বাংলাদেশ ‘উচ্চ আয়বৈষম্যের দেশে’ পরিণত হচ্ছে: অধ্যাপক মইনুল

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:১৯, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:২৩, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১৯





অধ্যাপক মইনুল ইসলামবাংলাদেশ ‘উচ্চ আয়বৈষম্যের দেশে’ পরিণত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মইনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘৮ দশমিক ১৩ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে বাহাদুরি করার কিছু নেই। কারণ, এই প্রবৃদ্ধির হারের পরও দেশে বৈষম্য বাড়ছে।’
শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির আয়োজনে ‘বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান আয়বৈষম্য: সমাধান কোন পথে’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন এতে প্রধান অতিথি ছিলেন। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি সমিতির সভাপতি ড. আবুল বারকাত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
অধ্যাপক মইনুল ইসলাম বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ অর্জিত হয়েছে বলে সরকারিভাবে প্রাক্কলিত হয়েছে। এ বিবেচনায় বিশ্বের অন্যতম গতিশীল অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু দেশে আয়বৈষম্য বাড়ছে ব্যাপক হারে। আয়বৈষম্য বাড়তে থাকার এ প্রবণতাকে দেশের আসন্ন মহাবিপদ-সংকেত বললে অত্যুক্তি হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘দেশে কোটিপতিদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এর পেছনে ন্যক্কারজনক পন্থা হলো দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হওয়া। এমন কোনও সরকারি সংস্থার নাম করা যাবে না, যেটা খানিকটা দুর্নীতিমুক্ত।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, মাতৃমৃত্যুর হার ছাড়া মানব উন্নয়নের অন্যান্য সূচকে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে ভালো অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু দেশে আয়বৈষম্য বেড়ে চলেছে। কেবল মাথাপিছু আয় দিয়ে উন্নয়নকে বিচার করলে চলবে না। যে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে, তার ভাগ যেন সমাজের প্রান্তিক মানুষ পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ড. আবুল বারকাত সম্পদবণ্টনের ন্যায্যতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, রাষ্ট্রকে কেবল প্রবৃদ্ধির পূজা করলে হবে না। সেই প্রবৃদ্ধি দিয়ে আসলে মানব উন্নয়ন হচ্ছে কিনা, সেটা দেখতে হবে। ধরুন, ২ অঙ্কের প্রবৃদ্ধি হলো। কিন্তু সেটা যদি সমাজের নিচু তলায় না যায়, তাহলে এই প্রবৃদ্ধি দিয়ে কোনও লাভ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. কে এ এস মুর্শিদ সমাজে আয় ও সম্পদবৈষম্য নিরসনে জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ন্যায়ভিত্তিক ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শফিক উজ জামান, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. কে এ এস মুর্শিদ, অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামালউদ্দিন আহমেদ ও সহসভাপতি এ জেড এম সালেহ আলোচনায় অংশ নেন।

/জিএম/এইচআই/

লাইভ

টপ