ভূপৃষ্ঠের আরও গভীরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের সুপারিশ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:১২, জুলাই ২৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:০১, জুলাই ৩০, ২০১৯



বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়পেট্রোবাংলাকে আরও গভীরে তেল গ্যাস অনুসন্ধানের সুপারিশ করা হয়েছে। সোমবার (২৯ জুলাই) বিকেলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে বলা হয়, চীন মাটির ৯ হাজার মিটার নিচে খনিজ সম্পদ পেয়েছে। আমাদেরও আরও গভীরে অনুসন্ধান চালানো উচিত।
এখন দেশের ২৭ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) গ্যাসের মধ্যে ১৬ দশমিক ৯২ টিসিএফ উত্তোলন করা হয়েছে। অবশিষ্ট ১১ দশমিক ০২ টিসিএফ গ্যাস দ্রুত শেষ হতে চলেছে। এখন অনেক খনিতে গ্যাসের প্রেসার কমে যাওয়ায় কম্প্রেসার বসিয়ে গ্যাস তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন সম্পদ আহরণের চেষ্টা করছে সরকার। স্থলভাগে বাপেক্সকে দিয়ে আর সমুদ্রে বিদেশি কোম্পানিকে দিয়ে তেল গ্যাস অনুসন্ধানের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

পেট্রোবাংলা আশঙ্কা করছে, আগামী ১০-১৫ বছরের মধ্যে গ্যাসের মজুদ ফুরিয়ে গেলে ভয়ঙ্কর বিপদে পড়তে হবে। আমদানি করা জ্বালানির ব্যয় অত্যাধিক হওয়াতে অর্থনীতি চাপে পড়বে।

সূত্র জানায়, গবেষক আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ দেশের তেল গ্যাস অনুসন্ধান নিয়ে একটি উপস্থাপনা দেন। এতে বলা হয় চীন ভূপৃষ্ঠের ৯ হাজার মিটার নিচে অনুসন্ধান চালিয়ে খনিজসম্পদ পেয়েছে। সেখানে পেট্রোবাংলার নিয়ন্ত্রণাধীন কোম্পানিগুলো অনুসন্ধান চালিয়েছে সর্বোচ্চ সাড়ে চার হাজার মিটার নিচে। তিনি আরও গভীরে অনুসন্ধান চালানোর সুপারিশ করেন।

একসময় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ইনিস্টিটিউটে (বিপিআই) কাজ করা আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ ও আমেরিকার ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন।

বৈঠকে জ্বালানি সচিব আবু হেনা রহমাতুল মুনিম, পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান রুহুল আমীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আজিজ হাসান ছাড়াও পেট্রোবাংলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেন, ‘আমাদের প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিতে হবে। এখন বিশ্বে অনেক আধুনিক প্রযুক্তি আসছে। তা বিষয়ে বাস্তব জ্ঞান নিয়ে আমাদের তেল গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
পেট্রোবাংলা যে অনুসন্ধান কূপ খনন করে তার আগে ভূতাত্ত্বিক জরিপ করা হয়। এই জরিপ দুই ধরনের হয়ে থাকে দ্বিতীয় মাত্রার এবং তৃতীয় মাত্রার জরিপ। তবে মাটির এত গভীরে সম্পদ আছে কিনা, এখনও সে ধরনের কোনও জরিপও করা হয়নি।’

নসরুল হামিদ বলেন, ‘গত ১০ বছরে পেট্রোবাংলার তেল গ্যাস অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, শুধু ভোলায় বেশি মজুদের গ্যাস খনি পাওয়া গেছে। এর বাইরে নোয়াখালী, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সামান্য মজুদের খনি পাওয়া গেছে। এছাড়া বাকি সব জায়গাতেই কূপ খনন করে গ্যাস পায়নি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সালদা, নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জের সুনেত্র, পাবনার মোবারকপুর, গাজিপুরের কাপাসিয়ায় গ্যাস কূপ খনন করলেও গ্যাস মেলেনি।’

বৈঠকে পেট্রোবাংলার তরফ থেকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এতে ভবিষ্যতে কোথায় কোথায় কূপখনন করার প্রকল্প রয়েছে, তা জানানো হয়। এতে বলা হয়, ২০২৩ সালের মধ্যে সিলেট-৮, কৈলাশটিলা-৭, বিয়ানিবাজার-১, শ্রীকাইল-৪, ফেঞ্চুগঞ্জ-২ এবং ৪ নম্বর কূপ খনন করা হবে।

/এসএনএস/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ