুৎ বিল (শুধু ডিমান্ড চার্জ) পরিশোধে জটিলতা সৃষ্টি হয়। এতে পরবর্তী সময়ে বসবাসকারী কর্মকর্তারা বিল পরিশোধের সময় সমস্যায় পড়েন। বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।

এদিকে, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে বৈদ্যুতিক গ্রিড লাইন/ টাওয়ার স্থাপনে সংশ্লিষ্ট জমির মালিককে জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। বর্তমানে বৈদ্যুতিক গ্রিড লাইন বা টাওয়ার স্থাপনের ক্ষেত্রে জমির মালিক হিসেবে ক্ষতিপূরণ বাবদ কিছু পান না বলেও জানানো হয়।

/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ