দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ

Send
সঞ্চিতা সীতু
প্রকাশিত : ২০:৪৫, জুলাই ২৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৪৭, জুলাই ২৫, ২০১৯






হাটহাজারী বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বর্জ্য গিয়ে পড়ছে হালদায় (ছবি সংগৃহীত)হালদা নদী ও পানগাঁও-এর কন্টেইনার দূষণের অভিযোগ উঠেছে দুই বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরুদ্ধে। বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, পরিবেশ দূষণের বিষয়টি মাথায় রেখেই বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। প্রয়োজনে কেন্দ্র বন্ধ রেখে দূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এক্ষেত্রে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না।




সম্প্রতি হালদা নদী দূষণের কারণে একটি কেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছে চট্টগ্রামের পরিবেশ অধিদফতর। অন্যদিকে পানগাঁও ইনল্যাণ্ড কন্টেইনার টার্মিনালের কাছে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে দূষণ দূর করতে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়।
তরল জ্বালানি নির্ভর কেন্দ্র থেকে পরিবেশ দূষণ হওয়ার কথা না থাকলেও বাস্তবে ঠিকই দূষণ হচ্ছে। দূষণ বন্ধে কেন্দ্রগুলোর কিছু মানদণ্ড মেনে চলার কথা থাকলেও খরচ বাঁচাতে সেগুলো মেনে চলা হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেন, বেশ কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়ে পরিবেশ অধিদফতর থেকে অভিযোগ এসেছে। আমরা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখছি। পরিবেশের বিষয়ে কোনোরকম ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে পরিবেশ বাঁচাতে হবে।
বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কেন্দ্রগুলোর পরিবেশ দূষণ রোধে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, জ্বালানি সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম এবং পিডিবির চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ বৈঠক করেছেন।
বর্জ্য তেল নিঃসরণের মাধ্যমে প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী দূষণের অভিযোগে গত ১৭ জুলাই হাটহাজারী ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয় পরিবেশ অধিদফতর। পাশাপাশি ইটিপি নির্মাণ এবং অয়েল সেপারেটর কার্যকর না করা পর্যন্ত কেন্দ্রটি বন্ধ রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরিবেশ অধিদফতর জানায়, গত ৯ জুলাই হাটহাজারীর কেন্দ্রটি থেকে বর্জ্য ফেলে হালদা নদী দূষণের প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে শুনানিতে ডেকে সব প্রমাণের ভিত্তিতে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ২০১২ সালের মার্চে কেন্দ্রটি উদ্বোধনের পর পরই দুই দফা পরিবেশ দূষণের অভিযোগের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদফতর।
অন্যদিকে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, কেরাণীগঞ্জের পানগাঁও আইসিটির কাছে এপিআর এনার্জি নামের একটি কোম্পানি ৩০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করেছে। তারা এই কেন্দ্রটি স্থানান্তরের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে চিঠি দিয়েছে।
গত ৪ জুলাই পাঠানো চিঠিতে তারা জানায়, পানগাঁও ইনল্যাণ্ড কন্টেইনার টার্মিনালের (আইসিটি) কাছে এপিআর এনার্জির বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেনারেটরগুলো থেকে নির্গত ধোঁয়া, উচ্চ তাপমাত্রা এবং শব্দদূষণের কারণে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস এবং সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বন্দর ব্যবহারকারীদের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে অনেকেই শ্বাসকষ্ট ও ত্বকের নানান সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন।
এ অবস্থায় তারা ফার্নেস তেলে চালিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের জায়গা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়। এছাড়া জায়গাটি বুঝিয়ে দেওয়ার আগে পর্যন্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেনারেটরগুলো হতে নির্গত ধোঁয়া, উচ্চ তাপমাত্রা ও শব্দদূষণ বন্ধ করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ারও অনুরোধ করেছে তারা। প্রসঙ্গত, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে কেন্দ্রটি স্থাপনের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

/এসএনএস/এমপি/

লাইভ

টপ