ঝাঁজ কমেছে পেঁয়াজের, মূল্য চড়া সবজি-মাছের

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:৪৫, জুলাই ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৫১, জুলাই ২০, ২০১৯

নিত্যপণ্যের-বাজারএক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের ঝাঁজ কমতে শুরু করেছে। বর্তমানে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা দরে। গত সপ্তাহে যা বিক্রি হয়েছে ৪৫ টাকা। আর আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা দরে। গত সপ্তাহে যা বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৪২ টাকা কেজি দরে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের মূল্য কমেছে ৫ থেকে ৭ টাকা। তবে, বন্যাকবলিত এলাকায় সব ধরনের সবজি ও মাছের মূল্য বেড়েছে। ব্যবসায়ী বলছেন, বন্যার পানিতে সবজির ক্ষেত তলিয়ে গেছে, ভেসে গেছে খামারের মাছ।

বাজার সংশ্লিষ্টদের দাবি, পেঁয়াজ পচনশীল। তাই বেশিদিন ধরে রাখা যায় না। বন্যায় ভারতীয় পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দেশটি থেকে আমদানি কমে যাওয়ার উসিলায় দেশের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে মূল্য বাড়িয়ে দিয়ে বাজার অস্থির করে তুলেছিলেন। কিন্তু পেঁয়াজ তো বেশিদিন আটকে রাখা যায় না। তাই পচন ঠেকাকে সব ব্যবসায়ী বাজারে ছেড়েছে তাদের জমানো পেঁয়াজ। তাই বর্তমানে সরবরাহ বেড়েছে। যে কারণে মূল্যও কমতে শুরু করেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারের পেঁয়াজের পাইকারি ব্যবসায়ী দুলাল খান বলেন, ‘গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিকেজি পেঁয়াজের মূল্য কমেছে ৫ টাকা।’ কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘কৃষক বলুন আর ব্যবসায়ী বলুন, সবাই তাদের জমানো পেঁয়াজ বাজারে ছেড়েছে, কারণ পচে যাচ্ছে। এ কারণে বাজারে সব ধরনের পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়ে গেছে। তাই মূল্যও কমেছে।’

কারওয়ানবাজারের আরেক ব্যবসায়ী সোলায়মান হোসেন জানান, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির পরিমাণ আগের তুলনায় বেড়েছে। তাই বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। এ কারণে মূল্যও কমেছে। তিনি আরও জানান, আগামীতে পেঁয়াজের মূল্য বাড়ার কোনও আশঙ্কা নেই। কোরবানিতেও মূল্য বাড়বে বলে মনে করেন না তিনি।
এদিকে কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা সর্বোচ্চ ২৩ লাখ মেট্রিক টন। এ বছর দেশে পেঁয়াজ উৎপাদনের পরিমাণ ২৬ লাখ মেট্রিক টন। আমদানি করা হয়েছে আরও ৭ লাখ ৪১ হাজার মেট্রিক টন। এতে চাহিদার বাড়তি থাকার কথা পেঁয়াজের। 

কিন্তু কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, অতিবৃষ্টিতে পেঁয়াজ পচে গেছে। সংরক্ষণের জন্য মাচায় যদি দুই মণ পেঁয়াজ রাখেন, তাহলে একমন ঘাটতি হবে। এভাবেই কমেছে পেঁয়াজের সরবরাহ। তাই মূল্য বেড়েছিল। অতিবৃষ্টি ও বন্যায় ভারতেও পেঁয়াজের ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে সেখান থেকে আমদানির পরিমাণ করেছে। আগে যেখানে ৯০ ট্রাক পেঁয়াজ আসতো, সেখানে এসেছে ৫০ থেকে ৬০ ট্রাক। তাই সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটায় মূল্য বেড়েছে। এখন কমতে শুরু করেছে।

এদিকে, বাজারে সব ধরনের সবজির মূল্য বেড়েছে, বেড়েছে মাছের মূল্যও। কারণ ব্যাখ্যা করে কোনাপাড়া বাজারের সবজিবিক্রেতা আলতাফ হোসেন বলেন, ‘বন্যায় সবজির ক্ষেত তলিয়ে গেছে। তাই আড়তে সবজির সরবরাহ কম।’ তিনি আরও বলেন, ‘মাছের ঘের ভেসে গেছে। জেলেরা মাছ ধরতে পারছেন না। নদী, হাওর ও বিল পানিতে থই থই করছে। কোথাও মাছ নেই। এ কারণে মাছের সরবরাহ খুবই কম। তাই মূল্যও আগের তুলনায় কিছুটা বেশি।’

মাছ ও সবজির মূল্য বেড়ে যাওয়ায় ডিম ও সব ধরনের মাংসের মূল্যও বেড়েছে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা। বেড়েছে গরুর মাংসের মূল্যও।

/এসআই/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ