এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে রিল্যায়েন্সের সঙ্গে চুক্তি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:১০, সেপ্টেম্বর ০১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:১২, সেপ্টেম্বর ০১, ২০১৯





এলএনজিভিত্তিক ৭১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ভারতের রিলায়েন্স পাওয়ারের সঙ্গে চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ চু্ক্তি সই হয়েছে। ঢাকার অদূরে মেঘনাঘাটে এ কেন্দ্র নির্মাণ করবে রিল্যায়েন্স।
সম্প্রতি দেশীয় ইউনিক গ্রুপের সঙ্গে প্রথম এলএনজিচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ চুক্তি করেছে পিডিবি। এটি এ ধরনের দ্বিতীয় বিদ্যুৎ প্রকল্প।
২০১৫ সালে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য সমঝোতা স্মারক সই করে রিল্যায়েন্স। তবে এরপর এটি নির্মাণে চুক্তি করতে সময় নিলো তারা ৪ বছর। বলা হচ্ছে চুক্তি সইয়ের ৩ বছরের মধ্যে কেন্দ্রটি উৎপাদনে আসবে।
এ চুক্তিতে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষে যুগ্ম সচিব ফয়জুল আমিন, পিডিবির সচিব সাইফুল ইসলাম আজাদ, পিজিসিবির পক্ষে কোম্পানি সচিব মোহম্মদ জাহাঙ্গীর আজাদ, তিতাসের পক্ষে কোম্পানি সচিব মাহমুদুর রব এবং রিলায়েন্সের পক্ষে পরিচালক সমির কুমার গুপ্ত সই করেন।
চুক্তি সই অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যানটি ২২ বছর মেয়াদি৷ এলএনজির দাম প্রতি এমএমবিটিইউ (ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট) ৭ দশমিক ২৬২৫ ডলার ধরে বিদ্যুতের দাম ধরা হয়েছে প্রতি ইউনিট ৭ দশমিক ৩১ সেন্ট বা ৫ টাকা ৮৫ পয়সা। পেট্রোবাংলার কাছ থেকে গ্যাস নিয়ে এ কেন্দ্র চালানো হবে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ফলে দেশের মানুষ বিদ্যুৎ পেয়েছে। এখন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এতে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, অনেকের প্রশ্ন ছিল বাংলাদেশ কেন বড় প্রকল্প করে না। এখন তারা দেখছেন, আমরা বড় প্রকল্প করছি। সম্প্রতি ৫০০ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিনিয়োগ চুক্তি করেছে সরকার।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাস বলেন, বাংলাদেশ সরকার সবার জন্য বিদ্যুৎ ২০২১ রূপকল্প ঘোষণা করেছে। ভারত এই লক্ষ্যপূরণে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে চায়। তিনি বলেন, বাংলাদেশে চমৎকার বিনিয়োগ পরিবেশ বিরাজ করছে। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ভারত-বাংলাদেশ সাফল্য দেখিয়েছে। রিলায়েন্সের প্রকল্পটি আরও একটি সফল উদাহরণ সৃষ্টি করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিদ্যুৎ প্রকল্পটির চুক্তি করতে ৪ বছর সময় লেগেছে। আমি বিশ্বাস করি বাস্তবায়ন পর্যায়ে রিলায়েন্স এত বেশি সময় ব্যয় করবে না। এক্ষেত্রে রিলায়েন্স প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের পূর্ণ সমর্থন পাবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, জ্বালানি সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, পিডিবি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালিদ মাহমুদ, রিল্যায়েন্স গ্রুপের সমির কুমার গুপ্ত বক্তব্য রাখেন।

/এসএনএস/এইচআই/

লাইভ

টপ