বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরিতে পিডিবির অংশীদার হতে চায় সামিট

Send
সঞ্চিতা সীতু
প্রকাশিত : ২০:৪৯, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:০৩, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৯

পিডিবি-সামিটবিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)-এর ৩৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রে মূলধনী বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে সামিট পাওয়ার। গত ১৮ সেপ্টম্বর  সামিট এক চিঠিতে পিডিবির কাছে এই গ্রহের কথা জানিয়েছে। পিডিবি বলছে, দেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে সামিটের বিনিয়োগ সক্ষমতা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে হবে মন্ত্রণালয় থেকে।

সামিটের পরিচালক ফয়সাল খানের দেওয়া চিঠিতে তাদের অংশীদার জিই ও জাপানের জিরার সঙ্গে আলোচনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সামিট মার্কিন কোম্পানির জিই-এর সঙ্গে যৌথ অংশীদারিত্বে দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে।

এদিকে, জিরা’র সঙ্গে সামিট যৌথভাবে কাজ করার জন্য একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে।

জানতে চাইলে পিডিবির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পিডিবি ও জিই মহেশখালীতে ৩৬০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য এমওইউ সই করছে। কেন্দ্র চলবে এলএনজিতে। আর এখানে পিডিবির অংশীদারিত্ব থাকবে ৫০ ভাগ। অন্য কোনও কোম্পানি এখানে অংশীদার হতে চাইলে জিই তাদের শেয়ার ছেড়ে দেবে। তবে, এ বিষয়ে এককভাবে পিডিবি কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করে।

বিদ্যুৎ বিভাগের নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে, যেকোনও যৌথ অংশীদারিত্বে বাংলাদেশের কোনও সংস্থা বা সরকারি কোম্পানির অন্তত ৫০ ভাগ মালিকানা থাকতে হবে। অন্যদিকে, বিদেশি কোম্পানি প্রয়োজনে তাদের অংশীদারিত্ব বণ্টন করবে।

চিঠিতে সামিট জানায়, বিদ্যুতের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার যেসব উদ্যোগ নিয়েছে তার সঙ্গে সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে সামিট। ১৯৯৮ সালে তারা প্রথম বড় বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে। এরপর অনেকগুলো বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ করার সুযোগ পাওয়ায় বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে তাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। বর্তমানে সামিট ১ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।

সামিট বলছে, তাদের বেশ কিছু প্রকল্প এখন চলমান আছে। সামিট বর্তমানে প্রথম দেশের বেসরকারি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করেছে। এসব কাজের পাশাপাশি তারা বিদ্যুৎখাতে আরও কিছু কাজ করতে চায়। বিদ্যুৎখাতের উন্নয়নে রাখতে চায় অবদান। এ কারণে পিডিবি ও জিই্-এর অধীনে বাস্তবায়নাধীন ৩ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট কেন্দ্রটি স্থাপনের কাজও সামিট করতে চায়। তারা চিঠিতে জানায়,  সব শর্ত ও নিয়ম মেনে বিশ্বের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি দেবে সামিটি।

এদিকে,  এক চিঠিতে সামিটের এই আগ্রহকে স্বাগত জানায় জিই। তারা জানায়, সামিট যে প্রস্তাব দিয়েছে, তাতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, কম দরে ও সাশ্রয়ী প্রযুক্তির সমন্বয়ে এই প্রকল্প হতে পারে।

প্রসঙ্গত গত বছর ১৮ জুলাই জিই একই দিনে ছয় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে এমওইউ সই করে। এরমধ্যে তিন হাজার ৬০০ মেগাওয়াট কেন্দ্র নির্মাণের জন্য পিডিবি এবং ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য সামিটের সঙ্গে এমওইউ সই হয়। তবে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার এক বছর দুই মাস পার হলেও এখনও যৌথ মূলধনী কোম্পানি গঠনের খবর দেয়নি পিডিবি।

 

/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ