পৌরকর না পেয়ে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর কাছে সিটি মেয়রের অভিযোগ

Send
সঞ্চিতা সীতু
প্রকাশিত : ২০:৫৯, অক্টোবর ০৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:০৩, অক্টোবর ০৫, ২০১৯

সিটিসিপৌরকর বাবদ বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে ২ কোটি ৩৮ লাখ ২২ হাজার ৮৪৮ টাকা পাওনা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি ও  বিদ্যুৎ বিভাগ এই পৌরকর পরিশোধ না করায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন চিঠি দিয়ে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদকে বিষয়টি জানিয়েছে। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বারবার চেয়েও জ্বালানি ও বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পৌরকর পরিশোধ করছে না। প্রতিষ্ঠানগুলো দেনা পরিশোধ না করে ঘোরাচ্ছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন চট্টগ্রামের সিটি মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন।
জানা গেছে, পৌরকর বাবদ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কাছে দুই কোটি পঁয়তাল্লিশ লাখ তেত্রিশ হাজার তিনশত একাত্তর টাকা পায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। এই বকেয়া পরিশোধের জন্য বাজেটে বরাদ্দ দিতেও প্রতিমন্ত্রীকে অনুরোধ জানানো হয়।
জানতে চাইলে বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, ‘এত টাকা বকেয়া জমেছিল, এটা আমরা জানতাম না। তবে সিটি করপোরেশনের চিঠি পাওয়ার পর ব্ষিয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। আমরা যদি অন্যকে বিল আদায়ে চাপ দেই, তারাও তো তাদের পাওনা আমাদের কাছে চাইবেই।’
সম্প্রতি সিটি করপোরেশন থেকে পাঠানো এক চিঠিতে বকেয়াসহ হাল পৌরকর পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুকূলে বাজেট বরাদ্দের অনুরোধ জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, সিটি করপোরেশন গুলোর আয়ের মূল উৎস পৌরকর। এই আয় থেকে কর্মকর্তা–কর্মচারীর বেতন, নগরীর আবর্জনা অপসারণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ, সড়ক আলোকায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, খালখনন ও নালা-নর্দমা সংস্কারের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনসহ অনেক কাজ করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, পৌরকর বাবদ বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে মোট পাওনা ২ কোটি ৩৮ লাখ ২২ হাজার ৮৪৮ টাকা। এরমধ্যে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১ কোটি ৩৩ লাখ ৯২ হাজার ৫৯২ টাকা। চলতি অর্থবছরে (২০১৯-২০) অর্থবছরের পাওনা ১ কোটি ৪ লাখ ৩০ হাজার ২৫৬ টাকা।

অন্যদিকে, জ্বালানি বিভাগের কাছে মোট বকেয়া আছে ২ কোটি ৪৫ লাখ ৩৩ হাজার ৩৭১ টাকা। এরমধ্যে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বকেয়ার পরিমাণ ১ কোটি ৮৮ লাখ ৪৮ হাজার ৪৪ টাকা এবং চলতি অর্থবছরের পাওনা ৫৬ লাখ ৮৫ হাজার ৩২৭ টাকা।

সিটি করপোরেশন জানায়, এই বকেয়া আদায়ে এরইমধ্যে তারা বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানসহ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে ত্রিপক্ষীয় সভা করা হয়েছে। সভায় সিটি করপোরেশনের ধার্য করা কর যথাসময়ে পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠান প্রধানের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ এবং যথারীতি দাবি বিল জারি অব্যাহত রাখা হয়। এ অবস্থায় সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানগুলো জানায়, নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না পেলে এই বকেয়া পরিশোধ করা সম্ভব নয়।

এই অবস্থায় পৌরকর বাবদ বকেয়া পরিশোধে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার জন্য বাজেট বরাদ্দের অনুরোধ জানিয়ে প্রতিমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।

চট্টগ্রামে বেশ কয়েকটি সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি সেখানে জ্বালানি তেলের সব থেকে বড় অবকাঠামো রয়েছে। এছাড়া, ওই এলাকায় গ্যাস সরবরাহ করার দায়িত্বে রয়েছে কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানি। ফলে, সিটি করপোরেশনের কর একটু বেশি হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। 

/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ