পেঁয়াজের বাজারে আগুন: দুই দিনে কেজিতে বেড়েছে ২৫ টাকা

Send
শফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত : ২০:০০, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৫১, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯

পেঁয়াজ

দেশে পেঁয়াজের বাজারে আগুন লেগেছে। মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজের মূল্য বেড়েছে ২৫ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত রফতানিমূল্য তিনগুণ বাড়ানোয় দেশের বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। ২৫০ থেকে ৩০০ মার্কিন ডলারে বিক্রি হওয়া প্রতিটন পেঁয়াজের মূল্য ৮৫২ ডলার নির্ধারণ করে দিয়েছে ভারতের কাঁচা পণ্য নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ন্যাপিড। তবে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ৮৫২ মার্কিন ডলার টন দরে কোনও পেঁয়াজ দেশে আমদানি হয়নি। অথচ কেজিতে ২৫ টাকা বাড়তি গুনতে হচ্ছে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে।

এদিকে, তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর চেয়ারম্যানকে ডেকে খোলা বাজারে ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রির নির্দেশ দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্‌শি। সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই খোলা বাজারে ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রির নির্দেশ দেন বাণিজ্য। কিন্তু সোমবার ন্যায্যমূল্যে বিক্রির জন্য পেঁয়াজ নিয়ে মাঠে নামেনি টিসিবি।

জানা গেছে, টিসিবির কাছে এই মুহূর্তে কোনও পেঁয়াজ নেই। মাঠে নামতে হলে আগে টিসিবিকে পেঁয়াজ কিনতে হবে। এরপর বিক্রি। কবে, কোথা থেকে কীভাবে পেঁয়াজ কিনে তা বিক্রির জন্য মাঠে নামবে, তার কোনও রূপরেখাও এই মুহূর্তে টিসিবির কাছে নেই।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান জাহাঙ্গীরের পক্ষে তার একান্ত সচিব ও টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবির বলেন, ‘নির্দেশ থাকলেও সোমবার থেকে বিক্রির কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি টিসিবি। আশা করছি আগামীকাল (১৭ সেপ্টেম্বর) থেকে খোলাবাজারে ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রির কার্যক্রম শুরু করা যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপাতত রাজধানীতে কমপক্ষে ৫টি পয়েন্টে এ কার্যক্রম শুরু হবে।’
হুমায়ুন কবির আরও বলেন, ‘কত টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি করবে টিসিবি, তা এখনও ঠিক করা হয়নি। অবশ্যই কাল সকালের আগেই তা নির্ধারণ করা হবে।’

এদিকে, ভারতের পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির সংবাদকে পুঁজি করে ব্যবসায়ীরা দেশীয় পেঁয়াজের মূল্য বাড়িয়ে দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মূল্য বাড়িয়েছে ভারত তাদের উৎপাদিত পেঁয়াজের। কিন্তু দেশি পেঁয়াজের মূল্য বাড়ার কোনও যুক্তি নেই। এছাড়া, বাড়তি মূল্যে পেঁয়াজ কেনাবেচা তো শুরুই হয়নি। এলসি খেলার পরেও তো পেঁয়াজ দেশে আসতে সময় লাগে। কিন্তু এর আগেই অসাধু ব্যবসায়ীরা মূল্য বাড়িয়ে পেঁয়াজের বাজারকে অস্থির করে তুলেছেন।’

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এর কারণ জানতেই মন্ত্রণালয়ে আগামীকাল বিকেলে ব্যবসায়ীদের বৈঠকে ডেকেছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজ থেকে টিসিবি পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করতে পারেনি। কাল রাজধানীর ৫টি স্পটে টিসিবি বিক্রি শুরু করবে। স্পটগুলো হচ্ছে—জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে, দিলকুশার বক চত্বর, খামারবাড়ি, মোহম্মদপুর ও মিরপুর।’ তিনি বলেন, ‘পেঁয়াজ আমদানির বিকল্প বাজার খোঁজা হচ্ছে। তবে, মিয়ানমার ও তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আমদানির সম্ভাব্যতা দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দ্রুত পেঁয়াজ আমদানির জন্য যা করার দরকার, তা করা হয়েছে। ’

এদিকে, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের বাজারগুলোয় পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা। একদিন আগে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ রবিবার বিক্রি হয়েছে ৭৫ টাকায়। কারওয়ান বাজারে খুচরা বাজারে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কেজি দরে। আর আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা কেজি দরে।

এ বিষয়ে কাওরান বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী কবির হোসেন বলেন, ‘আমরা পাইকারি বাজার থেকে যে দরে কিনি, তার চেয়ে কেজিতে ৫/৭ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করি। কারণ, বস্তা খুলে বাছাই করার পর কিছু নষ্ট পেঁয়াজ বাদ দিতে হয়। সেই ঘাটতি মিটিয়ে মুনাফা করা অনেক কঠিন।’

বাণিজ্যমন্ত্রীর দফতরের একটি সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দিনভর বাণিজ্যমন্ত্রী পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাসহ গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বর্তমানে বাজারে যেসব পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে, সেগুলো অন্তত তিন মাস আগে আমদানি করা। কারণ, আমদানির জন্য এলসি খোলার ১৪ থেকে ২১ দিন পর ওই এলসি নিষ্পত্তি হয়। এলসি নিষ্পত্তির পর পণ্য আসতে সময় লাগে আরও কয়েক দিন। ফলে ভারত মূল্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর করলেও বাংলাদেশের বাজারে এখনই এর প্রভাব পড়ার কথা নয়।

এদিকে, চট্টগ্রামের বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে, যা চট্টগ্রামের বাজারে বিক্রি হচ্ছে। ফলে সেখানের বাজারে পেঁয়াজের মূল্য গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে কমেছে। কিন্তু ঢাকার খুচরা বাজারে দাম বাড়ছে। ব্যবসায়ীদের কাছে থাকা পুরনো পেঁয়াজই বাড়তি মূল্যে বিক্রি করে বাজার অস্থির করে তোলা হচ্ছে বলে মনে করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

ভারত পেঁয়াজের মূল্য বাড়ানোর কারণে দেশের ব্যবসায়ীরা মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করেছেন। টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে এই পেঁয়াজ আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে। পেঁয়াজের ব্যবসায়ীরা মিসর, পাকিস্তান ও চীন থেকে আমদানির খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। মিয়ানমারে পেঁয়াজ এখনও ৩৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ মার্কিন ডলারে টনপ্রতি বিক্রি হচ্ছে বলেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

/এমএনএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ