কানাডায় বাণিজ্য-বিনিয়োগ বৃদ্ধির আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৭:০০, সেপ্টেম্বর ০৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:০৫, সেপ্টেম্বর ০৪, ২০১৯

 



বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, কানাডা-বাংলাদেশ বাণিজ্য ফোরাম উভয় দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে সক্ষম হবে। ব্যবসায়ীদের এই ফোরাম দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে।
মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) কানাডার টরন্টোতে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-কানাডা বাণিজ্য ফোরাম-২০১৯’-এর সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল এবং অন্টারিও চেম্বার অব কমার্স (ওসিসি) যৌথভাবে এর আয়োজন করে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা আবদুল লতিফ বকসীর সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
টিপু মুনশি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১০০টি স্পেশাল ইকনোমিক জোন গড়ে তুলছে সরকার। কানাডার বিনিয়োগকারীরা এখানে বিনিয়োগ করলে লাভবান হবেন। বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন ১০ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে কানাডার এখন মোট বাণিজ্য ১ হাজার ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ রফতানি করে ১ হাজার ৩৩৯ দশমিক ৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য এবং আমদানি করে ৫৮৯ দশমিক ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। কানাডা বাংলাদেশকে ২০০৩ সালে থেকে পোলট্রি, ডেইরি, ডিম, অস্ত্র ও গোলাবারুদ ছাড়া সব পণ্যে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা দিচ্ছে। বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরও কানাডা শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা অব্যাহত রাখবে বলে ঢাকা আশা করে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাণিজ্য ফোরামে প্রথম প্যানেলের আলোচ্য বিষয় ছিল ‘কীভাবে কানাডা বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ করতে পারে’। এর ওপর বাংলাদেশ সফটওয়্যার এবং তথ্য সেবা সংগঠন (বেসিস)-এর সভাপতি সৈয়দ সাদাত আলমাস কবির আলোচনা করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির উপস্থিতিতে এসময় এফবিসিসিআই এবং ওসিসি’র মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এফবিসিসিআই’র সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম এবং ওসিসি’র সভাপতি রকো রসি নিজ নিজ চেম্বারের পক্ষে এতে সই করেন।
ফোরামের অতিথি অন্টারিও প্রদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও বাণিজ্যমন্ত্রী ভিক্টর ফেডালি দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, এ সমঝোতা স্মারক সইয়ের মাধ্যমে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা উদার অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
উল্লেখ্য, বৈশ্বিক সরবরাহ সংযোগ, উচ্চ মূল্যের পোশাক সামগ্রী, হাল্কা প্রযুক্তি পণ্য, ওষুধ সামগ্রী, ডিজিটাল সেবা, পাটপণ্যের শিল্পভিত্তিক ব্যবহার, সামুদ্রিক মৎস্য, হিমায়িত খাদ্য, পরিবহন ও যোগাযোগ, উচ্চশিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ইত্যাদি খাতে উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার মিজানুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, টরন্টোতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল নাঈম উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব তপন কান্তি ঘোষ, বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ খোরশের ওয়াহাব, অন্টারিও চেম্বারের সহ-সভাপতি লুই ডিপামাসহ বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ফোরামের বৈঠকে অংশ নেন।

/এসআই/এইচআই/

লাইভ

টপ