সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার ঋণ পেয়েছে ৫০ হাজার কোটি টাকা

Send
গোলাম মওলা
প্রকাশিত : ১৮:৩০, আগস্ট ১০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৩২, আগস্ট ১০, ২০১৯

 

সঞ্চয়পত্র২০১৮-১৯ অর্থবছরে জাতীয় সঞ্চয়পত্র থেকে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল সরকার। তবে এ খাত থেকে ঋণ নিয়েছে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় দ্বিগুণ। বিদায়ী অর্থবছরে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নিয়েছে ৪৯ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা; যা সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা বেশি। বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।



কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার প্রবণতা যেমন বেড়েছে, তেমন গ্রাহকরাও ঝুঁকছেন সঞ্চয়পত্রের দিকেই। ব্যাংকের আমানত তুলে অনেকে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করছেন। যদিও সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সম্প্রতি টিআইএন ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বাধ্যতামূলক করাসহ কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। সুদ ও আসল পরিশোধের পর শুধু গত জুনে সঞ্চয়পত্র থেকে ৩ হাজার ২০৮ কোটি টাকার ঋণ পেয়েছে সরকার। সব মিলিয়ে সঞ্চয়পত্র খাতে সরকারের ঋণ গিয়ে ঠেকেছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৭০৬ কোটি টাকায়। এসব ঋণের বিপরীতে সুদ পরিশোধে বছরে বাজেটের একটা বড় অংশ ব্যয় করতে হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, সঞ্চয়পত্র থেকে নেওয়া ঋণের অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা থাকে। সেখান থেকে সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজে লাগায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২ বছরের বেশি সময় ধরে ব্যাংক আমানতের সুদহার নিম্নমুখী। এ ছাড়া ব্যাংক খাতের ওপর মানুষের আস্থাও কিছুটা কমেছে। ফলে সঞ্চিত অর্থ বিনিয়োগের জন্য সঞ্চয়পত্র কেনায় সাধারণ মানুষের আগ্রহ বেড়েছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান—বিআইডিএস-এর গবেষক ও অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এখনও মানুষ নিরাপদ বিনিয়োগ ভেবে সঞ্চয়পত্র কিনছে। আর সরকারও এখান থেকে সহজেই ঋণ পাচ্ছে। তবে এই ঋণের বিপরীতে সুদ পরিশোধে বছরে বাজেটের একটা বড় অংশ ব্যয় করতে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, এভাবে সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাড়তে থাকলে সরকারের ভবিষ্যৎ ঋণের বোঝা আরও বেড়ে যাবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার ঋণ নেয় ৪৬ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছর সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার পেয়েছিল ৫২ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা।
প্রসঙ্গত, ২০১৯-২০ অর্থবছরের পাস হওয়া বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। বিশাল এই ঘাটতি মেটাতে এবার জাতীয় সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৭ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া ব্যাংক খাত থেকেও সরকার ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা ঋণ নিতে চায়। বিদেশ থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে ৬৩ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা।
এদিকে, জাতীয় সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমাতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। সরকার ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্রের সুদের ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ করেছে। ১ লাখ টাকার বেশি মূল্যমানের সঞ্চয়পত্র কিনতে টিআইএন ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে শৃঙ্খলা আনতে একটি সেন্ট্রাল ডাটাবেজ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক, সঞ্চয় অধিদফতর, পোস্ট অফিস, বাণিজ্যিক ব্যাংকসহ সবাই এখন অভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করছে। ফলে কেউ নির্দিষ্ট সীমার চেয়ে বেশি সঞ্চয়পত্র কিনলে তা ধরা পড়ছে। তবে তাতেও কমছে না সঞ্চয়পত্রের বিক্রি। যদিও বিক্রির লাগাম টেনে ধরতে ২০১৫ সালের ১০ মে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদ হার গড়ে ২ শতাংশ কমানো হয়েছিল।
বর্তমানে জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের চালু করা ৪ ধরনের সঞ্চয়পত্র রয়েছে। এগুলো হলো ৫ বছর মেয়াদি পরিবার সঞ্চয়পত্র, ৫ বছর মেয়াদি পেনশনার সঞ্চয়পত্র, ৫ বছর মেয়াদি মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র এবং ৩ বছর মেয়াদি ও ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র। এগুলোর গড় সুদের হার ১১ শতাংশের বেশি।

/আইএ/এইচআই/এমএমজে/

লাইভ

টপ