দরপত্রের পাশাপাশি সাগরে চলবে খনিজ সম্পদের জরিপ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৬:০৩, আগস্ট ০৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:১৭, আগস্ট ০৮, ২০১৯

 সাগরে তেস-গ্যাস অনুসন্ধানে বিডিং রাউন্ডের দরপত্র আহ্বানের পাশাপাশি মাল্টি ক্লায়েন্ট সার্ভে খনিজ সম্পদের জরিপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মিয়ানমার এবং ভারত নিজেদের অংশে সুফল পাওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবসের সংবাদ সম্মেলনে বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বক্তব্য রাখেন।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের স্থলভাগের উচ্চচাপ এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান, কয়লা উত্তোলন, ভারত থেকে এলএনজি আমদানির বিষয়েও জানানো হয়। এছাড়া, যমুনার বালুতে মূল্যবান খনিজ প্রাপ্তি এবং তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানির কর্মকর্তাদের হিসাব বিবরণী নিয়েও কথা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সম্প্রতি মন্ত্রিসভা উৎপাদন-বণ্টন চুক্তি (পিএসসি) অনুমোদন করেছে। এতে সাগরের গ্যাসের দর প্রতি হাজার ঘনফুট সাড়ে ছয় ডলার থেকে বাড়িয়ে সাত দশমিক পঁচিশ ডলার করা হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে নতুন দরপত্র আহ্বান করবে পেট্রোবাংলা। একইসঙ্গে সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে স্লাম বার্জারকে দিয়ে যে জরিপ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে তাও চলবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরে সব চেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে কোথায় আমাদের কী সম্পদ রয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি। বড় অনুসন্ধানকারী কোম্পানি সরকারকে নানা সময় পরামর্শ দিলেও মাল্টি ক্লায়েন্ট সার্ভের কাজ অন্তত তিন বছরের বেশি সময় ঝুলিয়ে রেখেছিল জ্বালানি বিভাগ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পায়রাতে সাগরের গভীরতা কম হওয়ার কারণে স্থলভাগে টার্মিনাল নির্মাণ করা যাবে না।

এ সময় আরও জানানো হয়, ভারত থেকে এলএনজি আমদানির চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় দেশটির রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অয়েল ইন্ডিয়ার সঙ্গে সমঝোতা হয় পেট্রোবাংলার। এর আলোকে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে পাইপলাইন বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। ওই লাইন দিয়ে সরাসরি সুন্দরবন গ্যাস বিতরণ কোম্পানির গ্রিডে এই গ্যাস দেওয়া হবে। এতে করে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি সুরক্ষা নিশ্চিত হবে বলে মনে করছে সরকার।

দেশের স্থলভাগে তেল গ্যাস অসুন্ধানে উচ্চচাপ এলাকায় অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পিএসসির বাইরে শেভরনের কয়েকটি প্রস্তাব রয়েছে। দেশের সব থেকে বেশি গ্যাস উত্তোলনকারী মার্কিন কোম্পানির হাতে রয়েছে বিবিয়ানার মতো সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। এই খনিকে সব থেকে সম্ভাবনাময় খনি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, যমুনার বালিতে খনিজ সম্পদ পাওয়া গেলেও তা অর্থনৈতিকভাবে উপযোগী কিনা তা পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে। পরিবেশের কথা বিবেচনা করেই সরকার কয়লা তোলার সিদ্ধান্ত নেবে।

এসময় জ্বালানি সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম ও পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান রুহুল আমিন উপস্থিত ছিলেন।

শুক্রবার (৯ আগস্ট) জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস। দিবসটি উপলক্ষে জ্বালানি বিভাগ বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

 

/এসএনএস/টিটি/এপিএইচ/

লাইভ

টপ